বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

একটা উদার মনের জন্ম দিতে হবে আগে বর্তমানে বাংলাদেশে যে রাজনীতি চলছে সেটা যে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি নয়, তা বলার জন্য বিস্তারিত লেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। আমাদের দেশে এখন অনেকটা প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে। এই যে প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি বর্তমানে বিরাজ করছে, এটার শেষ হবে কবে? আমরা কি একটা সুস্থ রাজনীতিতে ফিরতে পারবো না কখনোই? স্বাধীনতার এত বছর পরে এসে আমরা কতটা পরিবর্তন হতে পেরেছি? বর্তমান বাংলাদেশে যে রাজনীতি চলছে এটা এক কথায় একটা অসুস্থ রাজনীতি, একটা সাংঘর্ষিক রাজনীতি। আর এই সাংঘর্ষিক রাজনীতির চরম মূল্য দিচ্ছে দেশের সাধারণ জনগণ। যতদূর জানি, রাজনীতি হচ্ছে একটি জনসেবামূলক কাজ। উদার বলে যে একটা কথা আছে এটা বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতির ডিকশনারিতে নেই বললেই চলে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, বাংলাদেশের অনেক রাজনীতিবিদ আছেন যাদের উদার একটা মনই নেই, সবার আগে উদার একটা মনের জন্ম দিতে হবে। যে মনটা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সর্বদাই কাজ করার মানসিকতা তৈরি করবে। কবির খন্দকার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০০০০ প্রয়োজন গণমুখী গণতন্ত্র জনতার রায় নিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি যখন আমাদের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মত একের পর এক মিথ্যে প্রমাণিত হতে থাকে, ক্ষমতার মসনদে বসে যখন রাজনৈতিক নেতারা ভুলে যান তাদের অতীত, ভাবতে চান না তারাও ঐ সাধারণ মানুষদেরই একজন; তখনই জনমনে প্রশ্ন জাগে এই কি গণতন্ত্র? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জনপ্রিয়তা আর পেশীশক্তি বিবেচনায় দলীয় মনোনয়ন পাওয়া এসব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের গণতন্ত্রের স্বরূপ বিশ্লেষণের চেয়ে ক্ষমতার দাপট আর সম্পদের পাহাড় গড়ার দিকেই ধাবিত হতে দেখা যায়। ফলে তারা বুঝতে পারেন না কত দ্রুতই ‘জনপ্রিয়তা’ কমে তাদের! তাইতো স্বাধীনতার এত বছর পরও উন্নত বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মত পূর্ণ সমর্থন নিয়ে ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয়বার সরকার গঠনে সক্ষম হতে দেখা যায়নি কোন দলকেই। এতে কদাচিত্ গৃহীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলোও মুখ থুবড়ে পড়ছে বার বার! এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যেখানে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো ছুটছে রকেট গতিতে সেখানে আমরা লোকাল ট্রেনে উন্নয়নের যাত্রী! দুর্নীতি যার গতিরোধ করছে প্রতিনিয়ত। রাকিবুল হাসান রাসেল হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ ঢাকা। ০০০০০০০০০০০০০ গণতান্ত্রিক রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রধান দুই দলেরই জনগণের পাশে দাঁড়ানো আবশ্যক বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক অবস্থা দেখে মোটেই মনে হয় না যে, এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশ। বাংলাদেশ যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক দেশ, তাই এখানে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া আবশ্যক। বক্তৃতার ময়দানে দেখা যায় রাজনৈতিক দলের নেতারাই প্রধান। তাদের বক্তৃতায় চারদিক মুখর। অথচ সেখানে জনগণের মতামতের কোন প্রয়োজন পড়ে না। বাংলাদেশে দেখা যায় সরকারি দল বা বিরোধীদল যেকোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেন। আর তা সাধারণ জনগণ মেনে নিতে বাধ্য। তাই সরকারি দল বা বিরোধীদল দেশের যেকোন কর্মকাণ্ডে যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেন না কেন তা যদি জনসাধারণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে করেন তবেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। কথায় আছে, ‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।’ তাই সরকারি দল ও বিরোধীদল সাধারণ জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলেই রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিচয় পাওয়া যাবে বলেই আমার ধারণা। রোকসানা রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ১ম বর্ষ, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ। ০০০০০০০০০০০০০ পারস্পরিক সহনশীলতা, সমঝোতা ও সংলাপই উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে যে সুনাম অর্জন করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু দুঃখভরা হূদয়ে বলতে হয় যে, গণতন্ত্র আজ অন্ধকার কারাগারে বন্দিত্বের অপেক্ষায় প্রহর গুণছে। আর প্রহর গুণবেই না কেন? যে দেশে সুশীল সমাজ কোন গঠনমূলক সমালোচনা করলে অপমানিত হয়, গণমাধ্যমের বাকরুদ্ধ করে দেয়ার পাঁয়তারা করে প্রভাবশালী নেতারা সেদেশে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা প্রদর্শনে সর্বোচ্চ কার্পণ্যতা দেখায়, সে দেশের গণতন্ত্র অশুভ শক্তির পাদপিষ্ট হয়ে যেকোন সময় প্রাণ হারাতে পারে এটাই স্বাভাবিক। তাই এখনই সময় জেগে ওঠার। উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা অব্যাহত রাখতে নেতাদের অবশ্যই হীনমানসিকতা পরিহার করতে হবে। সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। জনগণের স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে হবে। সাম্প্রতিক সময় যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের স্বাধীনতা প্রজন্ম চত্বর থেকে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে সেটা নিয়েও প্রধান দুই দল যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করছে তা খুবই দুঃখজনক। এই ধরনের জাতীয় ইস্যুগুলোতে দুই দলের এক কাতারে দাঁড়িয়ে একাত্মতা প্রকাশ করা উচিত। যা গণতন্ত্রকে মজবুত করবে। মোট কথা, উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চাকে বেগবান করার জন্য পারস্পরিক সমঝোতা, সহনশীলতা এবং সংলাপ-এর কোন বিকল্প নেই। মো. শাহিনুর রহমান শিমুল, স্নাতক, সম্মান ২য় বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ, শেরপুর সরকারি কলেজ, শেরপুর। ০০০০০০০০০০০ ‘দলের প্রতি আস্থাশীল না হয়ে জনগণের প্রতি আস্থাশীল হতে হবে’ জনগণ এখন আর সরকারের প্রতি আস্থাশীল হয়ে থাকতে চায় না। তাই তো অনেকে বলেই ফেলেন যে সরকারই আসুক আমাদের কোন লাভ নেই। হারিয়ে ফেলেছে রাজনীতির প্রতি বিশ্বাস, তাই জনগণ আর নীতির রাজার কাছে থাকতে চায় না তারা জানতে পেরেছে নীতির রাজা তাদের কাছে নীতির প্রজা হিসেবেই ধরা দিবে। আর রাজা হবে তাদের কাছে যারা প্রত্যক্ষভাবে রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত। তাই দেশের রাজনীতিবিদদের কাছে আমাদের উদাত্ত আহ্বান দেশের মানুষের মূল্যায়ন করুন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করুন। আর তাই আসন্ন নির্বাচনের জন্য জনমত যাচাই করুন, জনগণ কোন মাধ্যমের নির্বাচন চায়। জনমতের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতেই আসন্ন নির্বাচন সংঘটিত হবে বলে আশা করছি। মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, ইংরেজি সাহিত্য (২য় বর্ষ), সরকারি কবি নজরুল কলেজ, ঢাকা।