[ তা রু ণ্য ]

শাহবাগের জনজাগরণ প্রচলিত রাজনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ

প্রজন্ম চত্বরে (শাহবাগ) নতুনরূপে জেগে উঠেছে বাংলাদেশ। অতীতের মতো এবারো দেশের তরুণরাই তৈরি করছে এক নতুন ইতিহাস। শাহবাগ থেকে দ্রুতই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটেছে। একাত্তরের ঘাতক-দালালদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে দেশবাসী। পাঁচ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ একদল তরুণ ‘ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক’-এর নামে শাহবাগ মোড়ে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেখানে হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ সমবেত হয়ে কাদের মোল্লাসহ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। একাত্তরে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর হয়ে এ দেশের যেসব কুলাঙ্গার হত্যা-নির্যাতন-লুণ্ঠন-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছিল তাদের বিচার না করে উল্টো তাদের রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ দিয়ে যে অন্যায় করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে প্রজন্ম চত্বরে এক অভূতপূর্ব জনজাগরণ তৈরি হয়েছে। পাঁচ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে শাহবাগে যে সমাবেশ চলছে, তা এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত (১৬ ফেব্রুয়ারি) বারোদিনে পড়েছে। আরো কতদিন এটা চলবে কেউ বলতে পারে না। হাজার কণ্ঠে কেবলই রাজাকারদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে না ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত হচ্ছে। প্রতিদিন শাহবাগের জমায়েতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। মূলত ছাত্র-তরুণদের উপস্থিতি বেশি হলেও কে যাচ্ছেন না জাগরণ মঞ্চে সেটাই বরং প্রশ্ন হয়ে উঠছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে প্রজন্ম চত্বরে গিয়ে শ্লোগান তুলছে ‘সব রাজাকারের ফাঁসি চাই’। তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাচ্ছেন সর্বস্তরের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে গিয়েও অনেকেই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছেন। শিশু সন্তান কোলে নিয়ে মায়েরাও যোগ দিচ্ছেন দলে দলে। কোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে এরকমটা সাধারণত দেখা যায় না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মুক্তিযুদ্ধের বিয়াল্লিশ বছর পর অকস্মাত্ কেন এই জনবিস্ফোরণ ঘটলো তা নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। এই আন্দোলনের তাত্পর্য ও বৈশিষ্ট্য নিয়েও সমাজ সচেতন বিশ্লেষক-বুদ্ধিজীবীরা লেখালেখি করছেন। আমার বিবেচনায় শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে তরুণ সমাজের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে তার মূলে আছে অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় যে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল— আত্মরক্ষা কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ তাদের ছিল না, যেসব মা-বোনের সম্ভ্রম হানি করা হয়েছিল, কোটি কোটি মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করে অসম্মান করা হয়েছিল, তারা সবাই ছিল নিরপরাধ, নির্দোষ। ওই সময় রাজাকার-আলবদর-আলশামস নামের বাহিনী গঠন করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা যেসব অপরাধ করেছিল তা ছিল ক্ষমার অযোগ্য। তারা কোনো সাধারণ অপরাধ করেনি। তারা একটি জাতির স্বাধীন অস্তিত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তারা বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে বানচাল করার জঘন্য অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। তাদের প্রাপ্য ছিল চরম শাস্তি, অথচ তাদের রেহাই দেয়া হয়েছে। নানা রাজনৈতিক স্বার্থচিন্তা থেকে দীর্ঘদিন বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেয়া হলেও গত নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি সামনে আনলে তরুণ সমাজ তার প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তারা বিপুলভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। অথচ উনিশশ’ পঁচাত্তরের পনেরো আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পরবর্তী সময়ে শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার সব উদ্যোগ-আয়োজনই হয়েছিল। কিন্তু যারা এ সব অপকর্ম করেছে, তারা বুঝতে পারেনি যে, সত্যকে কোনোদিন চাপা দিয়ে রাখা যায় না; হুকুম দিয়ে যেমন ইতিহাস লেখা যায় না, তেমনি ইতিহাস কাউকে মার্জনাও করে না। শাহবাগ আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠেনি। এমনকি ছাত্র সংগঠনগুলোও নেই এর নেতৃত্বে। ডাক দিয়েছেন কয়েকজন ব্লগার আর তাতে যুক্ত হয়েছেন অন্য সবাই, ছোট-বড় এবং দলমত নির্বিশেষে। রাজনৈতিক দল আহূত না হলেও এটা বলা ঠিক হবে না যে, শাহবাগে যা ঘটছে তা অরাজনৈতিক— বরং শাহবাগে ঘটছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে তাত্পর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা— যা বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। শাহবাগ আন্দোলন নির্দলীয় এবং আরো স্পষ্ট করে বললে সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে। রাজনৈতিক পরিচয়ে জাগরণ মঞ্চে কাউকে বক্তৃতা দিতে দেয়া হচ্ছে না, কিন্তু যারা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চান, তাদের সেখানে গিয়ে সংহতি জানাতে বাধা নেই। রাজনীতিবিদদের ওই মঞ্চে বক্তৃতা দিতে না দেয়ার কারণ সম্ভবত এটাই যে, তরুণ সমাজ মনে করেন, রাজনীতিবিদদের কথায় এবং কাজে মিল নেই, তারা যা বলেন, তা করেন না। আমাদের রাজনীতিবিদরা যা বলেন রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বললে তা ‘শুধু মিছে কথা ছলনা’। করতালি ও বাহবা নেয়ার এই ছলনা তরুণরা পছন্দ করে না। আমাদের রাজনীতিকরা দায়িত্ব সচেতন নন। তাদের যা করা উচিত ছিল তারা তা করেননি। এসব ‘ব্যর্থ’ নেতাদের মুখস্ত বক্তৃতা তরুণরা আর শুনতে চান না। তরুণরা এখন কাজ দেখতে চান। সে জন্যই জাগরণ মঞ্চে বক্তৃতা কম, শ্লোগান বেশি। প্রজন্ম চত্বরের জাগরণ মঞ্চে সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান— যেটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি। শ্লোগান উঠছে, ‘তোমার আমার ঠিকানা — পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’। ‘তুমি কে আমি কে — বাঙালি বাঙালি’ শ্লোগানও উচ্চারিত হচ্ছে দ্বিধাহীন কণ্ঠে। এ সবই একাত্তরের অমলিন স্মৃতি। অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখেছি, সেই স্বপ্ন পূরণের পথের বাধা সাম্প্রদায়িক-ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠেছে শাহবাগ থেকে, যা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। কেবল রাজাকারদের ফাঁসি নয়, একই সঙ্গে জামায়াত-শিবির তথা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জোরালো দাবিও জাগরণ মঞ্চ থেকে উঠেছে। এই দাবির সাথে যারা একাত্ম হতে পারছেন না, তারা শাহবাগ আন্দোলন সম্পর্কে নানা ধরনের অপপ্রচার শুরু করেছেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করে আন্দোলনে ভাঙন ধরানোর অপচেষ্টা-অপকৌশলও চলছে। তবে আমাদের তরুণ সমাজ এবার অনেক সচেতন। শাহবাগ আন্দোলনকারীদের কোনো সাংগঠনিক কাঠামো না থাকলেও তাদের যে সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক রয়েছে সেটাও যথেষ্ট শক্তিশালী ও কার্যকর। তাছাড়া এটাও তো আমাদের জানাই যে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের চেয়ে ছাত্র-তরুণরাই আমাদের দেশে ইতিহাস সৃষ্টিকারী সব আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সঠিক ধারায় পথ চলতে ছাত্র-তরুণরা অতীতেও অনেক সময়ই বাধ্য করেছেন। এবারও সে ধারাতেই চলেছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ছাত্র-তরুণদের সঙ্গে যারা পথ চলতে পারবেন না, যারা তাদের দাবির সঙ্গে একাত্ম হতে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগবেন, তাদের নাম ইতিহাসের পাতা থেকে খারিজ হয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলনের সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে উজ্জ্বল হয়ে আছে একাত্তরের মার্চের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন। পঁচাত্তরপরবর্তী বাংলাদেশে স্বৈরাচারী-স্বেচ্ছাচারী শাসকদের মোকাবেলা করতে গিয়ে আমাদের দেশে আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ ধারাটি ক্রমশ দুর্বল হয়েছে। তাছাড়া গত কয়েক