এ আন্দোলনের গন্তব্য কোথায়
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৫
ইংল্যান্ডের রানির মাতা যখন ইন্তেকাল করেছিলেন তখন সেই শোকে একই সময় সেখানে দু’কোটি লোক দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেছিলেন। এটা ছিল তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতি। ঢাকার শাহবাগের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ৯ দিন যাবত্ যে কর্মসূচি পালন হচ্ছে তা সম্পূর্ণভাবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়। যদিও গণমাধ্যম এটাকে অরাজনৈতিক বলছেন। এই ঢাকা শহরে যানজট বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসাধারণ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। বিরোধী জোটের লোকজন যদি কোন জায়গায় অল্প সময়ের জন্য সমাবেশ করতে চায় তখন সরকারি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দানবের মত ভূমিকা পালন করে। এদেশের অধিকাংশ মানুষ এখন এসব ব্যাপারে সচেতন। দেশের মৌলিক স্বার্থের পক্ষে না এসে একটি দলকে ঘায়েল করতে গিয়ে এসব কর্মসূচি যদি সারা বছরই চলতে থাকে তাহলে বাস্তব উপকার পাওয়া যাবে না।
সাইফুল ইসলাম তানভীর
বাগেরহাট, খুলনা
শাহবাগের এই প্রজন্ম আন্দোলন হচ্ছে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এই আন্দোলন ’৫২র ভাষার আন্দোলন, ‘৬৯এর গণঅভুত্থান, ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ’৯০ এর স্বৈরাচার আন্দোলনকে ছাড়িয়ে যাবে। তরুণ প্রজন্ম এ দেশের ইতিহাসকে জেনেছে। এই আন্দোলনকে রাজনীতিবিদরা তাদের কাজে লাগানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। নতুন প্রজন্মের এই আন্দোলনে বাংলাদেশের বিরাট পরিবর্তন ঘটবে এতে কোন সন্দেহ নেই। এই আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত করতে পারে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র। পতন হতে পারে স্বৈরতন্ত্রের, সন্ত্রাসের আর ধর্মভিত্তিক রাজনীতির।
শাহ মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন হিরো
কালিহাতি, টাঙ্গাইল
জনতার গর্জন শোনা যাচ্ছে বড় বড় শহর থেকে। এ চেতনার প্রদীপ জ্বেলেছেন তরুণেরা। এ শিক্ষা ছড়িয়ে গেছে চারদিকে।
নার্গিস সূলতানা, হাজারীবাগ, ঢাকা
যুদ্ধাপরাধীসহ সকল রাজাকারের সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে শাহবাগের আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রাজপথে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব বৃদ্ধি পেলে দেশের জনগণ বাধ্য হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। ইতিমধ্যে পুলিশ ও জামায়াত শিবিরের মধ্যে ককটেল ও গোলাগুলির মধ্যে অনেকে নিহত ও আহত হয়েছে। দেশে সকল প্রকার সহিংসতা পরিহার করে জামায়াত-শিবিরকে আগামী দিনে জাতি গঠনে আত্মনিয়োগ করার মাধ্যমে মহত্ রাজনৈতিক পরিচয় দিবার আহ্বান জানাই।
মাহবুব উদ্দিন মৌধুরী, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা
স্বাধীনতা উত্তরকালে সত্য, সুন্দর ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার দাবিতে নতুন প্রজন্মের ডাকে মানুষের এমন মহামিলন আর কেউ দেখেনি। এ এক অভূতপূর্ব ঘটনা। সবমিলে শাহবাগে হয়ে উঠেছে সব ধর্ম-বর্ণের মিলন ক্ষেত্র। তবে আমরা চাই এর ফলাফল। তবেই হবে সবকিছুর সার্থকতা।
জাহাঙ্গীর খান বাবু, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা
কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সারাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিসহ সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন শিল্পী, সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর লোক। সবকিছুর উপরে হচ্ছে এর সফলতা।
রমিজ, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
আজ সময় এসেছে এই গণরায়কে বাস্তব রূপ দেওয়ার এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠার। সুতরাং আমরা চাই সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার।
