ইটিং আউট

খাবারের টানে দূরে...

আমাদের দেশে চলতি পথের রেস্টুরেন্টগুলো নিয়ে অভিযোগ আছে অনেকেরই। ভোজনরসিকদের কাছে তো দূরের কথা, এমনকি চলতি পথের ক্লান্ত যাত্রীর কাছেও এসব জায়গা ঠাঁই পায় না। কোনো উপায়ান্তর না থাকলেই এসব জায়গাতে মানুষ যায়। অথচ, পথের ধারের এসব খাবার জায়গাতে মানুষ চায় একটু গোছানো আপ্যায়ন আর তার সাথে মুখরোচক খাবার। এ সপ্তাহে কড়চা পাঠকদের জন্য আমরা হাজির করছি এমনই একটা খাবার জায়গার খোঁজ, যেখানে গেলে শুধু ক্লান্তি দূর হবে না বরং মুখরোচক খাবারগুলো খেতে খেতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন। ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার ‘হলিডে ইন’ রেস্টুরেন্টটি নিয়েই আমাদের এবারের ইটিং আউট। লেখা ও ছবি এমএইচ মিশু খাবারের জায়গাতে গেলে সবাই খাই খাই করবে এটাই স্বাভাবিক। আর তাই রেস্টুরেন্টের মেন্যুতে চোখ বুলিয়ে তবেই বাদবাকি অংশ আসে। এমন মানসিকতা নিয়েই রেস্টুরেন্টের গাড়ি বারান্দায় এসে থামলাম আমরা। গাড়ি ছেড়ে নামতেই অতিথিদের স্বাগত জানালেন রেস্টুরেন্টের মালিক স্বয়ং মোহম্মদ জামালউদ্দিন। একটা চওড়া হাসির দরাজ অভ্যর্থনা আমাদেরকে রেস্টুরেন্টের আতিথেয়তার কথা জানিয়ে দিল। এরপর আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। সামনে যতটুকু দেখা যাচ্ছিল, তার পুরোটাই কোণঠাসা উত্কণ্ঠায় ঠাসা। একটা বিশাল লাল ইটের একচালা বাড়ি। ছাদে বড় লাল রঙের শেড করা ছাউনি। প্রবেশ পথকে আগলে রেখেছে দু’পাশের ছিমছাম গোছানো বাগান আর সাজানো বসার আসন বিন্যাস। এই অংশটা সেই সব অতিথির জন্য, যারা রেস্টুরেন্টের বাইরে বসে খাবার উপভোগ করতে চান কিংবা সময় কাটাতে চান। কাঠ-কাচের প্রবেশদ্বার ঠেলে ভেতরে ঠুকতেই আরেকটা ধাক্কা। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে ক্যানবেরা থেকে সিডনি যাওয়ার পথে মিট্টাগংয়ের কাছে কোন কান্ট্রি রিসোর্টের ডাইনিং হলে প্রবেশ করেছেন আপনি। কেরোসিন কাঠ, প্লাস্টার ছাড়া দেয়াল আর মোটা বেতের আসবাব, সব মিলিয়ে মন খুশি করে দেওয়ার মতো এক অবস্থা। উঁচু ছাদ, বিশাল স্বচ্ছ কাচের জানালা আর বড় হলরুমজুড়ে বসার আয়োজন প্রথম দেখাতেই প্রশান্তি এনে দেয়। রান্নাঘরসহ প্রায় ১৮০০ বর্গফুট জায়গাতে এই হলিডে ইন রেস্টুরেন্টটি। এখানে খাবার খেতে আসে আশুলিয়া পথে ধরে যাওয়া-আসা করা যাত্রীরা। তবে অল্পদিনেই এই রেস্টুরেন্টটি ভোজনরসিকদের কাছে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, ছুটির দিনে অনেকেই এখানে এসে হাজির হয়ে যান খাবার উপভোগ করতে আর একটু বিশ্রাম নিতে। পুরো পরিবার নিয়ে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য ঢাকার উপকণ্ঠে এই হলিডে ইন হতে পারে দৃষ্টান্তমূলক আয়োজন। কম খরচে এমন নান্দনিক ইন্টেরিয়র করেছেন মালিক জামালউদ্দিন আহমেদ নিজেই। আর খাবারের মেন্যুগুলোও তিনি নিজেই সাজিয়েছেন। খাবারের মেন্যুতে এখানে মিলবে তিন ধরনের খাবার। ইতালিয়ান, চাইনিজ আর কাবাব। ইতালিয়ান মেন্যুগুলোর মধ্যে পাওয়া যাবে বিভিন্ন স্বাদের পিত্জা আর পাস্তা। আছে পিত্জা প্রন, পিত্জা মাসরুম, টুনা মাছের পিত্জা, বিফ পিত্জা, চিকেন সসেজ পিত্জা ইত্যাদি। এ ছাড়াও পাওয়া যাবে অলিভ, চিজ আর কাঁকড়ার মাংসেরও পিত্জা। আর সবগুলো পিত্জা ছাড়িয়ে স্বাদে অনন্য হলো পিত্জা হলিডে ইন। মাসরুম, চিকেন, ক্যাপসিকাম আর অলিভের মিশ্রণে এটি এক কথায় অসাধারণ একটি পিত্জা। ৬০০ টাকার এই পিত্জাতে ২-৩ জনের পেট ভরবে। সাথে নিতে পারেন মাসরুম ফ্রাই অথবা ব্রেড টমেটো। এখানে পাস্তা পাওয়া যাবে ৬ ধরনের। আছে প্রন, বিফ টুনা অথবা শুধুই সবজির সাথে স্প্যাগেটি। এর বাইরে চাইনিজ মেন্যুতে আছে চিকেন ক্যাশিওনাট সালাদ, বিভিন্ন ধরনের স্যুপ, ফ্রাইড চিকেন, ফ্রাইড রাইস, নুডলস, মাসালা চিকেন ইত্যাদি। এসব খাবারের বাইরে যারা কাবাব পছন্দ করেন তাদের জন্য আছে চিকেন টিক্কা, চিকেন রেশমি, বিফ/চিকেন বটি কাবাব। কাবাবগুলো সব ১৫০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া খেতে পারেন এক্সক্লুসিভ কোরাল, রূপচাঁদা কিংবা গলদা চিংড়ির কাবাব। খাবারের এতসব ভিন্নতার পাশাপাশি এখানে পাবেন এমন একটা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ যে হাইওয়েতে খাবার রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে আপনার ধারণা পাল্টে যাবে। সকাল ১১ থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই হলিডে ইন রেস্টুরেন্টে যেতে পারেন রসনা বিলাসীরা। এখানে দেড় থেকে ২ হাজার টাকায় ২-৩ জন পর্যন্ত পেটপূজা সারতে পারবেন। সপ্তাহের প্রতি দিনই খোলা থাকে এই রেস্টুরেন্টটি। হলিডে ইনের ঠিকানা :আশুলিয়া বাসস্ট্যান্ড, টঙ্গী বাজার, আশুলিয়া। ফোন :০১৭৭০০৪১৯০৭।