সম্পর্কের বয়স

দাম্পত্য পুরোনো হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েরাও এখন যে যার নিজের জগত্ নিয়ে ব্যস্ত। একাকিত্ব কাটাতে অচেনা হয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষটিকে কী করে কাছে টানবেন, তার পরামর্শ নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন খালেদ আহমেদ ‘গত সপ্তাহে আমাদের একমাত্র মেয়ে ডাক্তারি পড়বে বলে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে চলে গেল। ও এখন থেকে ওখানেই থাকবে। বাসায় মানুষ বলতে শুধু আমি ও আমার স্বামী দিদার। আমাদের বাইশ বছরের দাম্পত্য জীবনের বিশ বছরজুড়েই ছিল আমাদের মেয়ে নওমী। আমাদের ছেড়ে একরাতের জন্যও কখনও বাইরে যায়নি। আমরা কোনোদিন ভাবিনি তাকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে হবে। কিন্তু আজ পরিবর্তনটা যখন এসেছে, তখন মনে হচ্ছে দু’জন অচেনা মানুষের যেন অনেক দিন পর দেখা হয়েছে। ‘অচেনা’ কথাটা এখানে ঠিক প্রযোজ্য নয়। কেননা দিদারের পছন্দ-অপছন্দ, রাগ, আনন্দ, বিরক্তি সবই আমি ভীষণ ভালো চিনি। কিন্তু তাও যেন আমাদের মধ্যে কত বিশাল একটা দূরত্ব। এই দূরত্বটা নওমী অজান্তে তৈরি করে রেখে চলে গেছে। ঠিক কীভাবে এই দূরত্ব ভরাট করে একে অপরের কাছাকাছি আসব তা বুঝতে পারছি না’—কথাগুলো বলছিলেন, পুরোদস্তুর গৃহিণী সুজানা। তার মতো অনেক পাঠকেরও এই সমস্যা থাকতে পারে। তাই এই সমস্যা সমাধানের কৌশল নিয়ে আমাদের কিছু পরামর্শ। নতুন ভাবনায় পাখা মেলুন দাম্পত্য জীবনকে সুখময় করতে আপনাকে নতুন ভাবনায় পাখা মেলতে হবে। বুঝতে হবে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর এটাই তো সবচেয়ে ভালো সময়। এখন দৌড়ঝাঁপও কম। সেইসাথে প্রতিদিনের টেনশনও কমে গেছে। ফলে যা যা আগে সময়ের অভাবে একসঙ্গে করতে পারেননি, সেসব পছন্দের কাজগুলো করুন। আপনার স্বামীও যেন সেই সময়টা আপনাকে দেয় সেজন্য তাকে বুঝিয়ে বলুন। তবে সব সময় শুধু নিজের পছন্দের কাজটি করতে চাইবেন না। স্বামীর পছন্দকেও গুরুত্ব দিন। আগে দু’জনে যেসব ছবি একসঙ্গে দেখেছিলেন, সেগুলো পুরনায় একসঙ্গে দেখতে চেষ্টা করুন। বিভিন্ন প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে যান। দাম্পত্য পুরোনো হয়ে গেছে ভেবে স্বামীকে অবহেলা করবেন না। বরং তাকে একটু বেশি গুরুত্ব দিন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কেরও রং বদলায়। এটা মেনে নিতে চেষ্টা করুন। অভিমান, রাগ, ক্ষোভ পুষে রাখলে নিজেই কষ্ট পাবেন। তার চেয়ে যেসব গুণের জন্য তাকে ভালোবাসেন বা শ্রদ্ধা করেন, সেটা মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করুন। আপনার ভালোবাসা গোপন করবেন না। আপনার মনের কথা তিনি নিজেই বুঝে নেবেন, এ কথা ভেবে নেওয়াটা ঠিক না। ছোট্ট কোনো গিফট বা কার্ডের মাধ্যমে নিজের ভালোবাসার কথা জানান। এতে পুরোনো দাম্পত্যে নতুনত্বের ছোঁয়া অনুভব করবেন আপনার প্রিয় মানুষটি। টিপস সেকেন্ড হানিমুন প্ল্যান করতে পারেন। ঠিক বিয়ের পর যেসব জায়গায় গিয়েছেন, সেসব জায়গায় না গিয়ে নতুন কোনো জায়গায় যান। আসলে রোমান্স খুঁজে নেওয়ার উপযুক্ত সময় এটাই। বয়স হয়ে গেছে, ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে ইত্যাদি অজুহাতে অনেক দম্পতিই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে দূরে ঠেলে দেন। এটা ঠিক নয়। কখনো মতের অমিল বা ঝগড়া হলে তা বেশি দিন টানবেন না। যত দ্রুত সম্ভব তা মিটিয়ে ফেলবেন। সম্পর্কের মধ্যে ‘ইগো’কে কোনো ভাবেই মাথাচাড়া দিতে দেবেন না। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো—বিনয়ী ও নম্র থাকা। মডেল মোসলে উদ্দীন ফারুকী এবং তার স্ত্রী সালমা ফারুকী আর ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু