৪০ জনের নামে মামলা গ্রেফতারি পরোয়ানা

বগুড়ায় আদালতে তাণ্ডব চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। আদালত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (সিএসআই) আতাউর রহমান বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো একশ’ জনকে আসামি করে মামলা করেন। সে সঙ্গে ঘটনায় পুলিশের কোন গাফিলতি ছিলো কি না তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পুলিশের আদালত পরিদর্শককে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। একইসাথে যে ৩৪ জনের জামিন বৃহস্পতিবার ঘটনার আগে মঞ্জুর করা হয়েছিল তা বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত এদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সূত্র জানায়, গত ১৩ ডিসেম্বর হরতাল চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাংচুর এবং হামলার ঘটনায় সরকারি আযিযুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক জগলুল পাশা বাদি হয়ে ৪৪ জনের নামোল্লেখ করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৪০ জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আব্দুল হামিদ ৩৪ জনের জামিন মঞ্জুর এবং ৬ জনের জামিন না-মঞ্জুর করেন। এ সময় এজলাসে থাকা আসামিরা শ্লোগান দিয়ে এজলাস ভেঙ্গে বেরিয়ে গিয়ে আদালতের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক ভাংচুর ও নথিপত্র তচনছ করে। তাদের সঙ্গে যোগদেয় আদালতে উপস্থিত থাকা দলের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় জামিন না-মঞ্জুর হওয়া ৬ আসামি জেলা যুবদলের সভাপতি পৌর কাউন্সিলর সিপার আল বখতিয়ার, সাধারণ সম্পাদক আরাফাতুর রহমান আপেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর শাহ মো. মেহেদী হাসান হিমু, শহর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মহরম আলী টফিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা আদিল শাহরিয়ার সুমন গোর্কি ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা শাহ আলমসহ আদালতে হাজির হওয়া ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আদালত ভাংচুর ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগ আনা হয়েছে।