ভোট দেব, উন্নয়ন বুঝে নেব

দেশে যখন নির্বাচন আসে, তখন জনগণের চাওয়া-পাওয়া বৃদ্ধি পায়। জনগণ খুঁজতে থাকে, কোন প্রার্থী তাদের চাওয়ার যথোপযুক্ত মূল্যায়ন করবে। এলাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করবে। জনগণের তখন প্রথম ও প্রধান প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়ায়, ‘ভোট দেব, উন্নয়ন বুঝে নেব।’ সহজ কথায় বলা যায়, ‘ভোটের বিনিময়ে উন্নয়ন!’ আমিও তাই মনে করি। উন্নয়নের আশ্বাস না থাকলে জনগণ ভোটকেন্দ্রেই যেত না। ভোট দিতে অসুস্থ রোগীরা ছুটে যায়, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা ছুটে যায়, শহর থেকে চাকরিজীবী গ্রামে ছুটে যায়। তাদের উদ্দেশ্য শুধু কি পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করা? না। আসল উদ্দেশ্য হলো, পছন্দের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করিয়ে এলাকার উন্নয়নগতিকে ত্বরান্বিত করা। তাই এ কথা স্বীকার্য যে, ‘নির্বাচন’ শব্দটির সঙ্গে ‘উন্নয়ন’ শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

একজন প্রতিনিধির নিকট জনগণের প্রত্যাশা অনেক। কেউ যদি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না-ও পারে, তবুও সে প্রত্যাশা করতে পারে। এবং সেগুলোর মূল্যায়ন করা নির্বাচিত প্রার্থীর বড় দায়িত্ব। এ দায়িত্বে অবহেলা করা মানেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা। আর জনগণের সঙ্গে প্রতারিত দল কিংবা ব্যক্তি রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। তাদেরকে ছিটকে পড়তে হয়। যেখানে জনগণের ভোট ক্ষমতা অর্জনের পাথেয়, সেখানে প্রতারণা অপরাধের শামিল। জনগণের ভোটই যেখানে নেতার আসনে বসার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, সেখানে জনগণকে ফাঁকি দেওয়া মানে নিজের মসৃণ পথ কেটে খাল বানানো।

বর্তমানে দেশের জনগণ অনেক সচেতন এবং সবাই দাবি আদায়ের ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক সোচ্চার। দেশে নানা রাজনৈতিক দল ও মত বিদ্যমান। যে প্রতিনিধি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং উন্নয়ন গতিকে ত্বরান্বিত করে, জনগণ তার দিকে ধাবিত হয়। তিনি যে দলেরই লোক হোক না কেন ।

বাংলাদেশে অসংখ্য রাজনৈতিক দল রয়েছে। সাধারণ জনগণ তার ইচ্ছা মতো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতে পারে। নির্বাচনে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে দল পরিবর্তনকারী নেতা-কর্মীরা অনেক সময় ভরসাহীনতার জন্ম দেয়। কেননা, দলত্যাগী লোকগুলো সর্বদা স্বার্থবাদী বলে বিবেচ্য। এদেরকে ‘হাইব্রিড’ বলা হয়। আজ তার স্বার্থের জন্য দল পরিবর্তন করেছে, কাল যে আরেক স্বার্থের জন্য দল পরিবর্তন করবে না তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে?

একবার দল তাকে মনোনয়ন দেয় নাই, তাই বলে দল পরিবর্তন? ধৈর্য্য নিয়েও রাজনীতিতে আসা দরকার। আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারি, জনপ্রতিনিধিদের দল ত্যাগ করা কতটা ভয়াবহ! নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের কার্যক্রম বেশ চোখে পড়ে। এ ব্যাপারে আমাদের সকলের সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরি।

আজকাল অনেক মানুষ আছে, যারা কি না দল বলতে অন্ধ। কোনো বিচার বিবেচনা না করেই দল নিয়ে লাফালাফি করে থাকে। সমর্থিত দল যদি উন্নয়ন না-ও করে, তারা উন্নয়নের গুণগান বাজিয়ে বেড়ায়। ব্যক্তিগতভাবে তাদের পকেট উন্নত বলেই এত লাফালাফির সুযোগ পায় বৈকি। কিন্তু এতে কি লাভ হয়? বরং ক্ষতি হয়। আদর্শবাদী নেতারা চাটুকারিতায় বিশ্বাসী নয়। প্রশ্ন হলো, আদর্শবাদী নেতা আমরা পাব কোথায়? সবাই তো এখন টাকা ছিটিয়ে ভোট কিনে ক্ষমতায় আসে। দেশে বর্তমানে চাটুকারপন্থি নেতাদের সমাগম বেশি। তারা দলকে ভারী করতে সকল চাটুকারিতাকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে। এবং এই সব কারণে প্রকৃত নেতা-কর্মীরা দলে মূল্যায়িত হচ্ছে না। আর নির্বাচন আসলেই চলছে দল পরিবর্তনের জোয়ার। যারা দল পরিবর্তন করছে, তাদের প্রতি আহ্বান—আপনারা ত্যাগী নেতা হতে শিখুন। জনগণই আপনাদেরকে মূল্যায়ন করবে।

আমরা অনেকেই মুখে যতই বলি, আমরা রাজনৈতিক দলের বাইরে। আসলে তা শতভাগ সত্য নয়। কেননা, আমরা তো কোনো না কোনো দলের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে থাকি। তবে ভোট দিলেও আবার দলের লোক হিসাবে বিবেচনা করা সম্ভব নয়। প্রার্থীকে তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে জনগণের ভোট আদায়ে সক্ষম হতে হবে। এবং এই কাজগুলো করতে পারলে দল-মত নির্বিশেষে তাকে ভোট দিয়ে জনগণ জয়যুক্ত করবে, নিশ্চিত। তাই নির্বাচনে পদপ্রার্থীদের প্রতি আমার আহ্বান, যে-কোনো নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র নেওয়ার আগে জনগণের নিকট হতে গ্রহণযোগ্যতার মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করুন। জনগণই বলে দিবে, আপনি যোগ্য প্রার্থী কি না, যোগ্য নেতা কি না। দেখবেন, আপনার বিজয়ের সম্ভাবনা শতভাগ সুনিশ্চিত। যখন আপনি জনগণকে উন্নয়নের সু-পথ দেখাবেন, তখন জনগণ আপনাকেই ভোট দিতে উঠে-পড়ে লাগবে। টাকা দিয়ে ভোট কিনতে হবে না। অতঃপর বলতে চাই, নির্বাচনে সকলপ্রার্থী উন্নয়নমুখী হোক। তাহলে জনগণ দলবিমুখ হয়ে তাকে নির্বাচিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।

n লেখক:শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি), ঢাকা