প্রজন্মের প্রোগ্রামার

কম্পিউটারকে যখন বেশকিছু নির্দেশ দেওয়া হয় তখন সেই নির্দেশমালাকে আমরা বলি প্রোগ্রাম আর যারা এই নির্দেশ দেয় তারাই প্রোগ্রামার। বুদ্ধিদীপ্ত অ্যালগোরিদম ব্যবহার করে লেখা প্রোগ্রামের ভিতর লুকিয়ে থাকে আশ্চর্য শৈল্পিক সৌন্দর্য যা উপভোগের অধিকার শুধুই প্রোগ্রামারদের। একজন প্রোগ্রামার তার বিচক্ষণতার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম, হিসাব-নিকাশে ডাটা এন্ট্রি থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় অনলাইন প্রচার প্রচারণায় অংশ নেয়। এই প্রজন্মের কাছে পেশা হিসেবে প্রোগ্রামিং অনেক বেশি জনপ্রিয়। এই প্রজন্মের তেমনই কয়েকজন মেধাবী প্রোগ্রামারদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। আয়োজনটি দেখুন পরের পৃষ্ঠায়। গ্রন্থনা এবং সম্পাদনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার ও সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ম নি র হো সে ন চৌ ধু রী এক্সিকিউটিভ অফিসার, আইসিটি, ব্যাংক এশিয়া কোনো একটা প্রোগ্রামিং ভাষা শেখা। আর কোনো একটা প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে কিছু-মিছু করে ফেলা এক কথা নয়। নিজে নিজে প্রোগ্রামিং শেখাটা একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। একটি প্রোগ্রামিং ভাষা শেখা থেকে শুরু করে তাতে পরিপূর্ণ দক্ষ হতে বছরখানেক সময় লেগে যেতে পারে। অন্যদিকে ওয়েবসাইট ডিজাইন তুলনামূলকভাবে ততটা সময়সাপেক্ষ নয়, ব্যক্তিভেদে তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। আয়ের দিক থেকে ওয়েবসাইট প্রোগ্রামিংয়ের পরেই রয়েছে ওয়েবসাইট ডিজাইনের ব্যাপক সম্ভাবনা। ওয়েবসাইট ডিজাইন শেখার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ইন্টারনেটে এই বিষয়ে যে পরিমাণ টিউটোরিয়াল রয়েছে তা থেকে ঘরে বসে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টাতেই ডিজাইনিং শেখা সম্ভব। এভাবেই শুরু করলেন ব্যাংক এশিয়ার মনির হোসেন চৌধুরী। এক বন্ধুর হাত ধরে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে হাতে খড়ি তার। বাইরে ফ্রিল্যান্সিংয়ে কিছুদিন কাজ করার পর স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে কাজ শুরু করেন, পাঁচ বছর করার পর চলে আসেন ব্যাংক এশিয়ায়। এখনও কাজ করছেন সেখানেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যারা ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য থাকে ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে বেশি মাথা অল্প খাটিয়ে কম কষ্টে আয় করা। প্রকৃতপক্ষে একটি ডাটা এন্ট্রির কাজ পাওয়া যে কতটা কঠিন তা আমার অজানা নয়। একেকটি প্রজেক্টে ১০০ জনের উপর বিড করে। তার উপরে এই ধরনের কাজ খুবই বিরক্তিকর এবং কষ্টের তুলনায় আয় অত্যন্ত কম। সর্বোপরি এ ধরনের কাজে সৃজনশীলতার ছিটেফোঁটাও নেই। অনেকেই বলবেন সবাইতো আর প্রোগ্রামার হতে পারবেন না। একজন দক্ষ প্রোগ্রামার হওয়ার জন্য কম্পিউটার সায়েন্স বা এই ধরনের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ বা সময় অনেকেরই থাকবে না। তাহলে একজন নন-টেকনিকাল ব্যক্তি কি একজন প্রোগ্রামারের সমান বা তার চেয়ে বেশি আয় করতে পারবে না? এই পেশায় প্রথম অবস্থায় যথেষ্ট শ্রম দিতে হবে এবং অবশ্যই নতুন কিছু উদ্ভাবন করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এই দুই ক্ষমতা থাকলে আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি ওয়েবসাইট ডিজাইনিংয়ে আপনি ভালো করতে পারবেন। ইন্টারনেটেপ্রাপ্ত টিউটোরিয়াল থেকে শিখে আপনি ঘরে বসেই এতে দক্ষ হতে পারবেন।’ মনির এই প্রজন্মের কাজ খুব আগ্রহ নিয়েই দেখেন। তাদের মাঝে অনেক সৃজনশীলতা রয়েছে। প্রোগ্রামিংয়ে এই জিনিসটা অনেক বেশি জরুরি। আর তাদের অনেক বেশি ব্যবহারিক জ্ঞানে নজর দেওয়া উচিত, তাহলেও কাজ শেখা যায়, অন্যদেরটা দেখে ধারণাও তৈরি করা যায়। মনিরের শৈশব কেটেছে পাবনাতে। তার বাবা চলে গেছেন না-ফেরার দেশে। মা গৃহিণী। স্ত্রী নারগিস চৌধুরী আর দুই কন্যা নাফিসা আর মায়মুনাকে নিয়ে রচিত হয় তাদের সুখের দিনলিপি। মনির মনে করেন, উন্নত দেশগুলো কাজের মূল্য কমানোর জন্য আউটসোর্সিং করে থাকে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং পাকিস্তান সেই সুযোগটিকে খুবই ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। আমরাও যদি ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিশাল বাজারের সামান্য অংশ কাজে লাগাতে পারি তাহলে এটি হতে পারে আমাদের অর্থনীতি মজবুত করার শক্ত হাতিয়ার।’ মনির হোসেন চৌধুরী ডাকনাম :বাবলু জন্ম তারিখ ও স্থান :১ জানুয়ারি, পাবনা মায়ের নাম :মোমেনা খাতুন বাবার নাম :মরহুম আবুল হোসেন চৌধুরী প্রথম স্কুল :বনপটদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :মা-বাবা প্রিয় উক্তি :সত্ মানুষ হও। প্রিয় পোশাক :স্যুট, প্যান্ট অবসর কাটে যেভাবে :নেট ব্রাউজিং করে। সাফল্যের সংজ্ঞা :শতভাগ সন্তুষ্টি অর্জন। ---- ফ রি দ উ দ্দি ন ব্যবস্থাপক, আইটি, নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড হেল্প ডেস্ক অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু, তারপর একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির আইটির ম্যানেজারই বনে গেলেন। নিজের যোগ্যতা, পরিশ্রম, সেই সাথে অদম্য আত্মবিশ্বাস তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এনআইআইটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনাটা শেষ করে ইন্টার্নি করেন নেসলেতে। তার কাজের উত্সাহে এখানেই সুযোগ পেয়ে গেলেন। ফরিদ উদ্দিনের এগিয়ে যাওয়ার গল্পটা এমনই। ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশে কোনো খাতে উন্নয়ন হলে সেটা আর ধরে রাখতে পারিনা। এই অভ্যাস আর গুণটা তৈরি করতে হবে আমাদের। তা না হলে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। অনেক খাতের মতোই আইটি প্রোগ্রামিং অনেক জনপ্রিয় পেশা আমাদের দেশে। এখন অনেক তরুণ এগিয়ে আসছে এখানে কাজ করার জন্য, আমাদের কেবল এই গুরুত্বটা বুঝে ধরে রাখতে হবে, তা না হলে প্রতিযোগিতাময় দুনিয়াতে পিছিয়ে পড়তে হবে। আমাদের তরুণ প্রোগ্রামারদের মাঝে উদ্যোগের অভাব রয়েছে, কাজের আগ্রহও মাঝে মাঝে কম। এটা কাম্য নয়। অনেক কাজ তারা একই ফরমেটে করে ফেলতে চায়। প্রয়োজনে যেটা করা যেতে পারে। কিন্তু কাজ শেখার সময়ে বা মানোন্নয়নের জন্য দরকার সঠিক পদক্ষেপ। একই কাজ বিভিন্ন ফরমেটে করতে পারলেও অনেক কিছু শেখা যায়, করা যায় নতুন নতুন আইডিয়াও।’ এই জিনিসটা তরুণরা ভেবে দেখবেন বলে আশাবাদি তিনি। ফরিদ উদ্দিন এই কাজে খুবই উত্সাহ বোধ করেন, নিজে থেকেই কিছু করার যে আনন্দ সেটা এই জগতে আছেন। আর ফরিদ যেহেতু সৃজনশীল দুনিয়ার দারুণ ভক্ত, কাজ করেন তাই ভালোবাসা নিয়ে। কাজের প্রতি তাই এই ভালোবাসাটাও তৈরি করতে জানতে হবে আমাদের। যুগটাই যেহেতু প্রযুক্তির, নিজেকে প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নিতে হবে। এই মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে চাইলে আধুনিকতম প্রযুক্তির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে হবে, সেটা করতে পারলেই সাফল্য আসবে। ফরিদ মনে করেন, ‘প্রোগ্রামিং শিখতে গেলে, যে দুইটা জিনিস লাগে তা হলো নিষ্ঠা, আর সততা। জিদ ধরে লেগে থাকতে হয়। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যাদের দেখে মনে হয়, অনেক চেষ্টা করেও প্রোগ্রামিং ঠিকমতো আয়ত্ত করতে পারল না, তারা স্রেফ নিজের কাছে অসত্। তাই পারেনি। হয়তো কিছু একটা ধারণা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি কিন্তু সে এগিয়ে গেল পরের টপিকে। এবং নিজেকে মিথ্যা প্রবোধ দিল যে সে আগের জিনিসটা বুঝেছে। ফলে পরে উচ্চতর কোনো সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে সে আটকে যাবে। হয়তো সে বুঝবেও না যে, অতীতে যে মামুলি জিনিসটা সে উপেক্ষা করেছিল, সেটার কারণেই সে আজ আটকে আছে। কম্পিউটার ভাষায় দক্ষতা থাকলে এত হাজার কোটি ভিন্ন ভিন্ন জিনিস করা সম্ভব যে, তার কোনো না কোনোটা তার মন মতো হবে। আর তখন নিজের সৃষ্টিশীলতা কোথা থেকে যে এসে হাজির হবে সেটা বুঝতেও পারবেন না।’ দুই কন্যা মানিহা আর আয়েশাকে নিয়ে কেটে যায় তার অবসর। স্ত্রী মোনামী গৃহিণী। পুরান ঢাকায় কেটেছে তার ছেলেবেলা, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে এইচএসসি আর তার আগে আহমেদ বাওয়ানি একাডেমি থেকে এসএসসি দেন তিনি। ভবিষ্যতে নিজের খাতেই কাজ করে যেতে চান, নেসলেকে নিয়ে যেতে চান অনেক ভালো অবস্থানে। ফরিদ উদ্দিন ডাকনাম :রানা জন্ম তারিখ ও স্থান :৩ অক্টোবর, ঢাকা। মায়ের নাম :সৈয়দা মমদুহা খাতুন বাবার নাম :এএম কামরুদ্দিন আহমেদ প্রথম স্কুল :আহমেদ বাওয়ানী একাডেমী প্রিয় মানুষ :আমার মেয়ে প্রিয় উক্তি :সফলতাই আসবেই। প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :ল্যাপটপ আইপ্যাডে সাফল্যের সংজ্ঞা :দুঃসময়টাকে পার করে সফল হওয়া। ---- মু হা ম্মা দ আ রি ফু ল হ ক সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, এডিএন টেলিকম লিমিটেড একবিংশ শতাব্দী হচ্ছে প্রযুক্তির যুগ। যেখানে সব কাজেই রয়েছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। প্রযুক্তির উত্কর্ষসাধন ও ব্যাপক ব্যবহারের মূলে রয়েছে কম্পিউটার। নানাবিধ ব্যবহার, নিখুঁত কার্যক্ষমতা, দ্রুত গতি, অসীম তথ্যভাণ্ডার, সময় ও ব্যয় হ্রাস প্রভৃতি সুবিধার কারণে বর্তমানে প্রায় সব ধরনের কাজই কম্পিউটারনির্ভর হয়ে পড়েছে। শিক্ষা, চিকিত্সা, ব্যবসা, বিনোদন, যোগাযোগ প্রভৃতি খাতে আজ কম্পিউটার একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। সময়ের সাথে সাথে কম্পিউটারের আকার, ব্যবহার এবং কার্যক্ষমতার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে এবং পরিবর্তন অব্যাহত রয়েছে। কম্পিউটারকে যিনি আপন করে নিয়েছেন তেমনি একজন আরিফুল হক। খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক সম্পন্ন করে তিনি কিছুদিন নেসিনিয়া নামে একটা প্রতিষ্ঠান কাজ করেন, পরে অবশ্য চলে আসেন এখনকার প্রতিষ্ঠানে। আরিফ বলেন, ‘সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা নতুন নতুন ব্যবহার ক্ষেত্র, ব্যবহারে বৈচিত্র্য, বাজার চাহিদা, অধিকতর কার্যক্ষমতা ও আধুনিকতা প্রভৃতি মাথায় রেখে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সফটওয়্যার