গৃহস্থালি

লেফট ওভার ম্যানেজমেন্ট

রান্নাঘরের বাড়তি জিনিসপত্র আমরা প্রায়শই ফেলে দিই। কিন্তু হঠাত্ করে দরকার পড়ল একটুখানি লেবু রসের কিন্তু পাওয়া গেল না, তখনই দৌড়াতে হয় পাশের কাঁচাবাজারে লেবু কেনার উদ্দেশ্যে। তাই এরকম ঝামেলা এড়াতে রান্নাঘরটি সহজভাবে সাজিয়ে রাখাটাও অনেক জরুরি। উপযুক্তভাবে রাখতে পারলে বাড়তি জিনিস কীভাবে বেশিদিন ব্যবহার করতে পারবেন তা নিচের আলোচনা থেকে জেনে নিন। অনেক সময় পাতি লেবু পুরোটা ব্যবহার করা হয় না। বাকি অর্ধেক লেবু ২-৩ দিন ভালো রাখার জন্য ওপরে একটু লবণ ঘষে ফ্রিজে রাখুন, ভালো থাকবে। পুরো সপ্তাহের বাজার একবারে করে স্টক করুন। মাছ, মাংস প্রয়োজন মতো দুয়েকদিন পর পর কিনুন। বাড়িতে টিনজাত খাদ্য রাখুন। প্রক্রিয়াজাত বা ফ্রোজেন খাদ্য রাখুন, যা প্রয়োজনে চট করে রান্না করা যাবে। স্টক করুন আচার, চাটনি, মেয়নিজ ও নানা রকম সস। এগুলো খাবারের স্বাদ বাড়ায়। এক কাজের সাথে অন্য কাজ মিশিয়ে করলে অনেক সময় বাঁচে। যেমন—মাংস বা এমন কিছু সেদ্ধ হওয়ার সময় আপনি অন্য কিছু কাজ সেরে ফেলতে পারেন। আগের দিন কোনো কাজ একটু বেশি করে রাখলে পরের দিন আর করতে হয় না। যেমন—সবজি কাটার সময় একটু বেশি করে কেটে ফ্রিজে রাখুন। বেশি পরিমাণে জল কিংবা আলু সেদ্ধ করে রাখুন। বিকেলের নাস্তার জন্য সকালের ময়দা, আটা মেখে রাখুন। তাহলে আর বাড়তি সময় লাগবে না। চা, চিনি, ডাল নানা রকম মসলাপাতি ট্রান্সপারেন্ট জার অথবা লেবেল দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন। তাহলে খুঁজতে সময় নষ্ট হবে না। তেল, ঘি কিংবা আচার, যেখানে রাখবেন সেখানে প্লাস্টিক বা গ্রিজপ্রুফ পেপার সিট বিছিয়ে নিন। তাহলে প্রত্যেকবার তেল ঘি মুছতে সময় নষ্ট হবে না। হাতের কাছে একটা কাঁচি রাখুন। প্যাকেট খোলার দরকার ছাড়াও ধনেপাতা, কারিপাতা চট করে কেটে নেওয়া যাবে। যখন ডিম সিদ্ধ করবেন তখন তার সাথে কিছু আলু সিদ্ধ করে নিন। পরে তরকারিতে ব্যবহার করতে পারবেন। সিঙ্কের নিচের ফাঁকা জায়গায় শেলফ বানিয়ে নিন। সেখানে বাসন ধোয়ার সাবান, স্ক্রাবার, বাসুন মোছার ন্যাপকিনস গুছিয়ে রাখুন। বেশি ভাজাভুজি বা ঝাল মসলা রান্না হলে তেল, গ্যাস শুষে নেওয়ার জন্য মোটরের ক্যাপাসিটি কত জেনে নিন। চিমনির এয়ার সাকশন ক্যাপাসিটি কত সেটাও মনে রাখুন। রান্না করতে করতে গরম তাওয়া বা কড়াইয়ে খুন্তি বা চামচ রেখে দেবেন না। পরের বার রান্না করতে যাওয়ার সময় হাতে গরম লেগে যেতে পারে। মাছ বা লুচি যেকোনো কিছু ডিপ ফ্রাই করার সময় একদিন থেকে দেবেন, তা হলে তেল ছিটকে পড়বে না। অনেক সময় দেখা যায়, গ্যাস ওভেনের চারপাশে চলকে পড়ে শক্ত হয়ে যায়। একে পরিষ্কার করতে এক চামচ লবণ আর গরম পানি দিয়ে ভালো করে ঘষে নিলে খাওয়ার দাগ ও তেলতেলেভাব দুটোই চলে যাবে। চপিং বোর্ডে সামান্য লবণ ও ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে দিন। এরপর শক্ত ব্রাশ বা স্ক্রাব দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন। তারপর গরম পানিতে চপিং বোর্ড ধুয়ে ফেলুন। অ্যালুমিনিয়াম জানালার ফ্রেমে সহজেই তেল চিটে পড়ে যায়, ভিজা কাপড়ে লবণ দিয়ে জানালার ফ্রেম মুছে ফেলুন। চিনামাটির কাপ, প্লেট বা ডিনার প্লেট থেকে কড়া দাগ পরিষ্কার করার জন্য ভিনিগারে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। তারপর স্ক্রাবার প্যাডে সামান্য লবণ দিয়ে ঘষুন। দেখবেন দাগ উঠে যাবে। ওভেনের চারপাশে পিঁপড়ে ও অন্যান্য পোকার উপদ্রব দেখা যায়। এর থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য ভিনিগার ও লবণের মিশ্রণ ব্যবহার করুন।