ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুত কক্সবাজার

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। আগামী ৩ মে (শুক্রবার) বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে এমন ধারণায় ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ইতিমধ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫৩৮টি সাইক্লোন শেল্টার। মজুদ রাখা হয়েছে চারশ মেট্রিক টন জিআর চাউল, সাড়ে চার হাজার প্যাকেট জাত শুকনো খাবার। সঙ্গে প্রস্তুত আছে ৮৯টি মেডিকেল টিম।  
        
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এ তথ্য জানানো হয়।         

সভায় জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত)  মো. আশরাফুল আফসার জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা সমূহে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পাশাপাশি উপজেলা ও উপকূলীয় অঞ্চল গুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, প্রায় ১২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটি। দুর্যোগ ব্যবস্থা কমিটি গুলোকে সতর্ক রাখা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ঘর করে দিতে ১১৪ বান্ডিল ঢেউটিন, দুই লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করা হবে।  

জেলা সদরসহ উপজেলা ও উপকূলের সাইক্লোন শেল্টার গুলো প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। জেলা শহরে স্কুল সমূহ শেল্টার হিসেবে ব্যবহারে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে উপকূলে মাইকিংসহ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে। 

দুর্যোগ কবলিত মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে আনতে ১০০ যানবাহন রিকুইজিশন করছে জেলা প্রশাসন।     

এছাড়াও জেলার উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও সদরে ৬টি ফায়ার ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এতে ৩৬ দমকলকর্মী কাজ করবেন। তাদের সঙ্গে আরও সংযুক্ত করা রয়েছে ২০০ কর্মী।  

ডিসি জানান, উপকূলের পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্ষয়ক্ষতি রোধে একইভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাদের ঘর ক্ষতি হলে তা দ্রুত মেরামতের প্রস্তুতি নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

এ বিষয়ে কক্সবাজার ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গে আলাদাভাবে জরুরী সভা করা হয়েছে। 

দুর্যোগ সংক্রান্ত সকল যোগাযোগের জন্য জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। ০৩৪১-৬৪৭৫০ ও ০১৮৮১৬৯৪৮১১ নাম্বারে দুর্যোগ সংক্রান্ত যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছেন জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ড. রইস উদ্দিন। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবিদুল ইসলাম, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সভাপতি নুরুল আবছার, সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের মেজর তানজিলসহ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।          
                      
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে সমুদ্রে সংকেত বাড়লেও পুরো কক্সবাজার জেলায় বৈশাখের দাবদাহ চলমান রয়েছে। তবে, সমুদ্রে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বেড়েছে বলে জানিয়েছেন উপকূলীয় লোকজন। 

আরও পড়ুন: রমজানে হাইকোর্টে কোর্ট অফিস সময়সূচি নির্ধারণ

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ২৫ কিলোমিটার ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ৬৫ কিলোমিটার, মংলা বন্দর থেকে ৯১৫ কিলোমিটার এবং পায়রা বন্দর থেকে ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে ৩ মে সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।

ইত্তেফাক/অনি