একাত্তরের অসমাপ্ত বিপ্লব এবার কি সফল হবে?

‘মাঝে মাঝে ইতিহাস নিজে কথা কয়’, এই কবিতার লাইনটি কার তা আমার সঠিকভাবে মনে পড়ছে না। জীবনানন্দ দাশের কি? মনে করতে পারছি না। কিন্তু ঢাকায় শাহবাগে আবার একাত্তরের মতো জনসমুদ্র এবং তার গর্জন শুনে মনে হল, মহাকবি নেই, কিন্তু তার মহাকাব্য আজ স্বঘোষিত। ইতিহাস আজ নিজে কথা কইছে। শত ভ্রূকুটি, শত বিকৃতি, শত চক্রান্ত ব্যর্থ করে একাত্তর আবার মাথা তুলেছে। নেতা নেই, জনতা আছে। যুব জনতা। মহাসমাবেশের বিরাট অংশই দেশের নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী, যারা একাত্তর দেখেনি। একাত্তরের ইতিহাস যাদের বিকৃতভাবে শোনানো হয়েছে। তারা ভ্রান্ত ও বিপথগামী হয়নি। তাদের কণ্ঠে বহুকাল পর বজ্র নির্ঘোষের মতো আবার শুনলাম জয়বাংলা ধ্বনি। বুকটা ভরে গেছে। নিত্য আমার প্রার্থনা ছিলো, মৃত্যুর আগে যেন একাত্তরের পুনরভ্যুত্থান দেখে যাই। কোনো রাজনৈতিক দল নয়, কোনো নেতা নয়, মনে হয় ইতিহাস-বিধাতা আমার সেই প্রার্থনা পূরণ করতে চলেছেন। শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি আমার লন্ডনের বাসায় অনবরত টেলিফোন বেজেছে। আমার চেনা-অচেনা বন্ধুদের অনবরত টেলিফোনে সংবাদ জানানো। তার উপর বাংলাদেশের যে টেলি-অনুষ্ঠান লন্ডনে সম্প্রচারিত হয়, সেগুলোত দেখছিই। সারাদিন আর নাওয়া-খাওয়া হয়নি। টেলিভিশন আর টেলিফোন নিয়েই ব্যস্ত থেকেছি। কয়েকবার এই মহাসমাবেশ সম্পর্কে মতামত জানার জন্য ঢাকায় কয়েকজন বন্ধুকে নিজেও টেলিফোন করেছি। তাদের মধ্যে বন্ধুবর মোনায়েম সরকার অবশ্যই একজন। সেখান থেকে টেলিফোনেই আলাপ করলেন উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন, একজন সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল। একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর আমার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে টেলিফোন নম্বর জোগাড় করে আমাকে টেলিফোন করেছেন। উত্তেজিত কণ্ঠ, ‘স্যার, মনে হচ্ছে একাত্তরের ত্রিশ লাখ শহীদ আবার কবর থেকে উঠে এসে এই মহাসমাবেশে জড়ো হয়েছেন।’ দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বসেও দেশে একাত্তরের এই গণঅভ্যুত্থানের খবরে দেহমনে শিহরণ ও রোমাঞ্চ অনুভব করেছি। মনে হয়েছে, একাত্তরের ঢাকায় রমনার জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে আবার বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনছি। ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধু আজ বেঁচে থাকলে এই কথার সঙ্গে হয়তো আরও একটি কথা যুক্ত করতেন—‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার শত্রু নিপাতের সংগ্রাম।’ যারা বলেন ইতিহাস নিজেই নিজের স্রষ্টা, ২০১৩ সালে ঢাকার শাহবাগ এলাকায় কায়রোর তাহরির স্কোয়ারের মতো উত্তাল জনসমুদ্র দেখলে একথাটি সঠিক বলে তাদের মনে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দেয়নি; কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল না; ৭১-এর একজন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের একটি রায় জনগণের মনঃপুত না হওয়াতে এমন সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের মতো বিশাল জনজোয়ার ঘটতে পারে তা ছিলো অকল্পনীয়। ইতিহাস যেন স্বয়ম্ভু। বিশেষ করে একাত্তরের ইতিহাস। এই ইতিহাস বাংলাদেশে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করবে। সন্দেহ নেই এই গণজাগরণ ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট বা বাঁক ফেরা। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিলো ইতিহাসের এরকমেরই একটি বাঁক ফেরা। চৈত্রের ঝরা পাতার মতো পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব ঝরে পড়েছে; আবর্জনার স্তূপে চলে গেছে; নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে। তেমনি ২০১৩ সালের গণজাগরণেও রাজনীতির পুরোনো নীতি নেতৃত্ব ধসে পড়লে, নতুন নেতৃত্ব উঠে এলে বিস্ময়ের কিছু নেই। এখানে একটি সতর্কবাণী আওয়ামী লীগসহ সকল গণতান্ত্রিক দল ও নেতাদের জন্য। এই ঐতিহাসিক গণজাগরণের স্বতঃস্ফূর্ততা, তারুণ্যের নব উত্থানকে স্বীকৃতি দিয়ে তারা এই আন্দোলনে সমর্থন দিন, সংগ্রামী তরুণ জনতার পাশে এসে দাঁড়ান। কিন্তু কোনো কারণেই যেন তারা এই আন্দোলনকে হাইজ্যাক করার চেষ্টা না চালান; গণসংগ্রামকে সংকীর্ণ দলীয় কালার দেওয়ার মনোভাব না দেখান। এই গণজোয়ার সৃষ্টির সকল কৃতিত্ব দলমত নির্বিশেষে দেশের তারুণ্য ও তরুণ জনতার। কোনোদিন যেন এর কৃতিত্ব নিজেরা দাবি না করেন। যদি করেন তাহলে তারা ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের ক্ষতি করবেন। এই অভ্যুত্থানের মুখে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের যে ভীত শত্রুরা এখন পলাতক, তাদের মুখে আবার হাসি ফোটাবেন। অধিকাংশ গণআন্দোলন কোনো দলীয় নেতৃত্বে শুরু হলেও তার সাফল্য নির্ভর করে জাতীয় চরিত্র অর্জনের উপর। ৬৯- এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তি সংগ্রাম এই জাতীয় চরিত্র অর্জন করেছিল। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির শাহবাগের গণজাগরণে এই জাতীয় চরিত্র লক্ষণীয়। একাত্তরের মুক্তি সংগ্রামের মতো এবারের গণজাগরণের বৈশিষ্ট্য তাতে তরুণদের নেতৃত্ব ও ঐক্য। এই নেতৃত্ব ও ঐক্যকে সাফল্য লাভ করতে দিলে দেশের রাজনীতির ইতিহাস এক অভূতপূর্ব বাঁক নেবে এবং দেশের বহু আকাঙ্ক্ষিত নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা লাভের সুযোগ পাবে। শাহবাগের জনসমুদ্র থেকে শুধু জয়বাংলা শ্লোগানই ওঠেনি, শ্লোগান উঠেছে ‘একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার।’ সন্দেহ নেই একাত্তর নতুনভাবে, নতুন নেতৃত্বে গর্জে উঠতে চাইছে। দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একাত্তরের এই পুনর্জন্ম বিস্ময়কর। এই একাত্তরের ইতিহাসকে বিকৃত ও বিলুপ্ত করার জন্য তো কম অপচেষ্টা হয়নি। পঁচাত্তর পরবর্তী নতুন প্রজন্মকে ৭১-এর পরাজিত শক্তি ক্ষমতা দখল করে সম্পূর্ণ ভুল ইতিহাস শিক্ষা দিয়েছে। সম্পূর্ণ বিপথগামী করার চেষ্টা করেছে। ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও হিংসার রাজনীতিকে দেশে অবাধ প্রতিষ্ঠা দেয়া হয়েছে। ফলে দেশের সচেতন ও সেক্যুলারমনা মানুষের একেক সময় মনে হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের আর বুঝি কোনো সম্ভাবনা নেই। আমাদের মনের এই আশঙ্কা যে কতোটা অমূলক, তা ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস প্রমাণ করেছে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম যে পথভ্রষ্ট হয়নি; ৭১-এর দেশদ্রোহী ঘাতকদের চিনতে ভুল করেনি, ক্ষমা করেনি, ফেব্রুয়ারির এই যৌবন জলতরঙ্গ তার প্রমাণ। ৭১-এর ঘাতক এবং হানাদারদের গণহত্যার সহচর জামায়াত নেতারা ভেবেছিল, চার দশক একটি দীর্ঘ সময়। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ স্মৃতিভ্রষ্ট হবে এবং তারা ধর্মকে রাজনৈতিক ব্যবসায়ের পুঁজি করে আবার দেশের জাতীয় জীবনে দেশি-বিদেশি প্রভুদের সাহায্যে প্রতিষ্ঠা অর্জন করতে পারবে। ৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ভণ্ডুল করার চেষ্টা ছিল তাদের জন্য একটি এসিড টেস্ট। নিজেদের পেছনে জনসমর্থন নেই জেনে তারা একাত্তরের ধারায় ট্রেনিংপ্রাপ্ত সশস্ত্র ক্যাডারদের রাজপথে নামিয়ে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ দ্বারা নিজেদের শক্তির প্রমাণ দেখাতে চেয়েছিল। অরাজকতা সৃষ্টির দ্বারা জনমনে ভীতির সৃষ্টি এবং বর্তমান সরকারের কার্যক্রম অচল করে দিতে চেয়েছিল। এই যুদ্ধাপরাধীদের উচিত শিক্ষা দেয়ার কাজে দেশের মানুষ-বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে ডাক দিতে হয়নি। একাত্তরের ইতিহাস তাদের মনে স্বয়ম্ভু হয়ে চেতনা সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রদায়িক ও উগ্র মৌলবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশের তারুণ্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে জেগে উঠেছে। দেশে শিশুঘাতী নারীঘাতী, পশুরা যাতে আবার ৭১ এর হত্যালীলার পুনরাবৃত্তি করতে না পারে, মধ্যযুগীয় তালেবানি রাজত্বের দিকে দেশটিকে ঠেলে নিতে না পারে, বরং ৭১-এর গণহত্যাকারী, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী নরপশুরা ন্যায়বিচারে প্রাপ্য শাস্তি পায় সেই লক্ষ্যে একটি শান্তিপূর্ণ গণবিপ্লবের সূচনা করেছে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শাহবাগ। এই গণজাগরণের মোকাবিলায় জামায়াত রাজপথ থেকে পলাতক। তাদের মূষিক সুলভ উপদ্রব রাজপথে এখন বন্ধ। খবর পেয়েছি, গতকাল শনিবার তারা চট্টগ্রামে হরতাল ডেকেছিল। হরতালের ডাকে মানুষ সাড়া দেয়নি। জামায়াতী দুর্বৃত্তেরা রাস্তায় নামার সাহস দেখায়নি। বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ভণ্ডুল করার কাজে জামায়াতী দোসরদের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও সাহায্য দিতে পারছে না দেশবাসীর ক্রোধের ভয়ে। তবে নানা অছিলায় পার্শ্ব-সাহায্য দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। শনিবারে তারা ঢাকায় তাদের অফিসের সামনে কি এক অজুহাতে বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করেছিল। শহরময় জনতার রুদ্রমূর্তি দেখে তারা সমাবেশ বাতিল করেছেন। অবশ্য মুখ রক্ষার জন্য তারা কিছু কারণও দেখিয়েছেন। যা মানুষের হাসির খোরাক জোগাচ্ছে। শুক্রবারের ঐতিহাসিক গণসমাবেশের শপথ গ্রহণ ছিল ৭১-এর স্বাধীনতার যুদ্ধের মূল লক্ষ্যে ফিরে যাওয়ার এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তিদান থেকে কোনো কারণেই সরে না দাঁড়ানোর। এই আন্দোলনের চরিত্র বৈশিষ্ট্যগুলো সকলেরই চোখে পড়েছে। এতে যোগ দিয়েছে দেশের তরুণদের বিশাল অংশ। দলমত নির্বিশেষে সকল পেশার মানুষ ছুটে এসেছে শাহবাগে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারী জনতার শতকরা ২৫ ভাগই ছিল সকল বয়সের নারী। মায়েরা শিশু কোলে এসেছে। তরুণীরা শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, অনেকে জিন্সের শার্ট প্যান্ট পরেও এসেছে। হিজাবধারী নারীর সংখ্যাও কম নয়। বলা চলে মানবতার শত্রু, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে জাতীয় ক্রোধের বিস্ফোরণ ঘটেছে এবার শাহবাগে। এই জনজাগরণের আরও বৈশিষ্ট্য হলো, জনগণের সমাবেশে শুধু একাত্তরের চেতনাই ফিরে আসেনি, একাত্তরের শ্লোগানও ফিরে এসেছে। কিছুদিন আগেও একশ্রেণির আওয়ামী লীগারকেও যেখানে ৭১-এর জাতীয় যুদ্ধ শ্লোগান