[ আ ন্ত র্জা তি ক ]
হিলারি ক্লিনটনের সাফল্য ও ব্যর্থতা :একটি পর্যালোচনা
মাইকেল আর গর্ডন মার্ক ল্যান্ডলার
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২২
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বিকার মনোভাবে ক্রোধান্বিত মার্কিন জনগণ নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন গত গ্রীষ্মে ব্যক্তিগতভাবে সিআইএ’র পরিচালক ডেভিড পেত্রাউসের সঙ্গে মন্ত্রণা সভায় মিলিত হন। এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তাঁরা দু’জন সিদ্ধান্ত নেন বিদ্রোহী গ্রুপগুলোকে পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখা হবে এবং তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহ করা হবে। এই পরিকল্পনায় অবশ্য ঝুঁকি ছিল। মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য হল, হিলারি ও পেত্রাউস ঐ প্রস্তাব হোয়াইট হাউসে উপস্থাপন করেন। কিন্তু হোয়াইট হাউস এ ক্ষেত্রে ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে চিন্তান্বিত ছিল। আরেকটি কারণ ছিল, বারাক ওবামার পুন:নির্বাচনের প্রচারণাটা শুরু তখন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফলে হিলারি ও পেত্রাউসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। যদিও এক বছর আগে হোয়াইট হাউসে প্রভাব বিস্তারে মিসেস হিলারি সফল হয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘনিষ্ঠতম সহযোগীদের হটিয়ে দিয়ে মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের সাথে সম্পর্কোন্নয়নে হিলারি সফল হয়েছিলেন। যদিও মিয়ানমারের শাসকরাও যুগ যুগ ধরে জারিকৃত সামরিক শাসন ও বিশ্ববাসীর সাথে বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্ত হতে চাইছিলেন।
পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে হিলারি যে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ভ্রমণ করেছেন সে কথা সকলেরই জানা। ১১২টি দেশ সফরে তিনি ১০লক্ষ মাইল পরিভ্রমণ করেছেন। ৪০১দিন তিনি তাঁর কর্মকালে ভ্রমণরত ছিলেন। এক্ষেত্রে ঐতিহাসিকরাই একদিন নির্ণয় করবেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এজেন্ডা বাস্তবায়নে হিলারির অবদান কী ছিল। হিলারি সামাজিক মিডিয়াকেও তাঁর কূটনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যবহার করেছিলেন। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক ভাষণে বলেন, নতুন বিশ্বের জন্য আমরা নতুন এক স্থপতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। অনুষ্ঠানটি ছিল বলতে গেলে হিলারির জন্য আয়োজিত বিদায়ী অনুষ্ঠান। একই সাথে ওবামার পাশে থেকে হিলারি মার্কিন জাতির একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে কীভাবে কাজ করেছেন তা স্মরণ করতেই ছিল এই সভা।
এদিকে ডজনখানে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক মিসেস ক্লিনটন সম্পর্কে যে অভিমত ও চিত্র দিলেন তা মিশ্র। তাদের ভাষায় হিলারি একাধারে দৃঢ়প্রত্যয়ী একজন কূটনীতিক এবং কখনো তাকে হতাশাগ্রস্তও মনে হয়েছে। যদিও তিনি তার পদকে একজন দলনেতা হিসেবে অলঙ্কৃত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। সিরিয়া ও মিয়ানমারে হিলারির ভূমিকা নিয়ে উল্লেখিত বিশ্লেষকরা বলেছেন, সিরিয়ার ক্ষেত্রে হিলারির কিছুটা সেটব্যাক থাকলেও মিয়ানমারে তিনি সফল। বিশ্লেষকদের মতে, স্টেট অফিসের শেষ মাসে লিবিয়ার বেনগাজীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে বড় ধরনের হামলার পরও আগামীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর রেটিং যথেষ্ট ভাল। জর্জ বুশের আমলের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড এ আর্মিটেজ বলেছেন, হিলারি নাটকীয়ভাবে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির আদল পরিবর্তনে সমর্থ হয়েছেন। তবে আমি আশা করব, হোয়াইট হাউজ তাকে আরও অনেকখানি স্বাধীন করে দেবে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা এবং বর্তমানে জন হপকিন্স স্কুল অব এডভান্স ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ডীন ভ্যালি আর নাসর বলেছেন, বৈদেশিক নীতি গ্রহণে সহসা ভীত হয়ে পড়া, খুঁত ধরার সুযোগ বিদ্যমান সত্ত্বেও হিলারি নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখার চেয়ে সামনে থেকেই সবকিছু করার পক্ষপাতী ছিলেন।
হিলারি তার প্রথম সরকারি সফর শুরু করেন এশিয়া দিয়ে। এশিয়ার সফর শুরুর বিষয়টি নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও স্বীকৃতি লাভের বিষয়টি মাথায় রেখে এগিয়েছেন। তিনি ইরান, ইরাক এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিমিশনে ভূমিকা রেখেছেন, যা এক সময় নিয়ন্ত্রিত হত হোয়াইট হাউস অথবা পেন্টাগনের মাধ্যমে।
বেশকিছু কর্মকর্তার মতে, ডেটনচুক্তির মাধ্যমে আফগানিস্তানে একটা সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে মিসেস ক্লিনটন ছিলেন আশাবাদী। কিন্তু বসনিয়া যুদ্ধের কারণে তার পরিসমাপ্তি ঘটে। তাঁর বিশেষ প্রতিনিধি রিচার্ড হলব্রুক যখন ঐ চুক্তির ব্যাপারে আলোচনায় ব্রতী হলেন, একই সাথে হোয়াইট হাউসের সহযোগিতা পেলেন না এবং এক পর্যায়ে মারা গেলেন, তখন ঐ স্বপ্নের অপমৃত্যু হল।
এরপরই এলো আরব বসন্ত। এই কৌশলগত পরিবর্তনে এশিয়ায় আমেরিকার দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখার গুরুত্ব হ্রাস পেল এবং ঘটনার ঘূর্ণাবর্তে হিলারির অবস্থা হল বিশাল জলাবর্তে ঝাঁপ দেয়ার মত। মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। এক্ষেত্রে তার প্রতি হিলারির লয়ালিটি পরীক্ষার সম্মুখীন হতে বাধ্য। কিন্তু হিলারি উপলব্ধি করলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে সামাজিক মিডিয়া উস্কে দিয়ে গণঅভ্যুত্থান ত্বরান্বিত করছে। সেক্ষেত্রে আরব বিশ্ব সম্পর্কে পুরনো ধ্যান-ধারণা পরিত্যাজ্য। এদিকে মোয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের পাশে দাঁড়াতে বৃটেন ও ফ্রান্স যখন বিতর্কে লিপ্ত তখন হিলারি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হিলারি আন্তর্জাতিক কোয়ালিশন গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন অভিযানে হোয়াইট হাউসকে যোগদানে প্রভাবিত করেন। কিন্তু সিরিয়া হিলারির জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। সিরিয়া গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। এক্ষেত্রে বন্যার মত আসা শরণার্থীদের জন্য হিলারি মানবিক সাহায্য যোগানের ব্যবস্থা করলেন। সিরিয়ার বিরুদ্ধে অবরোধের ব্যবস্থা করলেন এবং সেখানকার রাজনৈতিক বিরোধীদের সংগঠিত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ফ্রান্স, বৃটেন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তত্পরতা থেকে পিছিয়ে পড়তে থাকল যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখিত দেশগুলো সিরিয়ার জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে বিদ্রোহীদের স্বীকৃতি দিলেও আমেরিকা এক্ষেত্রে ছিল পিছিয়ে। অবশেষে গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ওবামাও হিলারির অনুসৃত পথেই বৃটেন ফ্রান্সের অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যদিও সিরিয়ার বিদ্রোহীরা অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য তারস্বরে চিত্কার করছে। কিন্তু হোয়াইট হাউস এক্ষেত্রে তেমন একটা কর্ণপাত করছে না। আমেরিকার এক্ষেত্রে ভয় হল, তারা হয়ত আরেকটি সংঘাতের পথে ধাবিত হবে এবং সরবরাহকৃত অস্ত্র ভুল লোকের হাতে জমা হতে থাকবে। বিদ্রোহীদের মধ্যকার উগ্রপন্থিদের সাথে আল কায়েদার সংশ্লিষ্টতা বিদ্যমান ফলে তারা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র পেতে বেগ পাচ্ছে।
