প্র জ ন্ম স ং বা দ

মেধাবী তরুণের সাফল্য গাঁথা

সাফল্যের জন্য প্রয়োজন সঠিক দিক-নির্দেশনা এবং দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। এদিক দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যজনক অধ্যায়ে পদার্পণ করেছেন পটুয়াখালীর ছেলে মো. এনামুল হক। এসএসসি শেষ করে তিনি অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করতে ভর্তি হয়েছিলেন উত্তরার এগার নম্বর সেক্টরের দুই নম্বর রোডে চৌদ্দ নম্বর প্লটে অবস্থিত কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজিতে। এনামুল হক অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এ-লেভেল শেষ করে লেভেল ফাইভ সম্পন্ন করার পর ইএএসএ পার্ট-৬৬ বি১/বি২ ফ্রজেন লাইসেন্স পেয়ে বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের লুত্ফনসা টেকনিক এজি, শ্যাননে ইন্টার্নি করছেন। আজ তিনি নিজের পাশাপাশি বাবা-মায়েরও স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন। এখন এনামুল হকের শুধু সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়। এনামুল হক বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় মাপের ইঞ্জিনিয়ার হবো। এদিক দিয়ে আমার ধারণা যে, এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং যথেষ্ট উন্নত ও গর্ব করে উল্লেখ করার মতো ক্যারিয়ার। এজন্য শুরু থেকে আমার মানসিক প্রস্তুতি ছিল এবং এক ধরনের একাগ্রতা ছিল এই পেশায় আসার। এরপর এসএসসি পাস করে জানতে পারলাম কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজি এই বিষয়ে ডিগ্রি পরিচালনা করছে। সেখানে গিয়ে দেখলাম তাদের পরিচালনা করা ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত এবং এখান থেকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এনডি, এইচএনডি সম্পন্ন করে উন্নত বিশ্বের বহু দেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার এবং ইন্টার্নি করার সুযোগ আছে। আর খরচও যথেষ্ট কম। সেখানে ভর্তি হওয়ার পর আর আমাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এখান থেকে ইএএসএ পার্ট-৬৬ বি১/বি২ ফ্রজেন লাইসেন্স পেয়ে আয়ারল্যান্ডের লুত্ফনসা টেকনিক এজি, শ্যাননে ইন্টার্নি করতে চলে এলাম।’ অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মপরিধি সম্পর্কে তিনি জানান, ‘উড়োজাহাজ আকাশে উড়ার আগে এর সব সিস্টেম ঠিক আছে কি না তা সম্পর্কে পাইলটরা সব ধরনের তথ্যপত্র নিয়ে থাকেন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের কাছ থেকে। তাই বলা যায় উড়োজাহাজের পাইলট ও যাত্রীদের জীবন এবং তাদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর অনেক কিছু নির্ভর করে তাদের উপর। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের ক্ষেত্রটা ব্যাপক। তবে এয়ারক্রাফটের নিত্য নতুন ডিজাইন উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ, এয়ারফ্রেম ইঞ্জিন তৈরি, আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতির সংযোগ স্থাপন, মেরামত প্রভৃতি করাও তাদের কাজের মধ্যেই পড়ে। অন্যদিকে এয়ারক্রাফটের ফ্লাইট টেস্ট প্রোগ্রামে টেক অব ডিস্টেন্স, রেট অব ক্লইম্ব, সিল স্পিড, ম্যানুভারিলিটি অ্যান্ড ল্যান্ডিং ক্যাপাসিটি প্রভৃতি পর্যবেক্ষণ করে থাকেন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়াররা। এ ছাড়া জ্বালানি দূষণ কমানো, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়, সেফটি সিস্টেমসসহ অন্যান্য বিষয় নিয়েও তারা কাজ করে থাকেন।’ এনামুল হক আরও বলেন, ‘এখন আমার এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমি পড়ালেখা বা ইন্টার্নি শেষে এ দেশে চাকরি শুরু করতে পারি, আবার অন্য দেশে গিয়েও শুরু করতে পারি। এই পেশায় জীবন যাপনের ধারা খুবই উন্নত। চাকরি ক্ষেত্রে বেতনও চমত্কার। আর আয়ারল্যান্ডের মতো এমন একটি উন্নত দেশে এ ধরনের পেশাদার হওয়া মানে অনেক বড় কিছু যা তুলনা করার মতো নয়। শিক্ষার্থী যারা ক্যারিয়ারের পথে অনেকদূর এগোতে চায় তারা একটু ধৈর্য ধরে একাগ্র মনে এ ধরনের বিষয় নিয়ে পড়লেখা করলে আমার বিশ্বাস তারা ব্যক্তি জীবনের সব ধরনের আশা পূরণ করতে পারবেন। নতুনদের প্রতি আমার পরামর্শ তারা যেন এমন ডিগ্রি অর্জন করার পরিকল্পনা নেয় যার বিশ্বজুড়ে চাহিদা রয়েছে এবং ডিগ্রি অর্জন করে বেকার বসে থাকতে না হয়। এজন্য তারা এভিয়েশন খাতের এই বিষয় পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন।’