মোস্তান সিরুন করিম, ধানমণ্ডি, ঢাকা
আব্দুল কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে লাখো জনতার সম্মিলনে আজ শাহবাগ থেকে সারা দেশ উত্তাল। এই গণজোয়ারের মাধ্যমে দেশকে রাজাকার মুক্ত করাই হচ্ছে প্রধান কাজ সরকারের।
মো. সেলিম, মহাখালী, ঢাকা
সরকারকে অবশ্যই জনদাবি ও মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে সম্মান জানাতে হবে। তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও পূরণ করতে হবে। সেজন্য আমরা বলবো সরকারকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে।
হোসনে আরা
এনায়েতগঞ্জ লেন, পিলখানা, ঢাকা
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগে তরুণদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে, একে আন্দোলন বলা যায় না। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে যুদ্ধাপরাধীদের ন্যায়সঙ্গত বিচার করার জন্য দাবি জানিয়ে তরুণগণ গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে। বাংলার ইতিহাসে এই প্রতিবাদ স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। মাতৃভাষার আন্দোলন, স্বাধীনতার আন্দোলন, বর্তমানে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বন্ধে অপরাধীদের বিচারের রায় কঠোর না হলে তরুণদের প্রতিবাদ চলবেই। প্রথমত তরুণদের যোগ্যতা অর্জনের জন্য শিক্ষা গ্রহণের দায়িত্ব রয়েছে। দ্বিতীয়ত, জাতি গঠনে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণদের দায়িত্ব অপরিসীম। ‘তরুণদের গন্তব্য সারা বিশ্বময়। আমরা শক্তি আমরা বল, আমরা ছাত্রদল, মোদের পায়ের তলায় মুর্ছে তুফান, উর্ধ্বে বিমান ঝড় বাদল, আমরা ছাত্রদল।’
আশা এলিজাবেত গোমেজ
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা-১১০০
শাহবাগে যেসব তরুণ-তরুণী নতুন দিনের আলো জ্বেলেছেন, সে আলো-শাহবাগ ছেড়ে ৫৬ হাজার বর্গমাইল আলোকিত করেছে, সেই আলোয় উদ্ভাসিত হবে আমাদের এই বাংলাদেশ। এই আলো স্বাধীনতার চেতনার পুনর্জাগরণ হোক এমনটাই প্রত্যাশা আজকের দেশবাসীর।
মোঃ মোজাহারুল ইসলাম
চেয়ারম্যান
ইন্টারন্যাশনাল ডায়লগ এইড ফাউন্ডেশন
সাভার, ঢাকা
রাজপথের আন্দোলনের প্রতিধ্বনি শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদেও উচ্চারিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
রবিউল ইসলাম রবি, শাহবাগ, ঢাকা
কোন রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্ব নেই শাহবাগের এই তারুণ্য স্কয়ারে। স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশ থেকে তাই জনদাবিই প্রতিফলিত হচ্ছে বার বার। এই আন্দোলন মূলমন্ত্র হিসেবে একাত্তরকে ধারণ করায় হারিয়ে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলোর বিষয়েও সোচ্চার হয়েছে আন্দোলনকারীরা। আমরা চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, এখন একমাত্র দাবি তাদের ফাঁসি।
এস.কে মোহাম্মদ রমিজউদ্দিন
সাবেক এজিএস
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে এ প্রজন্মের তরুণদের গণআন্দোলন যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে সরকারি ও বিরোধী দল, সমাজবিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্ট বোদ্ধামহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। মূলত এতে উদ্বেগের কারণ ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলন এভাবেই শুরু হয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে সক্ষম হয়েছিল। কাজেই ধীরে ধীরে শাহবাগ তথা প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনও তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছবে। ইতিমধ্যে তার মূল লক্ষ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে উভয়পক্ষ কর্তৃক আপিলের সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে এবং করছে। তাছাড়া বিগত কয়েকমাস ধরে জামায়াত-শিবির যে তাণ্ডব শুরু করেছে তাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তো দূরের কথা, বরং প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা পর্যন্ত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। শাহবাগ তথা প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের পর পুনরায় সংশ্লিষ্ট সবাই গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। অপরপক্ষে জামায়াত-শিবির তাদের স্বভাবসুলভ গর্তে প্রবেশের পথ খুঁজছে। ইতিমধ্যেই চরম ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে শাহবাগের আন্দোলনকে তাদের অনুসৃত তথাকথিত ইসলামের দুশমনদের চক্রান্ত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাদের পূর্বসূরিরা এই ধরনের ফতোয়া ১৯৫৪ সনেও দিয়েছিল। তখন তারা বলেছিল এতে বউ তালাক হয়ে যাবে। কিন্তু ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মওদুদি ফতোয়ায় বিভ্রান্ত না হয়ে যুক্তফ্রন্টকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে এনেছিল। ১৯৭১ সনে আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে এই জামায়াত-শিবির তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দেশে-বিদেশে হিন্দু আখ্যায়িত করে এদেশে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, রাহাজানি, অগ্নিসংযোগসহ ঘৃণ্য ঘটনা ঘটিয়েছিল। কিন্তু ধর্মপ্রাণ বাঙালি মুসলমানগণ তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ে মাত্র নয় মাসে তাদের অলীক স্বপ্নসাধ ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে আমাদের চরম ও পরম কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছিল। অপরদিকে জামায়াত-শিবিরের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় ত্রিশ লক্ষ বাঙালি শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিক্রমায় পুনরায় তারা যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং দিনে দিনে উদ্ধত আচরণ শুরু করেছে তা এ প্রজন্মের তরুণেরা কোনমতেই মেনে নিতে পারেনি বলেই শাহবাগ নামক প্রজন্ম চত্বরে সমবেত হয়ে এক অভূতপূর্ব আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এই মহান অহিংস আন্দোলন মহাত্মা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং, বঙ্গবন্ধু, নেলসন ম্যান্ডেলা, জাহানারা ইমামের আন্দোলন এবং হালের নিউইয়র্ক, তিউনিসিয়া, মিসর ও আরব বসন্তের আন্দোলনকে ইতিমধ্যে বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছে। কাজেই জয় তাদের অবিশ্যম্ভাবী। যেহেতু লক্ষ্য তাদের স্থির, সেহেতু কাঙ্ক্ষিত ফললাভ সম্ভব হবেই হবে।
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
আরমান ভুঁইয়ারবাড়ী, চৌমুহনী
হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
আবালবৃদ্ধবনিতার প্রতিবাদে উত্তাল শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর। আন্দোলনের অষ্টম দিনেও পরিলক্ষিত হয়নি কোন ক্লান্তিকর পরিবেশ। দিন যত যাচ্ছে আন্দোলন তত তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। তারুণ্যের এ জাগরণ যেন মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের পর থেমে না যায়। এরপর যেন তরুণরা পাকিস্তানের ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে বাধ্য করে, যাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ ক্ষমা করেছিলেন। তবেই এ বিচার পরিপূর্ণতা লাভ করবে। এ প্রজন্মটি যেন দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে সে লক্ষ্যে তাদেরকে সহযোগিতা দিতে হবে। তরুণরা যেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তৈরি করতে পারে সুন্দর একটি বাংলাদেশ। যে দেশে মন্ত্রী কেন পিয়নও ঘুষের বাণিজ্যে লিপ্ত থাকবে না। ৪০ বছরের এ ঘুণে ধরা সমাজটি তৈরি হবে আদর্শ ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে। যেখানে থাকবে না নারী নির্যাতন, খুন, বেহায়াপনা, অশালীনতা ও অশ্লীলতা।