২০০৮ সালে হিলারি পেত্রাউসকে একটি ঘটনায় মিথ্যাবাদী বলেছিলেন। পেত্রাউস তখন ইরাকে ফোর্সেস কমান্ডার। হিলারি তখন প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন; একই সাথে সিনেটর হিসেবে সিনেট আর্মড ফোর্সেস সার্ভিস কমিটির সাথে যুক্ত। কিন্তু ওবামা প্রশাসনে একসাথে সিরিয়া সংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে তাঁরা পরম বন্ধুতে পরিণত হন। এমনকি প্রথম দফায় ওবামা প্রশাসনের শুরুতে আফগানিস্তানে সৈন্য প্রেরণের সংখ্যা নিয়ে অনুষ্ঠিত ডিবেটে সহযোগিতা পেয়েছিলেন।
ইরাকের অভিজ্ঞতাবলে বিদেশি সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যাকগ্রাউন্ড পেত্রাউসের ছিল। সিআইএ’র কর্তাব্যক্তি হিসেবে অভিযান পরিচালনায় তাঁর অভিজ্ঞতার কথাও সুবিদিত। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে কতিপয় বিদ্রোহীকে কম প্রাণনাশক বা কম মারাত্মক অস্ত্র সরবরাহ করেছে। এক্ষেত্রে পেত্রাউস যে পরিকল্পনার উন্নয়ন ঘটিয়েছেন এবং হিলারি যা অনুমোদন করেছেন তা হল, বিদ্রোহীদের পরিচয় আতিপাতি করে খুঁজে দেখে প্রতিবেশী দেশসমূহের সাহায্যে সশস্ত্র একটি গ্রুপ তৈরি করা। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই মনোভাবের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে কতিপয় কর্মকর্তা স্বীকার করলেও পেত্রাউস ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একজন মুখপাত্র এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। জটিল সিরিয়া ইস্যুতে অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে গেলে হিলারিও তাঁর রাশ টেনে ধরেন। কতিপয় কর্মকর্তার প্রত্যাশা ছিল মার্কিন নির্বাচনের পর ঐ ইস্যুটি আবার চাঙ্গা হবে। কিন্তু পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে পেত্রাউস পদত্যাগ করলে এবং সংজ্ঞাহীনতার কারণে হিলারি কয়েক সপ্তাহ কর্ম থেকে বিরত থাকার কারণে আজ সিরিয়া ইস্যুটি তাকবন্দী হয়ে আছে।
গত সপ্তাহে এক সাক্ষাত্কারে হিলারি অস্ত্র সরবরাহ সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সিরিয়া প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র অন্য যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তবে হিলারি বলেছেন যে, সিরিয়া বিষয়ে আমরা অধ্যবসায়ীর মত কঠোর পরিশ্রম করেছি। প্রথমত আমরা কিছু আইনসিদ্ধ বিরোধী দল সৃষ্টি করেছি এবং আমরাই আসাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপে স্থপতি হিসেবে এবং প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেছি। হিলারি আরও বলেন, এতদসত্ত্বেও আসাদ এখনো হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিরোধীদের মধ্যে চরমপন্থি আল কায়েদার শরীক হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। হিলারি আরও যোগ করেন যে, পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন এলাকায় আল কায়েদার যে সকল নেতা লুকিয়ে আছেন বলে সন্দেহ করা হয় তাদের কাছ থেকে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা বার্তা পেয়ে থাকেন। সিরিয়া সম্পর্কিত অগ্রগতিকে তিনি অত্যন্ত বিপর্যয়কর বলে অভিহিত করেন।