জয়বাংলা উচ্চারণে বিব্রতবোধ করতে দেখেছি, সেখানে শাহবাগের জনসমুদ্রে জয়বাংলা সগর্ব উচ্চারণ জাতি যে তার পথের দিশা আবার ফিরে পেয়েছে তার প্রমাণ। ‘একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’ শ্লোগানটির মুহুর্মুহু গগণবিদারী উচ্চারণ এবার প্রমাণ দিলো, মার্কিন সাংবাদিক লিফত্সুজ কথিত বাংলাদেশের অসমাপ্ত বিপ্লব এবার সম্ভবত সফল সমাপ্তির দিকে এগুচ্ছে। আবার আমার ভয়টাও এখানেই। আমরা যাতে দলীয় স্বার্থে, কোনো ভাবাবেগে এই মোমেনটামটা না হারাই। জাতীয় ঐক্যে চিড় না ধরাই। আন্দোলনের আসল শত্রুমিত্র চিনতে পারি। এবং একটা দাবি—জাতীয় শত্রুদের (একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের) বিচার ও শাস্তি দাবির এই একটা ইস্যুতে যে বিরাট জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, তাকে রক্ষা করি এবং দেশকে স্থায়ীভাবে রাজাকার, আলবদর ও তাদের অন্যান্য দোসর-শক্তির কবল থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করতে পারি। জনতা সংগ্রাম করে, সেই সংগ্রামের সাফল্য আনে; আর নেতারা ভুল করেন, সেই সাফল্যের ফসল হাতছাড়া করেন। এটাই বার বার দেখা গেছে। জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়, যেমন ’৭১ সালে হয়েছে, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতেও হয়েছে। কিন্তু নেতারা বিভক্ত হন; এবং জনতার ঐক্যেও বিভেদ সৃষ্টি করার কারণ হয়ে দাঁড়ান। এবার আল্লার ওয়াস্তে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন, জনতার ঐক্য ধরে রাখুন এবং জনগণের সংগ্রামকে সফল করার কাজে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখুন। সন্দেহ নেই একাত্তরের ঘাতক এবং তাদের পুরনো ও নব্য দোসরদের শিবিরে ত্রাসের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এখন জনক্রোধের আওতা থেকে নিরাপদ অবস্থানে পালিয়ে থেকে নতুন কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত। এই কৌশল হবে জনতার ঐক্যে ভাঙন সৃষ্টির জন্য তারা আগে নেতাদের ঐক্যে ফাটল ধরাতে চাইবে। একশ্রেণির মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীর দ্বারা বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী তাত্ত্বিক বিতর্ক শুরু করে, গুজব ও প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে জনগণের দুর্গে সন্দেহ, অবিশ্বাস-দ্বন্দ্ব এবং সর্বশেষে অনৈক্য সৃষ্টি করতে চাইবে। তাদের অর্থবল আছে, মিডিয়া শক্তি আছে এবং শক্তিশালী বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতাও আছে। এরা এখন সম্মুখযুদ্ধে আসার সাহস দেখাবে না। বরং চক্রান্তের বিবরে আশ্রয় নিয়ে গুপ্তঘাতকের ছুরি শানাতে থাকবে এই আন্দোলন ও গণজাগরণকে আঘাত করার জন্য। এখন এই আন্দোলনের অনেক ছদ্ম মিত্র এসে জুটবেন, যারা মোটেই এই গণজাগরণের মিত্র নন, বরং ট্রোজান হর্স। এদের সম্পর্কে সাবধান হতে হবে। দেশের ছোট-বড় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতারা সজাগ হোন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন। কোনো কারণেই জনগণের স্বয়ংক্রিয় ঐক্যে এবার যেন ভাঙন সৃষ্টি না হয়; আন্দোলনের সম্মুখভাগের তরুণেরা হতাশ না হন। শাহবাগের ঐক্য যদি অটুট থাকে, লক্ষ্য অর্জনে এই আন্দোলন যদি অবিচল থাকে, তাহলে এবার অবশ্যই একাত্তরের অসমাপ্ত বিপ্লব সফল হবেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতীয় কোনো চক্রান্ত তাকে ঠেকাতে পারবে না। \ লন্ডন, ৯ ফেব্রুয়ারি, শনিবার, ২০১৩\