ডা. মর্জিনা অক্তার
বারিধারা পাইল্স কিউর সেন্টার, গুলশান, ঢাকা
যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে নয়, শাহবাগে আন্দোলন চলছে, যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে। কারণ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীর বিচার চলছে। রায় হচ্ছে, ফাঁসির বিরুদ্ধে গেলে রায় বিতর্কিত বা কাঙ্ক্ষিত হচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে তরুণদের আন্দোলন বেগবান হচ্ছে। শাহবাগ আন্দোলন সমগ্র দেশকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছে। সমস্যা দেখা দিয়েছে বিচারিক কাজ চালাতে গঠিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ও বিচার কাজে জড়িত বিজ্ঞ বিচারকগণের। যুদ্ধাপরাধীরা ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত বলছে, অন্যদিকে আন্দলনকারী তরুণরা বলেছেন, ফাঁসি ছাড়া কোন রায় তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাত্ ট্রাইব্যুনাল ও বিচারের রায় উভয়পক্ষই অনাস্থা জানাচ্ছে, “গ্লাসের অর্ধেক খালি বা গ্লাসের অর্ধেক পানি” বলে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ষোল কোটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে তরুণদের অনিয়ন্ত্রিত আবেগের কাছে বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হবে। বিলম্বে হলেও বিএনপির বোধোদয় হয়েছে, তারা শাহবাগে অবস্থানরত তরুণদের প্রতি স্বাগত জানিয়েছে। এখন সার্বজনীন রূপ দিতে পারলে তরুণদের আন্দোলনের ফসল ষোল কোটি মানুষের ঘরে তোলা সম্ভব। এই “দ্রোহ” সময়ের অনিবার্য দাবি ছিল। শাহবাগে তা অরুণোদয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই আগুনে রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম, দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সকল কূটকৌশলকে জ্বালিয়ে দেয়ার এই এক মাহেন্দ ক্ষণ। নিষ্পাপ তরুণদের এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলতে চাই, এই আন্দোনের ফসল কোন রাজনৈতিক দলের নয়, এই আন্দোলন কোন গোষ্ঠীর নয়। এই আন্দোলন একান্তই ষোল কোটি জনগণের এবং পরিশেষে বলতে চাই, “সকল রাজনীতিক পূর্বাপর সকল পাপের ক্ষমা চেয়ে শাহবাগে আন্দোলনরত তরুণদের ‘ফুলচন্দন’ দিয়ে বরণ করে, উদিত রবিদের স্ব-স্ব গৃহে পাঠিয়ে, রাজনীতিকরা পূত ও পবিত্র হয়ে ষোল কোটি জনগণের জন্য রাজনীতি করুন এবং তরুণদের এই দ্রোহ অন্তরে লালন করে দেশসেবা করুন।
মুরাদ হোসেন
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর
রক্ত ঝরার মাস ফেব্রুয়ারি, দাবি আদায়ের মাস ফেব্রুয়ারি । ১৯৫২ সালে মায়ের ভাষায় কথা বলার জন্য বাঙালিদের সংগ্রাম করতে হয়েছে । দাবি আদায় হয়েছে। বাংলা ভাষা এখন শুধু বাঙালিদের ভাষা নয়, বাংলা ভাষা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে । ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সাল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ৪১ বছর। স্বাধীনতাযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে । পলাতক বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় হয়েছে । বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় নিয়ে অনেক মহল বিভিন্নভাবে ধূম্রজাল সৃষ্টি করেছিল । প্রধান বিরোধী দল এ রায়কে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা হচ্ছে বলে বিবৃতি দিয়েছে ।
এবার মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্ল¬ার রায় ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল । তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে । এ রায় প্রত্যাখ্যান করে তরুণ প্রজন্ম শাহবাগ চত্বরে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণের ডাক দিয়েছে । তরুণ প্রজন্মের ডাকে সাড়া দিয়েছে দেশের বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, শিশু, মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণ । চলছে শ্লে¬াগান, শুরু হয়েছে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। বহির্বিশ্ব হতেও অনেকে যোগ দিয়েছে এ যুদ্ধে। দাবি একটাই যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা দিতে হবে ।
৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও ১৮ দলীয় জোটের মুখপাত্র মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর প্রয়াত জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতের সময় বলেছেন, শাহবাগের মহাসমাবেশ গণতন্ত্রের জন্য জণগণের আন্দোলন, গণতন্ত্র ও তাদের অধিকার আদায়ের জন্য জনগণ জেগে উঠেছে । এ আন্দোলনে বিজয় হবেই । এই ঐক্য সর্বক্ষেত্রে যেন বজায় থাকে । হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি এখান থেকে বন্ধ হয় । সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয় । এ দাবি তরুণ প্রজন্ম ও দেশবাসীর। জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলছে । জনগণের দাবি বিরোধী দল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করবে । দশম জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নির্ধারণ করবে । রাজনৈতিক চর্চা হবে জাতীয় সংসদ ভবনে । রাজপথের অপরাজনীতি হতে জনগণ মুক্তি চায় । আর যদি বিরোধী দল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ না দেয় তাহলে সচিব সাহেবের বক্তব্য মায়াকান্নায় রূপান্তরিত হবে।
তরুণ জনতার আন্দোলন চলছে, আন্দোলন আরও বেগবান হবে। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসির রায় দিয়ে দেশ ও জাতিকে অভিশাপমুক্ত করতে হবে । মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা গড়তে হবে । ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস হবে আর একটা ইতিহাস। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাস হিসেবে । এ দাবি তরুণ প্রজন্ম ও জনতার দাবি ।
ডা. এস এম মোশারফ হোসেন
আলমপুর, শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ-১৫৪৪
দিন যত যাচ্ছে ততই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে আমরা দেখতে চাই এর সঠিক বিচার।
বিপ্লব আলম, উর্দ্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ট্রাইবুনাল আইন সংশোধনের খসড়া গত ১১ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। সংশোধিত আইনের খসড়ায় আপিলের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের জন্য সমান সুযোগ রাখা হয়েছে। সুতরাং সব দিক বিবেচনা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি এখন সারা দেশের মানুষের।
মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু
সাপ্তাহিক অর্থকণ্ঠ, মহাখালী,ঢাকা
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত নতুন প্রজন্ম শাহবাগের মহাসমাবেশে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি করে যে আন্দোলনের সূচনা করেছিল আজ তা ১০ দিনেরও বেশি অতিবাহিত হতে চলেছে। তবে সেই সূচনা থেকে এ আন্দোলন বিস্তৃত সারা বাংলাদেশে। আমরা চাই এই আন্দোলনের একটা সুরাহা হবে।
মুজিব, উত্তরা, ঢাকা
প্রজন্ম চত্বরে তরুণ সমাবেশে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হচ্ছে। এই আহ্বানে সারা দেশব্যাপী আজ আন্দোলনের জোয়ার বেড়েই চলেছে। আমরা চাই সঠিক ফলাফল।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ
মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের দেখানো পথ ধরে নতুন প্রজন্ম আবারও দাবি তুলেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের। সেই দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে গত ১০ দিন যাবত্ লাগাতার অবস্থান নিয়েছে তরুণ প্রজন্মের লাখো জনতা। আমরা চাই এ লাগাতার অবস্থানের সফলতা।
কাউছার আকন্দ
টাইমস আই বেঙ্গলী ডট কম, মতিঝিল, ঢাকা
