ডায়েট

রাঙ্গামাটির পথে

লেখা ওআলোকচিত্র মুস্তাফিজ মামুন কাপ্তাই লেকের বুকে ছোট্ট একটি গিরিশহর রাঙ্গামাটি। পার্বত্য চট্টগ্রামের এ জেলার সর্বত্রই রয়েছে নানান বৈচিত্র্যের ভাণ্ডার। এখন এখানে বেড়ানোর মজাই আলাদা। ঢাকা থেকে রাত দশটার বাসে চড়লে খুব ভোরেই পৌঁছায় রাঙ্গমাটি শহরে। শহরে নেমে হোটেলে উঠে একটু বিশ্রাম নিয়ে বেড়িয়ে পড়তে পারেন। প্রথম দিনে শহর ও এর আশ-পাশের দর্শনীয় জায়গাগুলোতে বেড়ানো যেতে পারে। রাঙ্গামাটি শহরের শুরুর দিকটায় রয়েছে উপজাতীয় জাদুঘর। বেবিটেক্সিওয়ালাকে বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে জাদুঘরের দুয়ারে। এখানে রয়েছে রাঙ্গামাটিসহ পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত নানান আদিবাসীদের ব্যবহূত বিভিন্ন সময়ের নানা সরঞ্জামাদি, পোশাক, জীবনাচরণ এবং বিভিন্ন ধরনের তথ্য। ছোট অথচ অত্যন্ত সমৃদ্ধ এ জাদুঘরটি খোলা থাকে সোম থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। শনি, রবি ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনগুলোতে জাদুঘর বন্ধ থাকে। জাদুঘরে প্রবেশে বড়দের জন্য পাঁচ টাকা ও ছোটদের জন্য দুই টাকা লাগে। উপজাতীয় জাদুঘর দেখে চলে যেতে পারেন পাশ্ববর্তী রাজ বন বিহারে। এ অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি তীর্থস্থান এই রাজবন বিহার। এখানে আছে একটি প্রার্থনালয়, একটি প্যাগোডা, বনভান্তের (বৌদ্ধ ভিক্ষু) আবাসস্থল ও বনভান্তের ভোজনালয়। প্রতি শুক্রবার ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে এখানে চলে প্রার্থনা। রাজ বন বিহারে দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারেন কাপ্তাই লেকের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। রাজবনবিহারের পাশেই কাপ্তাই লেকের ছোট্ট একটি দ্বীপজুড়ে রয়েছে চাকমা রাজার রাজবাড়ি। নৌকায় পার হয়ে খুব সহজেই যাওয়া যায় এই রাজবাড়িতে। আঁকাবাঁকা সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে গাছের ছায়ায় ইট বাঁধানো পথের মাথায় এ সুন্দর বাড়িটি। এখানে আরও রয়েছে চাকমা সার্কেলের প্রশাসনিক দপ্তর। এবার লেক পাড় হয়ে বেবি টেক্সি করে চলে আসুন রিজার্ভ বাজারে। ঘুরে ফিরে দেখুন রাঙ্গামাটির ব্যস্ততম এই জায়গাটি। রিজার্ভ বাজার থেকেই রাঙ্গামাটির বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার লঞ্চ ছাড়ে। রিজার্ভ বাজার থেকে এবার চলুন পর্যটন কমপ্লেক্সে। তবলছড়ি বাজার থেকে এখানকার দূরত্ব দেড় কিলোমিটার। রাস্তা সৌন্দর্য দেখতে দেখতে এই অল্প পথ নিমিষেই ফুরিয়ে যাবে। পর্যটন কমপ্লেক্সের ভেতরেই রয়েছে সবার চেনা সুন্দর ঝুলন্ত সেতুটি। দশ টাকার টিকেট কিনে এখানে ঢুকে পড়ুন। ঝুলন্ত সেতু ধরে যতই সামনে এগোবেন ততই ছবির মতো দৃশ্য আপনার দু’চোখকে হাতছানি দিবে। এখান থেকে