তৈরি করে থাকেন। যেমন ধরুন একটি কোম্পানি তার সব শাখা অফিস এবং হেড অফিসের যাবতীয় কার্যক্রমের রেকর্ড কম্পিউটারভিত্তিক রাখতে চাচ্ছেন এবং নিজস্ব পদ্ধতিতে অপারেট করা এবং ইন্টারনেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা চালু রাখতে চাইছেন। এ ক্ষেত্রে রেডিমেট কোনো সফটওয়্যার পাওয়া যাবে না। কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী সফটওয়্যার তৈরি করে নিতে হবে। এই কাজটিই করে থাকেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা। আপনার চাহিদা অনুযায়ী তারা সফটওয়্যার তৈরি করে দেবে এবং রক্ষণা-বেক্ষণের দায়িত্ব নিবে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বর্তমানে যেকোনো ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তিগত পর্যায় পর্যন্ত সর্বত্রই কম্পিউটারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কম্পিউটারের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ বৃদ্ধি পাবে। কারণ কম্পিউটার মানেই হচ্ছে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার। আপনি যে বাংলা প্রোগ্রাম দিয়ে কম্পিউটার বাংলা লিখছেন, ডিভিডি চালাচ্ছেন, রাইট করছেন, গ্রাফিক্সের কাজ করছেন, ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন ইত্যাদি সব কাজই হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যারের সাহায্যে।’ আরিফ বলেন, ‘সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ দু’রকম। এক. বাজার চাহিদা এবং নতুন নতুন ব্যবহারগত সুবিধা মাথায় রেখে সফটওয়্যার তৈরি করে তা যেকোনো কোম্পানির কাছে প্যাটেন্ট আকারে বিক্রি করা। এবার কোম্পানি ওই সফটওয়্যারটি বাজারজাত করবে। দুই. বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সফটওয়্যার তৈরি করে দেওয়া। দু’দিকেই কাজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আরেকটু সচেতন হওয়া দরকার।’ অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং কাজের দিকে চলে যান, এর চেয়ে বড় টিমে কাজ করা সুবিধাজনক বলে মত দিলেন তিনি। প্রজন্মের মেধাবী এই প্রোগ্রামারের জন্ম চাঁপাইনবাবগঞ্জে, সেখানেই কেটেছে ছেলেবেলা। তার বাবা ব্যবসায়ী আর মা গৃহিণী। আরিফ তিন ভাই-বোনের মাঝে ছোট। অন্য দুইবোন যার যার জায়গাতে প্রতিষ্ঠিত। প্রজন্মের এই প্রোগ্রামার স্বপ্ন দেখেন দেশের প্রথম সারির আইটি ফার্মগুলোর সাথে কাজ করবেন, তাদের সাথে নিজের ভাবনার আদানপ্রদান হবে। আর নিজের একটা আইটি ফার্ম থাকবে এমনটাও চাওয়া তার। মুহাম্মদ আরিফুল হক ডাকনাম :শিশির জন্ম তারিখ ও স্থান :২৩ আগস্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মায়ের নাম :জাহান আরা বেগম বাবার নাম :মোহাম্মদ মোসাব্বেরুল হক প্রথম স্কুল :চাঁপাইনবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রিয় মানুষ :ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রিয় পোশাক :পায়জামা, পাঞ্জাবি অবসর কাটে যেভাবে :ফেসবুকে সাফল্যের সংজ্ঞা :নিজের সফলতাটকু সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। ---- এ স এ ম শ রি ফু ল আ ল ম সিনিয়র ম্যানেজার, আইসিটি , ইস্টার্ণ ব্যাংক লিমিটেড যশোর বোর্ড থেকে এইচএসসিতে ফার্স্ট স্ট্যাণ্ড করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্সে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। সরাসরি আইটি বা প্রোগ্রামিংয়ের