রাজপথের আন্দোলনের প্রতিধ্বনি শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদেও উচ্চারিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে যেমন এ দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধ ছিল, তেমনি অবস্থায় জাতি ফিরে যাবে কিনা-সেটাই এখন ভাবনার বিষয়।
মো. শওকত আলী শাহীন, মহাখালী
শাহবাগের এই গণআন্দোলন অনুরূপভাবে রাষ্ট্রীয় অন্যান্য জরুরি ক্ষেত্রেও, বিশেষ করে কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য ও জাতীয় সম্পদসহ রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে জাতীয় স্বার্থে রক্ষা ও সুষম বণ্টনের ক্ষেত্রে এই সোচ্চার ভূমিকার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।
ফারুক আলম, মালিবাগ, ঢাকা
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগের স্কয়ারে তারুণ্যের যে একাত্মতা ঘোষিত হয়েছে, তা সফল হওয়া উচিত।
শিশির, পিলখানা, ঢাকা
রাজধানীর শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন চলছে ১ সপ্তাহেরও বেশি। কিন্তু জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে। শাহবাগের মত সারা দেশে একই দাবিতে স্বাধীনতার পক্ষে গণমানুষ একাত্মতা জানিয়েছে। শাহবাগের আন্দোলনকারীদের ওপর জামায়াত-শিবির হামলা করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি যাতে ঘটাতে না পারে সেজন্য যতদিন আন্দোলন চলবে, ততদিন আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা দিতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি বাস্তবায়ন করার জন্য সরকার অবশ্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করেছে। এখন সংসদে পাস হলে আন্দোলনকারীদের তথা জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হবে। স্বাধীন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধে আটক কাদের মোল্লাসহ বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন, সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। জনগণের ১টি দাবিতে পরিণত হয়েছে রাজাকারদের ফাঁসি কার্যকর করা। যেহেতু জনগণ সকল ক্ষমতার উত্স। তাই জনগণের ইচ্ছার এই আন্দোলন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে আন্দোলনের অবসান এ সরকারকেই ঘটাতে হবে। রাজাকারদের ফাঁসি কার্যকর করতে না পারলে মহাজোট সরকার জনগণের কাছে ভোট চাইতে পারবে না।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনকে আরো বেগবান করার জন্য ঠাকুরগাঁয়ের ৭১-এ শতাধিক বিধবাদের ঢাকায় নিয়ে এসে প্রচার মাধ্যমে তাদের দুঃখ-কষ্ট এবং মানবেতর জীবন-যাপনের কথা দেশবাসীকে এবং নতুন প্রজন্মকে ও বিশ্ববাসীকে জানানো দরকার। এদের অভিজ্ঞতা বর্ণনার জন্য একটা নির্ধারিত দিনে কার্যক্রম ঘোষণা করা উচিত। এই আন্দোলন শেষ হবে ফাঁসিতে।
এস এম কানিজ ফাতিমা, সাভার, ঢাকা
চলমান নতুন প্রজন্মের এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বলছি, এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। এ দাবির সঙ্গে নতুন নতুন আরো কিছু বিষয় যদি যোগ করা হয় তাহলে অন্দোলনটা আরো প্রাণ পেতো। ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মই তো নেতৃত্ব দেবে। আমরা শুধু অতীত নিয়ে কেন পড়ে থাকবো? মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের মতো সকল দলের যুদ্ধাপরাধীদের সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হোক। তরুণদের এই গণজাগরণ মঞ্চ যেন কোনো রাজনৈতিক দল কুক্ষিগত না করতে পারে সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি।
মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, বগুড়া সদর, বগুড়া
ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল। নতুন প্রজন্ম যারা আজ আন্দোলন করছে তাদেরকে লাল সালাম।
ফওজিয়া মুন্নি, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা
নির্লজ্জকে লজ্জা শেখাবে কে? অপরাধী কবে করবে নিজের অনুশোচনা? তবে নতুন প্রজন্ম কেন তাদের সঙ্গে যাবে? কবে জানবে তারা তাদের আসল রক্তাক্ত ইতিহাস। শাহবাগ কি পারবে?