কাপ্তাই লেকে নৌ ভ্রমণ করতে পারেন। নৌ ভ্রমণের জন্য এখানেই পেয়ে যাবেন নানা রকম বাহন। এ জায়গায় প্রথম দিনের ভ্রমণ শেষ করে হোটেলে ফিরে যান। পরের পুরো দিনটি রাখনু কাপ্তাই লেক ভ্রমণের জন্য। শহরের রিজার্ভ বাজার ঘাটেই পাবেন কাপ্তাই লেকে ভ্রমণের নানা রকম ইঞ্জিন বোট। ঝুলন্ত সেতুর কাছেও এ রকম অনেক বোট পাবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে একটু বাড়তি টাকা গুনতে হবে শুধু শুধু। সারাদিনের জন্য একটি বোট ভাড়া করে সকালে সোজা চলে যান শুভলং বাজার। শুভলংয়ে কিছুটা সময় কাটিয়ে এবার ফিরতে শুরু করুন। ফিরতি পথের শুরুতেই হাতের বাঁয়ে পেয়ে যাবেন শুভলং ঝরনা। এখন শীত বলে ঝরনায় পানি নেই বললেই চলে। তারপরেও অল্প-স্বল্প যা আছে তাতে শরীরটা ভিজিয়ে নিতে পারেন। কাপ্তাই লেকের দুপাশের আকাশ ছোঁয়া পাহাড়গুলোর সৌন্দর্য দেখতে দেখতে চলতে থাকুন। পথে দুপুরের খাবার সেরে নিতে পারেন টুকটুক ইকো ভিলেজ কিংবা পেদা টিংটিংয়ে। শুরুতেই পড়বে টুকটুক ইকো ভিলেজ। কাপ্তাই লেকের একেবারে মাঝে এই ইকো ভিলেজটির সুন্দর সুন্দর কটেজে রাতও কাটাতে পারেন। এর রেস্তোরাঁটিতে পাবেন বিভিন্ন রকম পাহাড়ি মেন্যু। সারাদিন কাপ্তাই লেকের এসব জায়গা ভ্রমণের জন্য একটি ইঞ্জিন বোটের ভাড়া পড়বে ১০০০-২৫০০ টাকা। এ ছাড়া রাঙ্গামাটি শহর থেকে এখন প্রতিদিন শুভলং ছেড়ে যায় আধুনিক ভ্রমণতরী কেয়ারী কর্ণফুলী। প্রতিদিন সকালে ছেড়ে আবার বিকেলে ফিরে আসে। ফিরতি পথে টুকটুক ইকো ভিলেজ কিংবা পেদা টিংটিংয়ে থাকে বিরতি। যাওয়া আসার ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা। কীভাবে যাবেন ঢাকার কলাবাগান, ফকিরাপুল ও কমলাপুর থেকে সরাসরি রাঙ্গামাটির উদ্দেশে ছেড়ে যায় ডলফিন, এস আলম, সৌদিয়া, শ্যামলী ইত্যাদি পরিবহনের বাস। ভাড়া জনপ্রতি ৩৫০-৪৫০ টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য বাস, ট্রেন কিংবা বিমানে চট্টগ্রাম এসে সেখান থেকেও রাঙ্গামাটি আসতে পারেন। চট্টগ্রাম শহরের সিনেমা প্যালেস এবং বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতি বিশ মিনিট পর পর রাঙ্গামাটির উদ্দেশে ছেড়ে যায় বিরতিহীন বাস। ভাড়া জনপ্রতি ৬৫-৮০ টাকা। কোথায় থাকবেন রাঙ্গামাটি শহরে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো হোটেল হলো হোটেল কাঁঠালতলীতে হোটেল সুফিয়া, ফোন :০৩৫১-৬২১৪৫। রিজার্ভ বাজারে হোটেল গ্রীন ক্যাসেল, ফোন :০৩৫১-৬৩২৮২ এবং পর্যটন কমপ্লেক্সের ভেতরে পর্যটন মোটেল, ফোন :০৩৫১-৬৩১২৬। ঢাকা থেকে এ হোটেলেরও বুকিং দিতে পারেন। যোগাযোগ :বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, ফোন :৮১১৭৮৫৫-৯, ৮১১৯১৯২। এ ছাড়াও রাঙ্গামাটির সাধারণ মানের কয়েকটি হোটেল হলো—রিজার্ভ বাজারে হোটেল লেক ভিউ, ফোন :০৩৫১-৬৩৩৭৩, কোর্ট বিল্ডিং বনরূপা এলাকায় হোটেল শাপলা, ফোন :০৩৫১-৬৩৩৯৬।