‘এই বছরেই ৭০ লক্ষ গ্রাহককে থ্রিজি সেবা দিতে নেটওয়ার্ক তৈরি করছে টেলিটক’
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৩
২০ লাখ গ্রাহককে থ্রিজি নেটওয়ার্ক সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত টেলিটক এ বছরের মধ্যেই ৭০ লাখ ব্যবহারকারীকে থ্রিজি সেবা দিতে নেটওয়ার্ক তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন টেলিটকের মার্কেট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের জিএম মো. হাবিবুর রহমান।
গত বছরের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের থ্রিজি সেবা উদ্বোধন করেন। ইতোমধ্যেই টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে, যার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত রয়েছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে। হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নতুন এই সংযোজন তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প ও সেবার বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা, শিল্প, কৃষি, সেবাখাত এবং অন্যান্য সব ক্ষেত্রেই এর ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করবে। এতে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ও জনগণের ক্ষমতায়নে অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই নতুন প্রযুক্তিতে মানুষ আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হবে। দ্রুত এর গ্রাহক বাড়বে এমনটা আশা করা যায় না। কারণ, ভারত ২ বছর পূর্বে এটি উন্মুক্ত করলেও এখনও পর্যন্ত অনেকেই এর গ্রাহক হয়নি। আমাদের দেশেও ধীরে ধীরে এর গ্রাহক সংখ্যা বাড়তে থাকবে।’
হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের নেটওয়ার্কই সব স্থানে ছিল না। থ্রিজি নেটওয়ার্কও তাই রাতারাতি সব জায়গায় পৌঁছে যাবে বলে আশা করা ঠিক না। প্রাথমিকভাবে আমরা শহরাঞ্চলের গ্রাহকদের উপরে নির্ভর করেই এর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে মনোযোগ দিচ্ছি।’
টেলিটকের থ্রিজি সিম কিনলেই এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয় না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশ নিয়ম অনুযায়ী ২জি ডিফল্ট হয়ে মোবাইল হ্যান্ডসেটগুলো দেশে প্রবেশ করে। এ কারণেই তৃতীয় প্রজন্মের নেটওয়ার্কের সুবিধা পেতে হলে ফোনের সেটিংস পরিবর্তন করে নিতে হয়। এ জন্য আমাদের কল সেন্টার রয়েছে। সেখান থেকে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করা হয়।’
থ্রিজি নেটওয়ার্ক চালুর মাধ্যমে ডাটা কমিউনিকেশন সার্ভিসে প্রবেশ করল টেলিটক। এ কারণে এখন টেলিটকের অনেক বেশি কাস্টমার কেয়ার সেন্টার প্রয়োজন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় টেলিটকের কাস্টমার কেয়ারের সংখ্যা অত্যন্ত কম। এ প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ১১টি টেলিটক সার্ভিস পয়েন্ট রয়েছে। তবে এটি ঠিক, এই সংখ্যা আমাদের বাড়াতে হবে দ্রুত। আর সে জন্যও কাজ করে যাচ্ছি আমরা। আশা করছি, খুব দ্রুতই আমরা টেলিটকের কাস্টমার কেয়ার পয়েন্ট ৫০টিতে উন্নীত করব।’
থ্রিজি নেটওয়ার্ক প্রচলিত মোবাইল ফোনগুলোতে বাড়বি বিভিন্ন সুবিধা সংযুক্ত করতে সক্ষম, সাধারণ মোবাইল ফোনে যা সম্ভব নয়। থ্রিজি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এসব বাড়তি সেবা সকলের জন্যই সুবিধা বয়ে নিয়ে আসবে বলে জানান হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘থ্রিজি প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় সুবিধা হলো, এই প্রযুক্তি কার্যকর থাকলে মোবাইল হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে ভয়েস সুবিধার পাশাপাশি ব্যবহারকারী উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে। এতে করে টিভি দেখা, খেলা দেখা, ভিডিও ক্লিপস আদান-প্রদান, ভিডিও স্ট্রিমিং, ভিডিও কনফারেন্সিং প্রভৃতি কাজ খুব সহজেই সম্পাদন করা যাবে। এ ছাড়া থ্রিজি নেটওয়ার্ক থাকলে ব্যবহার করা যায় গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) যার মাধ্যমে নিখুঁত পথ নির্দেশনা পাওয়া সম্ভব।’
প্রাথমিকভাবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুরে সীমিত আকারে থ্রিজি নেটওয়ার্ক চালু করলেও এখানেই থেমে থাকতে রাজি নয় টেলিটক। বরং এসব স্থানের বাইরের মানুষের কাছেও খুব দ্রুতই তারা পৌঁছে দিতে চায় থ্রিজি নেটওয়ার্ক। আর সেই কাজটিও চলমান বলেই জানান হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আগামী মাসেই চট্টগ্রামে থ্রিজি সেবা দেওয়া হবে। আর পর্যায়ক্রমে এটি ছড়িয়ে পড়বে অন্যান্য স্থানে।’