নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

সমঝোতার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে বিরোধী দলসহ বিভিন্ন নাগরিক সমাজ আন্দোলন করে যাচ্ছে অথচ সরকার সেদিকে কর্ণপাত করার পরিবর্তে শীর্ষ নেতাদের জেলে পুরে রাখছে যা বাকশালী পন্থার সামিল। নির্বাচন নিয়ে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন কিন্তু গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে যা করা দরকার তা ভুলে গিয়েছেন। তাই আমি বর্তমান প্রজন্মের ক্ষুদ্র মতপ্রকাশকারী হিসেবে হিংসার পথ পরিহার করে সরকারি এবং বিরোধীদল একই টেবিলে বসে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী সমাধান বের করার অনুরোধ করছি। সিকদার রেদোয়ান আইন বিভাগ,দ্বিতীয় বর্ষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ---- বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার দেশের মানুষকে দেখিয়ে দিতে পারে এদেশে এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রাষ্ট্রিয় আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে ফলে পরিবর্তিত হয়ে গেছে ব্যক্তি, রাষ্ট্র, রাজনীতির মতাদর্শ। কেউ রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করে জনগণের সম্পদ নষ্ট করছে, কেউ আবার তাদেরকে লাঠিপেটা করে হাসপাতাল পর্যন্ত পাঠিয়েছে। কেউ কেউ আবার সাংবাদিকদের সামনে নিজের বা নিজ দলের যুক্তি দাঁড় করাতে বহুবার গলা ফাটিয়েছে। টিভির টকশোতেও ফাটিয়েছে অসংখ্য বার। এতে কার কি লাভ-ক্ষতি হয়েছে সে হিসেব আমি করবো না। তবে দেশের একজন শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার একটাই দুঃখ- তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাদ দিয়ে পুরোনোকে পরিহার করে নতুনকে গ্রহণ করা হয়েছে। এটা অবশ্যই খারাপ না হয়ে অনেক ভাল হতে পারত যদি আমাদের দেশের নেত্রী-নেতারা তা ভাল মনে করতেন। ভাল মনে করে কেউ আগ্রহসহকারে প্রস্তাব করতেন, আসুন আমরা আমাদের দেশের গণতন্ত্রকে মজবুত করতে, জনগণের কল্যাণে সর্বোপরি দেশের উন্নয়নে একে অপরের আস্থার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ভবিষ্যত্ বাংলাদেশের জন্য নির্ভরশীল নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তুলি। দেশের জন্য নিজেদেরকে নিবেদিত করি, আস্থাশীল রাজনীতি গড়ে তুলি, ভবিষ্যত্ বাংলাদেশ গড়ি। কিন্তু তা আজঅবধি হয়নি। যেহেতু সংবিধানে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই সেহেতু ২০১৩ সালে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার দেশের মানুষকে দেখিয়ে দিতে পারে এদেশে এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। এদেশের রাজনৈতিক দল আর ভোটচুরির ক্ষমতালোভের রাজনীতি করে না। তারা রাজনীতি করে দেশের জনগণের জন্য। আর এ দেশে এ বিশ্বাস ব্যবস্থা আনতে সরকারি দলের যেমন প্রবল দায়িত্ব রয়েছে তেমনি একাজে সহযোগিতা করবার জন্যও সমান দায়িত্ব রয়েছে বিরোধী দলের। তবে নির্বাচনের আগে সরকারি দলের প্রয়োজন রয়েছে এ বিষয়ে বিরোধী দলের যথেষ্ট আস্থা অর্জনের। পুলক চাকমা নৃবিজ্ঞান বিভাগ ২য় বর্ষ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ----- উন্নয়ন বঞ্চিত নির্বাচনী আসনসমূহকে সফল রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিতে পুনর্নির্ধারণ করা একান্ত প্রয়োজন একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে সকলের উচিত গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের বিগত দিনগুলোতে অনেক সময় আমরা করতে পারিনি। যার ফলে জনগণের অধিকার সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়নি। ২০০৮ সালের পূর্বে তেমনি একটি অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে দু’টি বছর অতিক্রম করে দেশের মানুষ। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন, সে নির্বাচনে সমকালীন সরকার দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী অঞ্চল পুনঃনির্ধারণ করেন। যা বেশিরভাগ নির্বাচনী অঞ্চলের মানুষদের স্বপ্ন বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয় এবং উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করে। তারা তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে বিভ্রান্তির শিকার হয়। কোন কোন নির্বাচনী অঞ্চলকে ভেঙে অন্য নির্বাচনী অঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করা হয়। যা উক্ত অঞ্চলের জনগণের অধিকার আদায় থেকে তাদের বঞ্চিত রাখে। যা গণতান্ত্রিক দেশে কোন মানুষেরই কাম্য নয়। তাই আমি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এবং দেশের সকল রাজনৈতিক দলের কাছে আহ্বান জানাই যেন সকলের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনী অঞ্চলসমূহ পূর্বের নির্ধারিত সীমানায় ফিরিয়ে দেয়া হয়। দেবাশীস পাল তমাল বাংলা বিভাগ ২য় বর্ষ, ১ম সেমিস্টার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ---- সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার অপরিহার্য সুষ্ঠু, অবাধ জাতীয় নির্বাচন যে কোন গণতান্ত্রিক দেশের জনগণের প্রত্যাশা। কারণ এই নির্বাচনের ফলে মানুষের আশা-ভরসা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়। আমাদের দেশও এর বাইরে নয়। নিয়মমতে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে এবং মেয়াদ শেষের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের ভাষ্য: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয় বরং দলীয় সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, কিন্তু প্রধান বিরোধীদলের ভাষ্য হচ্ছে: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যতীত তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এই পরিস্থিতিতে দেশ এখন চরম রাজনৈতিক সংকটে ভুগছে। আমি মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একান্ত অপরিহার্য যার মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। মো.আজাহারুল ইসলাম এলএলবি (অনার্স) আল ফিকহ বিভাগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ---- নির্বাচন মানেই কি তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার মানে হচ্ছে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাময়িক সময়কে হাতে নিয়ে দেশের নির্বাচনী ফল সুষ্ঠুভাবে তুলে দিবে এমন ব্যক্তি নির্বাচন করা। নির্বাচন হোক শান্তিপূর্ণভাবে এটাই বাঙালি জাতির একান্ত প্রত্যাশা। যে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। সেই দেশে তৃতীয় ব্যক্তির প্রয়োজন হতে পারে। তবে বাংলার সাধারণ জনগণ শুধু একটা কথাই জানে- নির্বাচন যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয় হবে, না হয় না হবে। কিন্তু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে এটাই জনগণের চাওয়া-পাওয়া। তারিকুল ইসলাম (প্রিন্স) বামনা সারওয়ারজান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ (কমার্স)