শীর্ষ আয়ের জোয়ারে

রাশিয়ান সুন্দরী মারিয়া শারাপোভা। মারিয়া শারাপোভা নামটির সাথে যেন গ্ল্যামারের গন্ধটা একটু বেশিই আছে। আর তাই কোর্টের মধ্যে যেমন ঠিক তেমনি কোর্টের বাইরেও বাজিমাত করেছেন এই তরুণী। সম্প্রতি সর্বোচ্চ আয়ের তারকা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই রাশিয়ান সুন্দরীকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম মারিয়া ইয়ুরেভনা শারাপোভা একজন রাশিয়ান পেশাদার টেনিস খেলোয়াড়। চোখের পলক না পড়ার মতো তার সুন্দর মুখ, ছিপছিপে গড়ন। এসব নিয়েই তিনি পরিচিত গোটা দুনিয়ায়। তিনি প্রায় চারবারের মতো গ্র্যান্ড স্ল্যাম সিঙ্গেল চ্যাম্পিয়ন এবং তিনবার রানার আপ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। ২০১২ সালের জরিপ অনুযায়ী বর্তমানে তার র্যাংকিং ২। শারাপোভা মাত্র ১৭ বছর বয়সে পথচলা শুরু করেন। ক্যারিয়ারের শুরুটা তার ২০০৪ সালে। সেসময় তিনি পরপর দুইবার চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জেতা সেরেনা উইলিয়ামসকে উম্বলডন টুর্নামেন্টে হারিয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। সেটা তার প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম বিজয়। এরপর র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় চলে আসেন। শুরু হয় একাধারে বিজয় অর্জন। ২০০৫, ২০০৬, ২০০৮ সালগুলোতে তার খেলার কারিশমা দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দেন পুরো বিশ্বকে। এরপর হঠাতই কাঁধের ইঞ্জুরিতে ভোগেন তিনি। বেশ কিছু সময় অবসরে ছিলেন তিনি। প্রায় এক বছর পর আবার ফিরে আসেন ২০০৯ সালে। ২০১১ সালে আবার উঠে আসেন টপ টেনে। ২০১২ সালে চতুর্থবারের মতো গ্র্যান্ড স্ল্যাম পুরস্কার জিতে নেন তিনি। একই বছর তিনি লন্ডন অলিম্পিকে সিলভার মেডেল জিতে নেন। মাঝখানে যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন মারিয়া শারাপোভা। মৌসুমে কোর্টে ঝড় তুলেও সাফল্যের মুখ দেখেনি। সবকিছু পেছনে ফেলে ফ্রেঞ্চ ওপেনে স্বরূপে ফিরেছেন রাশিয়ান এই তারকা। ইতালির সারা এরানিকে হারিয়ে রোলাঁ গারোর শিরোপা জেতার পাশাপাশি ফের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থানে ফিরেছেন তিনি। এ জয়ের মাধ্যমের গ্র্যান্ড স্ল্যাম চক্র পূর্ণ করেছেন তিনি। শুধু কোর্টে নয়, দেখা গেল, কোর্টের বাইরেও তিনি স্টার। সম্প্রতি করা এক জরিপ অনুয়ায়ী আয়ের দিক থেকে সবাইকে পেছনে ফেলেছেন রাশান শারাপোভা। একসময় খেলাধুলা ছিল নির্মল বিনোদন মাত্র। কিন্তু এখন খেলোয়াড়দের জন্য এটা পেশা। খেলাধুলা করেই বছরে লাখ লাখ ডলার উপার্জন করছেন অসংখ্য ক্রীড়াবিদরা। এই পেশায় হরেক রকমের খেলা রয়েছে। পেশাদারিত্ব আসায় খেলা থেকে আসছে প্রচুর অর্থ। দ্রুতগতির গাড়ি চালনা, গলফ, টেনিস, বাস্কেটবল, ফুটবল, সাঁতার, জিমন্যাস্টিক্স, বক্সিং, সাইক্লিং—সব খেলাতেই রয়েছে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ এবং অর্থ উপার্জন। আবার খেলোয়াড় হওয়ার কারণে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের সাথে বিজ্ঞাপন চুক্তি করে। সেখান থেকেও তাদের বেশ ভালোই আয় হয়। সেই সাথে বাড়ে তাদের পরিচিতি। দেখা গিয়েছে, স্পোর্টসে সবচেয়ে বেশি আয় করেন ড্রাইভিং ইভেন্টে। তারপর গলফ, টেনিস, বাস্কেটবল। তবে মেয়েরা সবচেয়ে বেশি আয় করে গলফ ও টেনিস থেকে। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে টেনিস বিশ্বক্রীড়ায় অনেকটা এগিয়ে থাকার কারণে মেয়েদের এখন অর্থ আয়ের প্রধান ক্রীড়া হচ্ছে টেনিস। বছরের চার গ্র্যান্ডস্লামের একটিতে চ্যাম্পিয়ন হলেই লাখ লাখ ডলার আয়। অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত হয়েছে বেশি বেশি অর্থ উপার্জনকারী মহিলাদের একটি তালিকা। তাতে দেখা গেছে, শীর্ষ পাঁচজনের তিনজনই টেনিস তারকা। সেই হিসেবেই দেখা গেছে, ইনজুরির কারণে প্রায় এক বছর কোর্টের বাইরে থাকার পরও রুশ সুন্দরী মারিয়া শারাপোভা উপার্জনের ক্ষেত্রে সবাইকে ছাড়িয়ে। এখন অবশ্য ইউএস ওপেনে খেলছেন তিনি, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী ডেনিস তরুণী ক্যারোলিনা ওজনিয়াচকি, গত বছরের চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়ামের কিম ক্লিস্টার, ভেনাস জ্যাংকোভিচ, স্টোসারদের সাথে কুলিয়ে উঠে শিরোপা জেতা বেশ কঠিন স্বপ্ন কন্যা মারিয়ার পক্ষে। তারপরও টুর্নামেন্ট খেলার পাশাপাশি স্পন্সর ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শারাপোভা বছরে লাখ লাখ ডলার কামিয়ে নিচ্ছেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার তার রেটিং এক থেকে নামতে নামতে এখন ১৭ নম্বরে। তারপরও শীর্ষ বাছাই মার্কিন তরুণী সেরেনা উইলিয়ামসের চেয়ে গত এক বছরে তিনি বেশি উপার্জন করেছেন বলে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে। এ অনিন্দ্য সুন্দরী বিজ্ঞাপনে মডেল এবং বিভিন্ন পণ্যের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ কামিয়ে চলেছেন। বলা হয় এরজন্য দায়ী তার রূপ আর ক্রেজিনেস। বিশ্বের অন্যতম ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী মার্কিন কোম্পানি নাইকি, জাপানি ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সনি, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী প্রস্তুতকারী আরেক ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এরিকসন এবং টিফানি-এর সাথে মারিয়া শারাপোভা চুক্তিবদ্ধ। এদের বিজ্ঞাপনে কাজ করে এক বছরে আয় করেছেন ২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। যা মহিলা ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে (২০০৯ সালে) রেকর্ড আয়। টেনিসের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনে প্রবেশ করা রুশ স্বপ্নকন্যা এরমধ্যে টুর্নামেন্ট খেলে পেয়েছেন মাত্র ১০ লাখ ডলার। ২০০৪ সালে শারাপোভা উইম্বলডন শিরোপা জিতেন। সেটা ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম। তিন গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা বিজয়ী এ তরুণীকে গত বছর কোর্টের বাইরেই বেশিরভাগ সময় কাটাতে হয় ইনজুরির কারণে। তারপরও এখনও রোজগারের দিক দিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন। অভিষেকেই ইন্ডিকার রকি অব দ্য ইয়ার হয়ে সবাইকে চমক দেন। মূলত সুন্দরী হওয়ার জন্যই শারাপোভার মতো তারও ভালো বিজ্ঞাপন বাজার রয়েছে।