সিরিয়া এবং বেনগাজীর ক্ষেত্রে হিলারি যদি কম মার্কস পান, মিয়ানমার বা বার্মার ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্য ঢের বেশি। যদি সিরিয়া ও বেনগাজীতে হিলারির কম পয়েন্ট প্রাপ্য হয়, মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন তার ব্যাপক সাফল্যকে নির্দেশ করে। মিয়ানমারের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগে হিলারি হোয়াইট হাউস, পেন্টাগণ এবেং সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা মিচ মককানলের বিরোধিতার সম্মুখীন হন। মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী সুচির একজন বড় ধরনের সমর্থক হলেন মিচ। যখন তিনি মককানলের সম্মতি আদায়ে সমর্থ হন তখন হিলারি তার পূর্ব এশিয়া বিয়ষক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাম্পবেলকে পাঠান মিয়ানমারের জেনারেলদের সাথে সাক্ষাত্ করতে। ক্যাম্পবেল ফিরে এসে জানান যে, মিয়ানমার গণতন্ত্রে ফিরে আসতে আগ্রহী। হিলারি তখন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সুপারিশ করেন। হোয়াইট হাউসের কতিপয় কর্মকর্তা মিয়ানমারের নির্যাতক সরকারকে কিছুতেই বিশ্বাস করতে রাজি ছিলেন না। অতঃপর হিলারি প্রেসিডেন্টকে বলেন, তাকে মিয়ানমারে পাঠাতে। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে হিলারি মিয়ানমারে তাঁর ঐতিহাসিক সফর সম্পন্ন করেন। হিলারি বলেন, আমরা আদৌ জানতাম না, আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট আমাকে আশ্বস্ত করেন যে, ‘লুক, এ ব্যাপারে আমি আপনার পাশে আছি’।
এতদসত্ত্বেও মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলেও হিলারি ওবামাকে সাথে নিয়ে মিয়ানমার সফর করেন। এটি ছিল হিলারির একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। একই সাথে মিসেস হিলারি ২০১০ সালের জুলাইয়ে চীনের উস্কানির মুখে বললেন যে, চীন ও তার ভূখণ্ডগত প্রতিবেশী দেশসমূহের মধ্যে যে সমস্যাদি বিদ্যমান তা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকতে হবে এবং তার স্বার্থ জড়িত। যদিও হিলারির সম্পৃক্ততা দক্ষিণ চীন সাগরে অস্থিরতা প্রশমনে সামান্যই অবদান রেখেছে। চীন ফিলিপাইনের একটি ডুবুডুবু দ্বীপ নিয়ে কম হাঙ্গামা করেনি। যদিও ঐ দু’দেশই দ্বীপটির মালিকানা দাবি করে থাকে। এদিকে সেনকাকু দ্বীপ নিয়েও চীন-জাপান বিরোধ বিদ্যমান। হিলারির কর্মতত্পরতার ফলে চীনকে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির আলোকেই বিরোধের মীমাংসায় উপনীত হতে হবে বলে এখন অনুমিত হচ্ছে।
গত বছর হিলারির একটি সাক্ষাত্কারের বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। ভিন্নমতাবলম্বী চেন গুয়ানচেং বেইজিংয়ের মার্কিন দূতাবাসে আশ্রয় নেন। যখন একটি প্রাথমিক আলোচনা এ ব্যাপারে ব্যর্থ হলো হিলারি বলেছেন, চীনের সিনিয়র বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কর্মকর্তা দাই বিনগুয়োকে তিনি একটি নোট দেন। এতে তিনি লেখেন যে, তোমার এবং আমার মধ্যে কথা হওয়া দরকার।
দাইকে তিনি বলেন যে, তোমার সহকারীদের বলে দাও আমার সহকারীদের সাথে পাশের রুমে গিয়ে কথা বলতে। হিলারি বলেন, পরররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার কর্মকালে এরকম অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করতে হয়েছে। হিলারি বলেন, যতই অনিশ্চয়তা থাকুক না কেন, আমি সবক্ষেত্রে সব সময়ই ছিলাম আত্মপ্রত্যয়ী।
দ্য নিইউয়র্ক টাইমস থেকে
ভাষান্তর :কায়কোবাদ মিলন