ডা. মো. হাসনাত আনোয়ার
ধানমণ্ডি, ঢাকা
প্রজন্ম চত্বরে গণজাগরণ চলছে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে। বর্তমানে এই গণজাগরণ দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবকিছুর ঊর্ধ্বে কাজ করছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বাংলাদেশের সচেতন মানুষের বিশ্বাস, তাদের দাবি আদায় হবেই। জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব এই গণজাগরণকে থামাতে পারবে না। ফাঁসি কার্যকর করতে এই গণজাগরণ আগামী দিনে আমরণ অনশনে যাবে। ফাঁসি কার্যকর হবেই ইনশাল্লাহ্।
নাসিরউদ্দিন ফুরকান, মিরপুর, ঢাকা
এ আন্দোলনের সুফল সরল পথে যেয়ে কাঙ্ক্ষিত পথের সন্ধান পাক আমরা সবাই তা কামনা করি; কিন্তু শাহবাগ নতুন প্রজন্ম চত্বর যদি পাকসেনা দোসরদের শুধু নারী ধর্ষণ, হত্যা আর লুণ্ঠনকারীদের ফাঁসির রায়ে সন্তুষ্ট হয়ে আন্দোলন সাঙ্গ করে তবে এটি সুখের না হয়ে হবে ভীতিকর। কারণ আমাদের বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ অসত্। তারা কুকর্ম ছাড়া সুকর্ম করে না। আর তাই তাদের উদ্দেশেও রয়েল ব্যাঘ্রসম হুংকার তোমরা ছাড়। তোমাদের হুংকারে তারা ভাল পথে এলে ভাল। নইলে ধর আর শাহবাগ চত্বরে এনে মার। আর যদি এটি তোমরা না করতে পার তবে আমাদেরকেও হয়তো গাইতে হবে" আমিও পথের মতো হারিয়ে যাবো, আসবো না, আর আসবো না কোনোদিন ফিরে।
মো. লুত্ফুর রহমান
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা
আমি মনে করি বাঙালি দেরি হলেও সঠিক পথে চলতে জানে। এই শাহবাগ ঘটনা ছাড়া রাজাকারদের এবং রাজাকারের সঙ্গে যারা হাত মিলিয়েছে তাদের সাথে যুদ্ধ করা সম্ভব হতো না। তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিল যে, আমরাই দেশপ্রেমিক। তাই আমরা তোমাদেরকে সেলুট দিচ্ছি।
সৈয়দ হায়দার আলী
মহাখালী, ঢাকা
যতদিন ফাঁসি না হবে এতদিন এই জাগরণ থামবে না। তা না হলে আন্দোলন চলবেই।
মো. খায়রুল ইসলাম, মধুপুর, টাঙ্গাইল
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বড় যারা তারা ধারণ করেছিল অনেকটা দেখে; কিন্তু নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেছে লেখাপড়া করে, তথ্যচিত্র দেখে, পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে, বড়দের কাছে গল্প শুনে এবং গবেষণালব্ধ প্রবন্ধ পড়ে। সুতরাং এই প্রজন্মের এইভাবে জ্বলে ওঠা অনেকটাই কাঙ্ক্ষিত। কারণ এদেশে সত্ চিন্তা, প্রতিবাদী চেতনা কখনো মার খায়নি। শাহবাগের এই চেতনাকে আমরা স্বাগত জানাই।
ওয়াহিদ মুরাদ, স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর
এই আন্দোলনের উত্সবমুখর সময়কে ভোলা যাবে না। শাহবাগের এই গণজাগরণ সমাবেশের। পরবর্তী ফলাফল যাই হোক। নতুন প্রজন্ম থেকে বিভিন্ন পেশার মানুষের এই একাত্মতা অভূতপূর্ব। অনেক তরুণ স্বাধীনতা দেখেনি, ৯০-এর গণআন্দোলন দেখেনি। তারা এখন উপলব্ধি করতে পারছে আন্দোলনের রেশ।
আবদুর রশিদ, ধানমন্ডি, ঢাকা
নেতৃত্ববিহীন আন্দোলন "ফলাফল অনিশ্চিত। কাণ্ডারিবিহীন নৌকার মতই এই আন্দোলন।
ডা: বরকত
জহিরুল ইসলাম মেডিক্যাল হাসপাতাল
বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ
জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাসহ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে জনতা আজ জেগে উঠেছে। এ দাবিতে প্রজন্ম চত্বরে জনতার চতুর্মুখী স্রোত গিয়ে মিলেছে। শাহবাগ এখন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মোহনায় মিশেছে।
নাসরিন সুলতানা, নিউইয়কর্, যুক্তরাষ্ট্র
কোন রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতা নয়। শাহবাগের এ আন্দোলন গড়ে উঠেছে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে। এ আহবান শেকড়ের কাছে ফিরে পাওয়ার আহবান। জাতিকে যে সম্ভাবনাময় আলো দেখিয়েছে তারুণ্যের এই মহাজাগরণ" আমাদের সেই পথেই চলতে হবে।
