সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফাতাহ ও হামাসের সংলাপ
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৫১
স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করিবার অংশ হিসাবে ফিলিস্তিনের প্রধান দুই সংগঠন আলাপে বসিতেছে। দীর্ঘদিন ধরিয়া বিবাদে লিপ্ত ফাতাহ ও হামাসের এহেন বোধোদয় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঝিমাইয়া পড়া সংগ্রামকে নূতন করিয়া যে চাঙ্গা করিয়া তুলিবে তাহাতে সন্দেহ পোষণের অবকাশ নাই। শুক্রবার দুই দলের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা ও রবিবার দলপ্রধানেরা আলাপে বসিবেন বলিয়া জানা গিয়াছে।
খবরে প্রকাশ, মতানৈক্যে লিপ্ত উভয় পক্ষই নূতন করিয়া এই সত্যটি বুঝিতে পারিতেছে যে, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাইতে হইলে সর্বাগ্রে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন। বস্তুতঃ ইহা বুঝিতে অসুবিধা হয় না যে, ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে যদি সত্যিকার অর্থে একটি সমঝোতা হইয়া যায় তাহা হইলে ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সহিত আলোচনায় বসিবার সময় ফিলিস্তিনীরা অনেক শক্ত অবস্থানে থাকিতে পারিবে। ফাতাহ প্রধান ও ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও হামাস প্রধান খালেদ মেশহালের মধ্যেকার আলোচনাতে আব্বাসের নেতৃত্বে একটি সরকার গঠন করিবার বিষয়ে আলাপ হইবার কথা জানাইয়াছে হামাস। অন্যদিকে ফাতাহের দেয়া তথ্যানুসারে ফিলিস্তিনে নির্বাচন অনুষ্ঠান না হওয়া পর্যন্ত তিন বা ছয় মাসের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়েও দুই নেতা আলাপ করিবেন। সন্দেহ নাই যে, হামাসের দিক হইতে আব্বাসকে সরকার প্রধান হিসাবে মানিয়া লইবার ঘোষণা দেয়াটা উভয় পক্ষের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনাকে অনেকখানি বাড়াইয়া দিয়াছে।
উল্লেখ্য, ফাতাহ ও হামাসের মধ্যকার দূরত্ব কেবলমাত্র স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধরণ কিরূপ হইবে তাহা লইয়া নহে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধরনটি কেমন হইবে তাহা লইয়া প্রকান্ড বিভেদ রহিয়াছে। ফাতাহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে সঙ্গে রাখিয়া আলাপ-আলোচনার চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ফিলিস্তিন হাসিল করিতে চাহে। অন্যদিকে, আলোচনা দূরে থাকুক ইসরায়েলের অস্তিত্বই স্বীকার করে না হামাস। ২০০৪ সালে ফিলিস্তিনী স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর পর হইতে ফাতাহ-হামাস সম্পর্ক এতটাই বৈরি হইয়া উঠে যে, একপর্যায়ে পুরা ভূখন্ডের পরিবর্তে ফিলিস্তিনের দুই অংশে এই দুই দলের ঠাঁই গড়িয়া উঠে। গত কয়েক বত্সর ধরিয়া ফিলিস্তিন সরকার ও নিজেদের অধিকারে থাকা ভূমির বড় অংশ অর্থাত্ পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণে রহিয়াছে ফাতাহ। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র অংশ গাজা উপত্যকা রহিয়াছে হামাসের । নিয়ন্ত্রণ লাভ ও নিয়ন্ত্রণ টিকাইয়া রাখা লইয়া উভয় পক্ষের মধ্যে বারংবার সংঘাতের ঘটনাও ঘটিয়াছে।
এইসব কর্মকান্ড ফিলিস্তিনীদিগকে বিভক্ত করিয়া রাখা ব্যতীত আর কিছুই করিতে পারিয়াছে বলিয়া কখনোই মনে হয় নাই। এইবারও সমঝোতার ব্যাপারে উভয় পক্ষের অগ্রসর হইবার মধ্যেও কিছু নিরাশার চিহ্ন দেখা যাইতেছে। সমঝোতা সংক্রান্ত আলোচনা লইয়া অগ্রসর হইবার পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক স্থানে সংঘাতের ঘটনা ঘটিয়াছে। তবু আশা করা যায় যে, এইবার দলীয় স্বার্থের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রে স্থাপন করিয়া ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি লইয়া অগ্রসর হইতে সমর্থ হইবে ফাতাহ ও হামাস। বারাক ওবামা সহসা ইসরায়েল সফর করিবেন বলিয়া শোনা যাইতেছে। এই খবর সত্য হইলে শান্তি-প্রতিষ্ঠায় নূতন একদফা তোড়জোড় যে সহসাই শুরু হইবে তাহাতে সন্দেহ নাই। আর তেমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনের স্বার্থ শক্তিমত্তার সহিত আদায় করিতে হইলে সর্বাপেক্ষা কাজে আসিবে একটি ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিন নেতৃত্ব।