সাথে সখ্যতা না থাকলেও পরবর্তীতে এই ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতায় নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন অনন্য এক অবস্থানে। শুরু থেকেই আছেন তিনি ইস্টার্ন ব্যাংকের সাথে। সেখানে তিনি একজন সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, সেই সাথে কোর ব্যাংকিং ডিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার। বলছিলাম এসএম শরিফুল ইসলামের কথা, আপনজনদের কাছে তিনি তাপস নামেই পরিচিত। ‘আমরা কি অনুভব করি কী অভাবনীয় একটা সময়ে আমরা বাস করছি? এইতো একটু আগে আমি ডানে ঘুরে তাকালাম, আর পাঁচ ফুট দূরেই জানালার কাচে দেখতে পেলাম নিজের প্রতিবিম্ব। আমার ছবিটা কাচে প্রতিফলিত হয়ে আবার আমার কাছে ফিরে আসতে অতিক্রম করল প্রায় দশ ফুট। এটুকু যেতে আসতে আলোর সময় লাগল দশ ন্যানো সেকেন্ড। আমাদের ল্যাপটপের প্রসেসরের ক্লক স্পিড যদি ১ গিগা হার্জ হতো তাহলে এই অতি ক্ষুদ্র সময়ে সে প্রায় দশটা ছোট ছোট গণনার কাজ করে ফেলতে পারত! কিন্তু আমাদের কম্পিউটারের স্পিড প্রায় ২ গিগা হার্জ। এবং তার প্রসেসরের কোর আছে ৪টা অর্থাত্ এই সময়েই সে ৮০টা গণনা কাজ শেষ করে ফেলেছে। কী অভাবনীয় এক শক্তির আধার হাতে নিয়ে বসে আছি তা আমরা উপলব্ধি করছি না। আর যারা একটু আধটু উপলব্ধি করি তারাও সেটা ব্যবহারে ব্যর্থ হই কারণ আমরা প্রোগ্রামিং জানি না। আর জানলেও, কখনও নিজের কম্পিউটারের ক্ষমতার আলটিমেট ব্যবহার কী করতে পারি তা নিয়ে ভাবি না আমরা কেউ। কম্পিউটারের সাহায্যে কী অভাবনীয় সব কাজ কর্ম করা হচ্ছে এবং নিজেদের অজান্তেই তার কতকিছু আমরা ব্যবহার করছি সেসবের মূল কথাই প্রোগ্রামিং,’ এটাই ছিল এসএম শরিফুল ইসলামের প্রাথমিক অভিব্যক্তি। শরিফুল বলেন, ‘এই কাজে ভালো করতে হলে সবার আগে দরকার ধৈর্য, তা না হলে টিকে থাকা খুব মুশকিল। তবে আমাদের দেশে এই পেশায় কাজ করার অনেক উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কেউ চাইলেই আর আগ্রহ থাকলে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার অনূকুল পরিবেশ রয়েছে আমাদের।’ নতুনদের কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের অনেকেই বেশ ভালো করছে, এখন দরকার সঠিক গাইডলাইন আর নিজেকেই নিজে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। সেই প্রবণতা তরুণদের মাঝে আছে। আর নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকলে সে আসলে নিজের জগতে থেমে থাকে না। তাকে কেউ আটকেও রাখতে পারে না।’ তরুণ এই আইটি প্রোগ্রামার ও ব্যবস্থাপকের জন্ম খুলনাতে হলেও শৈশব-কৈশোর কেটেছে সীমান্ত শহর যশোরে। যশোর জিলা স্কুল ও ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে পড়াশোনার প্রাথমিক ধাপ সারেন তিনি। বাবা তাদের মাঝে নেই, মা গৃহিণী, আর এখন স্ত্রী-কন্যাকে নিয়েই কেটে যায় তার সুখের দিন। তিনি চান, বাংলাদেশের আইটি খাত অনেকদূর এগিয়ে যাবে, এই পথে তিনি সারথী হবেন। নিজে যে শখের লেখালেখি করেন, সেই দিকটাও চালিয়ে যেতে চান। এসএম শরিফুল আলম ডাকনাম :তাপস জন্ম তারিখ ও স্থান :২৬ অক্টোবর, খুলনা মায়ের নাম :সখিনা আলম বাবার নাম :মরহুম প্রফেসর শেখ নুরুল আলম প্রথম স্কুল :যশোর জিলা স্কুল প্রিয় মানুষ :আমার বাবা প্রিয় উক্তি :আত্মবিশ্বাসে সফলতা আসবেই। প্রিয় পোশাক :জিন্স ও টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :গান শুনে, বই পড়ে। সাফল্যের সংজ্ঞা :নিজের আত্মতৃপ্তিই সফলতা।