ভিনদেশি

ইন্টারনেটের নিরাপত্তায় ‘জ্যাকব’

জ্যাকব ক্যাশ, তরুণ এক মিলেনিয়ার। খুব অল্প বয়সেই বিশাল সাফল্য অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি সবার সামনে একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন যে, সামাজিক দায়িত্ববোধও আমাদের এনে দিতে পারে সাফল্য। আর তার এই কাজই তাকে তুলে এনেছে তরুণকণ্ঠের পাতায়। তার সাফ্যল্যের গল্পটি নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম সেই ১৯৯৯ সালের কথা, জ্যাকব প্রথম ব্যবসার জগতে পা রাখেন। সেসময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। এত অল্প বয়সে যুক্তরাজ্যের এক কোম্পানির ডিরেক্টর হওয়ায় তিনি তার আরও সাতজন বন্ধুসহ গিনেজ বুকে জায়গা করে নেওয়ার মতো কাজ করে বসেন। সবাইকে জানান দিয়ে ‘ডুবিট’ নামের সাইটটির তার যাত্রা শুরু হয়। ব্যবসায়িক জগতে ‘ডুবিট’ নামের সাইটটিকে এক প্রকারের সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটও বলা চলে। তবে, বর্তমানে এটাকে ‘ইয়ুথ মার্কেটিং এজেন্সি’ বলা যেতে পারে। অর্থাত্, তরুণদের মার্কেটিং জগতে প্রবেশের একটি বিশাল দ্বার উন্মোচন করে রেখেছে এই কোম্পানি। বলা যায়, বেকারদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টির কাজটিই করেন তাদের কোম্পানি। ২১ শতকে এসে সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে ব্যাপক কথা বলা হয়েছে এতে। সেইসময় কোকাকোলার মতো কোম্পানি ডুবিট সাইটের মাধ্যমে তাদের ব্যবসার প্রচারকার্য চালনা করতেন। ২০০৪ সালে খুব দ্রুতই তিনি যুক্তরাজ্যের ২০ জন ধনী টিনেজদের তালিকায় স্থান করে নেন। ২০০৬ সালে তিনি তার ডুবিটের সব শেয়ার বিক্রি করে দেন। তারপর অন্যরকম একটা কোম্পানির কথা ভাবতে থাকেন যেটা প্রতিরোধমূলক সফটওয়্যার বানাবেন, যা খুঁজে বের করতে পারে ‘পেডোফিলিস’ অনলাইনের মাধ্যমে। এটি এমন একটি সফটওয়্যার ব্যবস্থা, যা অনলাইন গ্রুমিংয়ের আচরণ হিসাব করতে পারে। অনলাইন গ্রুমিং এমন একটি বিষয় যা অনলাইনের পথচারীদের কর্মপন্থার উপর নজরদারি করে। সাল, ২০০৭, ‘সানডে টাইমস’ পত্রিকাটির হিসাবমতে, যুক্তরাজ্যের ১০০ জন তরুণ ধনীদের মধ্যে ২৮ নম্বর স্থানে ছিলেন এই তরুণ। এ পত্রিকা প্রতিবছর ১০০ জন ধনীদের তালিকা প্রকাশ করে। সেই সাথে একটা গবেষণায় প্রকাশ করা হয়, ২০২০ সালের মধ্যে তিনি হবেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। ‘ছেলেটা একটা ভালো দৃষ্টান্ত যে, একজন সাদা মনের মানুষ কী করতে পারে, তার আশপাশের মানুষজন তার সম্পর্কে ভাবেন, এভাবে এগোতে থাকলে সে অবশ্যই একদিন সুপারস্টার হবে’, জ্যাকব সম্পর্কে তার একজন বিজ্ঞ পরামর্শদাতা ও ডুবিটের চেয়ারম্যান মাইক বে ইরক্লিফও এমনটাই ভাবেন। অনলাইনের ব্যাপকতার কারণে এটি যোগাযোগের একটি সহজ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সব কিছুরই ভালোর পাশাপাশি খারাপ দিক রয়েছে। ঠিক তেমনি এই ইন্টারনেট জালেরও অসংখ্য সমস্যা রয়েছে। হিসেব বের করতে গেলে দেখা যাবে, প্রতিদিনই বিশ্বের কেউ না কেউ প্রতারণার স্বীকার হচ্ছেন এই অনলাইনের মাধ্যমে। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল ১৪ বছর বয়সী এক তরুণীর ভাগ্যে। সেখান থেকেই মূলত জ্যাকবের উঠে আসা। ঘটনাত্রুমে জ্যাক ছিল সেই তরুণীর প্রতিবেশী। তিনি যখন জানতে পারলেন অনলাইনে প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন সেই মেয়েটি। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এর বিহিত করবেন। আর সেই পথে এগোতে গিয়েই জন্ম হয় ডুবিটের। কাজ শুরু করেই থেমে থাকেননি এই তরুণ। তিনি কাজটির সাথে ওতপ্রোতভাবে লেগেছিলেন। অবশ্য কিছু দিক দিয়ে তাকে ভাগ্যবান বলা যায়, কারণ এই উদ্যোগে তার সাথে ছিলেন তার বন্ধুরা। শুধু তাই নয়, তার শিক্ষাগত যোগ্যতাও এই কাজে তাকে অনেক সহায়তা করেছিল। অচীরেই তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির মর্যাদা পেয়ে যান। যাত্রা শুরু করার পর থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ডুবিটের ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদে থাকার পরে তিনি হঠাত্ করেই ঠিক করেন এই ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসা শুরু করবেন। কিন্তু এর পিছনে কী কারণ ছিল তা কখনও জানা যায়নি। অবশ্য পরে তিনি সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। তার কাজের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। ইন্টারনেট মার্কেটিং ও নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করে যান। অনলাইনে যারা প্রতিনিয়ত এমন দুষ্ট মানুষদের শিকার হচ্ছেন, তাদের কার্যক্রম রোধের জন্য তিনি ব্যবস্থা নিতে চান। অর্থাত্, আমরা এমন একটি সফটওয়্যারের কথা ভাবতেই পারি, যা অনলাইনে মানুষের গতিবিধি লক্ষ করে এবং বেগতিক কিছু দেখলে সাথে সাথে রিপোর্ট করার ব্যবস্থা থাকবে সম্পূর্ণ অটোমেটেড সিস্টেমের মাধ্যমে। সেভাবে চিন্তা করতে গেলে বলা যায়, সাইবার অপরাধী অথবা অনলাইনে মানুষদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সুবিধা আদায় করে যারা, তাদের সংখ্যা অনেকাংশেই কমে যাবে। বর্তমানে জ্যাকবের ভাণ্ডারে রাজস্ব সংখ্যা হিসাব করলে দাঁড়ায় ২ মিলিয়ন পাউন্ডের সমান।