মেজবাহউদ্দিন সেলিম, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শাহবাগে নতুন প্রজন্মের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তার কোন যুক্তি নেই। সুদীর্ঘ ৪২ বছর পরে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের প্রকাশ্যে বিচার চলছে। এ বিচার কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করবার জন্য একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে নেমেছে। যুদ্ধাপরাধীদের নামে আদালতে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করে মামলার রায় ঘোষণা করবেন, এটাই আইন ও আদালতের রীতি। আদালতে রায় যদি রাস্তায় ফয়সালা করা হয়, তাহলে দেশে আইন-আদালতের কোন প্রয়োজন নেই। এ সব আন্দোলন বিচার বিভাগকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। যার ফলে বিচারকরা মামলার শুনানিতে অবশ্যই বিব্রতবোধ করতে পারেন। এভাবে আন্দোলন চলতে থাকলে বিচারের রায়ে কোন ব্যক্তিই সন্তুষ্ট হতে পারবে না। আন্দোলনকারীদের এটাও স্মরণ রাখা উচিত পিজি হাসপাতাল, ডেন্টাল কলেজ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ সেসব জায়গার একমাত্র প্রবেশপথ শাহবাগ। সে পথটাই বন্ধ করে দিয়েছে। দেশের মধ্যে হাজার সমস্যা বিদ্যমান। সে ব্যাপারে আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোন কথা নেই। শেয়ারবাজার ধ্বংস, হলমার্ক কেলেংকারি, ডেসটিনি দুর্নীতি ইত্যাদি ব্যাপারে তাদের কোন কথা নেই।
হাজী মো. দেলুয়ার হোসেন
১/১৭/ডি শিকদার রিয়েল এস্টেট, টালী অফিস, ঢাকা
আমরা কেউ এখনো বুঝতে পারছি না এর শেষ কোথায়। কবে কখন শেষ হবে। দিন দিন আন্দোলনের ব্যাপ্তি বেড়েই চলেছে। আমারও প্রশ্ন এ আন্দোলনের গন্তব্য কোথায়? কোন না কোন নেতৃত্ব আসা উচিত। নেতৃত্ববিহীন আন্দোলন কি হয়? তাই আমার মনে হয় নেতৃত্বের প্রয়োজন। নেতৃত্বের প্রয়োজন আছে।
জাহানারা বেগম
৪৮৮ ইব্রাহিমপুর, কচুক্ষেত, ঢাকা
একাত্তরের পর ২০১৩"তারুণ্যের এই গণজাগরণকে আমরা সাধারণ জনগণ জানাই অকুণ্ঠ সমর্থন। রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধীদের জানাই ধিক্কার। তরুণ প্রজন্মের এই কর্মসূচি যখন বেগবান হচ্ছে তখন একট বৃহত্ রাজনৈতিক দল নিজেদের এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। যদি এই আন্দোলনের নেতৃত্বে সাধারণ তরুণদের পরিবর্তে কোন রাজনৈতিক দল আসে, তাহলে এই কর্মসূচির চূড়ান্ত সাফল্য পাবে না।
মূসা আমান, খিলগাঁও, ঢাকা
শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন চলছে ১ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে। এই আন্দোলন কোন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন নয়; এটি গণমানুষের যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন। ফাঁসির দাবিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলন, সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। শাহবাগের মত সারাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে স্বাধীনতার পক্ষে গণমানুষ একাত্মতা জানিয়েছে। কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বে না। শাহবাগের আন্দোলনকারীদের ওপর জামায়াত-শিবির হামলা করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি যাতে ঘটাতে না পারে সেদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সজাগ থেকে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা দিতে হবে। স্বাধীন বাংলাদেশে বাচ্চু রাজাকার, কাদের মোল্লা, মুজাহিদ, সাঈদী, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, গোলাম আজমসহ বিচারাধীন সব যুদ্ধাপরাধী, রাজাকারদের ফাঁসি দিতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর করে এই আন্দোলনের অবসান সরকারকেই করতে হবে।
মো. লিটন গাজী
দক্ষিণ টেংরা, সারুলিয়া, ডেমরা, ঢাকা-১২০৫