বছরে প্রতিহিংসার রাজনীতি প্রবল হয়ে ওঠায় রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোও সহিংস হয়ে উঠেছে। জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর ছাড়া যেন রাজনৈতিক কর্মসূচি ভাবা যায় না বা হয় না। কিন্তু শাহবাগে আমরা আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ ধারার পুনরায় ফিরে আসা প্রত্যক্ষ করছি। এ যেন নতুন অধ্যায়, নতুন যাত্রা। জাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা সর্ব অর্থেই নিরস্ত্র, তাদের কাছে কোনো মারণাস্ত্র নেই, আছে স্বপ্নাস্ত্র। রাজাকারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন। কারো হাতেই লাঠি নেই। এমনকি নেই ইট-পাটকেলও। তারপরও তারা অকুতোভয়, উঁচু শির। এতো সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অনেকদিন আমরা দেখিনি। শ্লোগান দিয়ে, গান গেয়ে, ছবি এঁকে, আবৃত্তি করে, অভিনয় করে, আলো জ্বেলে, কিংবা তিন মিনিট নীরব থেকেও যে প্রতিবাদ জানানো যায় এবং তা যে কত শক্তি সঞ্চারী সেটা শাহবাগে প্রতি মুহূর্তে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। উত্সবের মেজাজ অথচ দাবি আদায়ে অনড়, অবিচল। তারুণ্যের অদম্য-অভেদ্য ঐক্যের এই শক্তি দেশবাসীকেও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। প্রজন্ম চত্বরে জাগরণের যে ইতিহাস তৈরি হলো, তা দেশের প্রচলিত রাজনীতিকে যে বড় ধরনের চাপের মধ্যে ফেলবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল— (আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি) যদি এখনই জাগরণ মঞ্চ থেকে সঠিক বার্তাটি গ্রহণ করতে ভুল করে তাহলে তাদের রাজনীতিও চ্যালেঞ্জের মধ্যেই পড়বে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি কাদের মোল্লাসহ সব রাজাকারের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাত্ মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনি দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ সরকার এর মধ্যেই নিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে কিছু গড়িমসি থাকলেও এরপর সরকার আর হয়তো দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগবে না। আপস-সমঝোতার পথে হাঁটলে কী পরিণতি হবে, সেটা শাহবাগে কান পাতলে বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অঙ্গীকার আছে। এখান থেকে সরে যাওয়া তাদের জন্য আত্মঘাতী হবে। আন্দোলনকারীদের আরেকটি দাবি আইন করে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। এ ব্যাপারেও সরকারের তথা আওয়ামী লীগের ইতিবাচক মনোভাব গ্রহণ করা দরকার। বিশেষ করে জামায়াত-শিবির যেভাবে গৃহযুদ্ধের হুমকি দিয়ে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, পুলিশ বাহিনীর ওপর যেভাবে তারা একের পর এক আক্রমণ করছে— তাতে তাদের জন্য গণতান্ত্রিক অধিকার পাওয়ার যৌক্তিকতা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। ‘আমরাও বিচার চাই, তবে বিচার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকমানের হতে হবে’ বলে বিএনপি’র পক্ষ থেকে যে বক্তব্য দেয়া হয়, তা মানুষকে খুশি করতে পারছে না। বিএনপি’র এক নেতা বিবৃতিতে তারুণ্যের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা আছে বললেও আরেকজন এই আন্দোলনকে ‘সাজানো নাটক’ বলেছেন। বিএনপি সমর্থক বলে পরিচিত একটি দৈনিক শাহবাগের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত-শিবিরের হিংস্রতার ব্যাপারে নিশ্চুপ থেকে বিএনপি’রই ক্ষতি করেছে। বিএনপি’র অবস্থান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে— এটা প্রমাণের একটি বড় সুযোগ ছিল বিএনপির আন্দোলনকারীরা বেশ স্পষ্টভাবে এবং জোরের সঙ্গেই বলছেন যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে তাদের পিছু হটা বা ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনের সুফল না নিয়ে তারা ঘরে ফিরবেন না। তাদের এই বক্তব্যের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানাচ্ছেন সারাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ। একাত্তরের পর কোনো ইস্যুতে দেশের মানুষের মধ্যে এরচেয়ে বেশি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন আর লক্ষ্য করা যায়নি। এই প্রবল জনমতের সমর্থন দেয়া বিএনপির কি উচিত নয়?  লেখক :সাংবাদিক ও কলামিস্ট bibhu54@yahoo.com