আদিনাথের মেলায়
লেখা ও আলোকচিত্র মুস্তাফিজ মামুন
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৭:৫১
কক্সবাজারের মহেশখালীতে বহুকাল ধরে চলে আসছে আদিনাথের মেলা। বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ময় এ দ্বীপে এ মেলা উপলক্ষে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পুণ্যার্থী আর পর্যটকের আগমন ঘটে। প্রায় পক্ষকালব্যাপী এ মেলা বসলেও মূল আয়োজন থাকে শিব চতুর্দশী পূজার তিন দিনজুড়ে। এবারের শিব চতুর্দশী পূজার শুরু হবে ৯ মার্চ থেকে।
আদিনাথের মেলা
মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে বসে আদিনাথের মেলা। ধারণা করা হয় মন্দিরটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ মেলার প্রচলন। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে অর্থাত্ শিব চতুর্দশী উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গা ছাড়াও ভারত, নেপাল, মায়ানমারসহ আরও অনেক দেশ থেকে হিন্দু তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের সমাগম হয় এ মেলা উপলক্ষে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীদের মেলা হলেও সপ্তাহব্যাপী স্থায়ী এ আয়োজনে সব ধর্মের লোকজনের সার্বজনীন মেলায় পরিণত হয়।
শিব চতুর্দশী পূজায় পুণ্যার্থীরা ভিড় জমান মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে। মহেশখালীর গোরখঘাটা ইউনিয়নের ঠাকুরতলা গ্রামে মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় এ আদিনাথ মন্দির। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৫ মিটার উচ্চতায় মন্দিরটির অবস্থান। মন্দিরটির দৈর্ঘ্য ১০.৫০ মিটার, প্রস্থ ৯.৭৫ মিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৬ মিটার। মন্দিরটির আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। উত্তরের অংশ সবচেয়ে পুরনো। আদিনাথ মন্দিরের পাশেই অষ্টভূজা নামে আরেকটি বিগ্রহের মূর্তি আছে। উত্তরের অংশের প্রথম ভাগে বর্গাকারের দুটি পূজাকক্ষে আদিনাথ বাণলিঙ্গ শিবমূর্তি এবং অষ্টভূজা দুর্গামূর্তি রয়েছে। সামনের দিকের প্রবেশপথটি ধনুকাকৃতির।
মন্দির ও মেলা ঘুরে দেখে নিতে পারেন বৌদ্ধ কেয়াং। মহেশখালী জেটি থেকে বাজারে প্রবেশের আগেই সড়কের বাঁ পাশে মহেশখালী বড় বৌদ্ধ কেয়াং বা মন্দির। এর ভেতরে আছে বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মন্দির। বেশ কয়েকটি পিতলের বৌদ্ধ মূর্তিও আছে এখানে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ, মাথায় হাতে শায়িত বুদ্ধ এবং দণ্ডায়মান বুদ্ধ ইত্যাদি।
কীভাবে যাবেন
মহেশখালী যেতে হলে আগে পৌঁছুতে হবে কক্সবাজার। সড়কপথে ও আকাশপথে ঢাকা থেকে সরসরি কক্সবাজার আসা যায়। এ পথে গ্রিন লাইন, সৌদিয়া, সোহাগ, হানিফ, টি আর ইত্যাদি পরিবহন সংস্থার তাপনিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল বাস চলাচল করে। ভাড়া ১৬০০-২০০০ টাকা। এ ছাড়া এস আলম, সৌদিয়া, শ্যামলী, ইউনিক, ঈগল, হানিফ, ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাসও চলে এ পথে। ভাড়া ৬০০-৮০০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমান, ইউনাইটেড এয়ার ও জিএমজি এয়ার, রিজেন্ট এয়ার ও নভো এয়ারের বিমানে সরাসরি যেতে পারেন কক্সবাজার।
কক্সবাজারের কস্তুরীঘাট থেকে স্পিড বোটে মহেশখালী যেতে সময় লাগে বিশ মিনিট। জনপ্রতি ভাড়া ১০০-১৫০ টাকা। এ ছাড়া ইঞ্জিন নৌকায় গেলে সময় লাগে এক ঘণ্টার মতো। ভাড়া ৪০-৫০ টাকা। যারা সরাসরি আদিনাথ মন্দিরে যেতে চান কস্তুরীঘাটে থেকে তাদের যেতে হবে গোরখঘাটা। সড়ক পথেও মহেশখালী যাওয়া সম্ভব। চকোরিয়া হয়ে বদরখালী সেতু পেরিয়ে সরাসরি যাওয়া যাবে মহেশখালী। এ পথে ভালো কোনো বাস সার্ভিস নেই। তাই রিজার্ভ গাড়ি নিয়ে যেতে হবে।
কোথায় থাকবেন
মহেশখালীতে ভালো হোটেল নেই, তাই বেড়িয়ে এসে কক্সবাজারে রাত যাপন করতে হবে। কক্সবাজারে থাকার জন্য এখন প্রচুর হোটেল রয়েছে। ধরন অনুযায়ী এসব হোটেলের প্রতি দিনের কক্ষ ভাড়া ৫০০-২০০০০ টাকা। পাঠকদের সুবিধার জন্য নিচে কয়েকটি হোটেলের ফোন নম্বর দেওয়া হলো। কক্সবাজারে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের রয়েছে হোটেল শৈবাল, ফোন :৬৩২৭৪। মোটেল উপল, ফোন :৬৪২৫৮। মোটেল প্রবাল, ফোন :৬৩২১১। মোটেল লাবনী, ফোন :৬৪৭০৩। পর্যটন কর্পোরেশনের ঢাকাস্থ হেড অফিস থেকেও এসব হোটেলের বুকিং দেওয়া যায়। যোগাযোগ :৮৩-৮৮, মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা। ফোন :৯৮৯৯২৮৮-৯১। এ ছাড়া অন্যান্য হোটেল হলো হোটেল সি গাল, (পাঁচ তারা), ফোন :৬২৪৮০-৯১, ঢাকা অফিস ৮৩২২৯৭৩-৬। হোটেল সায়মন, ফোন :৬৩২৩৫, ঢাকা অফিস ৮৬১৪৫৬৫। হোটেল সি কুইন, ফোন :৬৩৭৮৯, ৬৩৮৭৮। হোটেল সাগর গাঁও লি. ফোন :৬৩৪৪৫, ৬৩৪২৮। সুগন্ধা গেস্ট হাউস, ফোন :৬২৪৬৬। জিয়া গেস্ট ইন, ফোন :৬৩৯২৫। হোটেল সি হার্ট, ফোন :৬২২৯৮। হোটেল ডায়মন্ড প্লেস অ্যান্ড গেস্ট হাউস, ফোন :৬৩৬৪২। গেস্ট কেয়ার লি. ফোন :৬৩৯৩০। হোটেল প্যানওয়া লি ফোন :৬৪৪৩০। কক্সবাজারের এনডব্লিউডি কোড-০৩৪১।