প্রিমিয়ার হকি লিগের বড় দল ঊষা ক্রীড়া চক্রকে অবনমন করিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। এবছর প্রিমিয়ার হকি লিগে নানা প্রতিবাদে প্রিমিয়ার হকি লিগে অংশগ্রহণ করেনি। গতকাল বিকালে হকি ফেডারেশনের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে লিগে না খেলার কারণে ঊষা আগামী মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে খেলতে পারবে না। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক জানিয়েছেন ঊষাকে রেলিগেটেড করা হয়েছে। তারা লিগে অংশগ্রহণ করেনি। হকি ফেডারেশনের সভাপতি বিমানবাহিনীর প্রধান মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় আরো কিছু সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে বলে সভা শেষে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক জানিয়েছেন। এবছর জুনে শেষ হওয়া প্রিমিয়ার হকি লিগে মোহামেডান ও মেরিনার ইয়াংসের খেলায় হট্টগোল হয়। দফায় দফায় খেলা বন্ধ থাকে। চীনা আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পালাক্রমে মোহামেডান এবং মেরিনারের কর্মকর্তারা হট্টগোল করেন বলে অভিযোগ করে ফেডারেশন কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা হট্টগোলে জড়িয়ে পড়ায় শিরোপা নির্ধারণ হয়নি। শেষ পর্যন্ত মোহামেডানকে লিগ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় এবং মোহামেডান উত্সবও করেছে এরই মধ্যে। কিন্তু গতকাল সেই ম্যাচের দুই দলের কর্মকর্তাদের হট্টগোল নিয়ে সভা হয়। ডিসিপ্লিনারি কমিটির দেওয়া রিপোর্টের উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেডারেশন। মেরিনার ইয়াংসের সাধারণ সম্পাদক হাসান উল্লা খান রানাকে ৫ বছর, দলের ম্যানেজার নজরুল ইসলামকে ৩ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। মোহামেডানের ম্যানেজার আরিফুল হক প্রিন্সকে ৫ বছর, সহকারি ম্যানেজার আসাদুজ্জামান চন্দনকে ৫ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। মোহামেডান ও মেরিনারের ম্যাচের টেকনিকেল কর্মকর্তা নাজিরুল ইসলামকে ৩ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
ফেডারেশনের অভিযোগ দুই ক্লাবের কর্মকর্তারা গণ্ডগোলে নেতৃত্ব দিয়েছেন নিজেরাও গণ্ডগোল করেছেন। ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক জানিয়েছেন শস্তি পাওয়া কর্মকর্তারা অর্থ জরিমানা না দিলে অনাদায়ে বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি ভোগ করতে হবে। মোহামেডানের প্রিন্স, চন্দন এবং মেরিনারের রানা প্রসঙ্গে আব্দুস সাদেক বলেন, ‘এই তিন জন আগেও হকি মাঠে অপরাধ করেছিল। শাস্তি পেয়েছিল। কিন্তু তারা পরবর্তিতে মুচলেকা দিয়ে বলেছিল তারা পুনরায় এমন কাজ করবে না। কিন্তু একই কাজ করেছে। তাই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’
মেরিনারের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে আব্দুস সাদেক জানিয়েছেন তার অপরাধ হচ্ছে সে দলের ম্যানেজার হয়ে গালাগালি করা, ভাঙচুর করেছে। চেয়ার নিয়ে মারামারি করেছে। টেকনিকেল এরিয়াতে গিয়ে গণ্ডগোল করেন তিনি। বিতর্কিত সেই খেলার টেকনিকেল কর্মকর্তা নাজিরুল ইসলামকে আগামী ৩ বছর হকির কোনো দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নাজিরুল ইসলাম প্রসেঙ্গ সভা শেষে বলা হয়েছে নাজিরুল খেলার পর রিপোর্ট দিচ্ছিল না। তার দায়িত্ব যথা সময়ে রিপোর্ট দাখিল করা। কিন্তু সেটা করেনি। আব্দুস সাদেক জানালেন নাজিরুল খেলা পারিচালনায় বিদেশি আম্পায়ারদেরও সহযোগিতা করেনি।’ প্রশ্ন উঠল এতো দিন পর কেন শাস্তির সিদ্ধান্ত? আব্দুস সাদেক জানালেন ডিসিপ্লিন কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে। তার উপর ভিত্তি করে শাস্তির সিদ্ধান্ত। সেই মোতাবেক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি, যেখানে ফেডারেশন সভাপতি নিজেও উপস্থিত ছিলেন।