বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৫১
স্বাধীন হয়েছে সেই কবে আজও প্রতিষ্ঠা হয়নি
প্রকৃত গণতন্ত্র
গ্রাম্য ভাষায় একটি প্রবাদ আছে “সবুরে মেওয়া ফলে।” এ কথার বিপরীতে আমি বলি, অতিরিক্ত সবুর করলে মেওয়া পচে। অর্থাত্ গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য অপেক্ষা করতে করতে গণতান্ত্রিক কথাটি পচন ধরে জন্ম নিয়েছে অগণতান্ত্রিক রাজনীতি। স্বাধীন হয়েছে সেই কবে, আজও প্রতিষ্ঠা হয়নি গণতন্ত্র। ৪১ বছর পরও আমরা অপেক্ষা করছি গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ কবে উদার হবে। এভাবে অপেক্ষা করতে করতে দিন শেষ হবে, রাজনীতি কলুষিত হবে, গণতন্ত্রে পচন ধরবে-কিন্তু গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা হবে না। যতই আমরা দুর্নীতির বিপক্ষে কথা বলি না কেন কাজটা দুর্নীতির পক্ষেই হচ্ছে। গেট, দারোয়ান থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পর্যন্ত সবাই দুর্নীতির ক্ষতিকর ভাইরাসে আক্রান্ত। আর এমন ক্ষতিকর পরিবেশে কী করে গণতান্ত্রিক রাজনীতি জন্ম নেবে। অংকুরেই বিনাশ হয়ে যাচ্ছে আমাদের গণতান্ত্রিক মনোভাব। বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বাধীনতার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। নিরুপায় হয়ে গেছে দেশের সর্বস্তরের জনগণ। যদি সত্যি সত্যিই বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে চায় তবে রাজনৈতিক দলসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। হতে হবে সচেতন ও প্রতিবাদী। আর আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষ করে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির নতুন মোড়ক উম্মোচন করতে হবে। তবেই না আমরা আশা করতে পারি, আগামীতে বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ সুন্দর হবে এবং গণতন্ত্র জন্ম নিবে নতুন করে পুরোনো রাজনীতিতে।
মো. নূরুল ইসলাম
বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রথম বর্ষ ফুড বিভাগ
স্টেট ইউনির্ভাসিটি অফ বাংলাদেশ, ধানমন্ডি, ঢাকা।
বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্
অন্ধকার
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দিন যতই যাচ্ছে ততই রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হচ্ছে। রাজনীতির অঙ্গনে আসছে অশনিসংকেত, যার কারণে গণতন্ত্র আজ বিপন্ন্নর পথে অগ্রসরমান। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সংঘাত অনিবার্য। তাছাড়া ২০০৭ সালে ঘটে যাওয়া ১/১১-এর চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। গণতান্ত্রিক রাজনীতি হচ্ছে গণমানুষের কল্যাণের জন্য একটি সঠিক পথ। এই রাজনীতি যদি কলংকিত হয় তাহলে কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণই বেশি হয়। যা দেশের বর্তমান রাজনীতিতে দেখতে পাচ্ছি। সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে যদি আগামী ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে। যার ফলশ্রতিতে দেশে গণতান্ত্রিক সরকারের মেয়াদ হবে ক্ষণস্থায়ী আর অগণতান্ত্রিক সরকারের মেয়াদ হবে দীর্ঘস্থায়ী। এতে করে ভবিষ্যতে দেশে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে। এর থেকে উত্তরণের একটাই মাত্র পথ,- সমঝোতা স্বাক্ষর। তাই আমি মনে করি গণতন্ত্র সুরক্ষার জন্য দু’নেত্রী উদার মনমানসিকতা নিয়ে এক টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে ফয়সালা করলে ভবিষ্যত্ নতুন প্রজন্মসহ দেশ ও জাতিকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র উপহার দিতে সক্ষম হবে বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস।
মোনতাছির আহমেদ
ডিএইচএমএস, ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা সমাপর্নাথী
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও
হাসপাতাল, ঢাকা।
নির্বাচন নিয়ে গন্ডগোল করে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করবেন না
রাজনীতি মানে রাজার নীতি বা নীতির রাজা- যাই হোক না কেন, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাচন অন্ত:র্বর্তী সরকারের অধীনে হবে না তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে- এই নিয়ে প্রতিদিন সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে চলছে রক্তারক্তি। এ কারণে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। যে ছাত্রের হাতে কলম থাকার কথা, সে অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার পরিণাম যে কি হচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু বিশ্বজিত্ একাই খুন হয়নি, খুন হয়েছে তার পরিবার। বিশ্বজিত্ এবং হত্যাকারীর জীবন বিপন্ন করার জন্য কে দায়ী? সরকার নাকি বিরোধী দলগুলো? তাই আমি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। নির্বাচন নিয়ে এভাবে গণ্ডগোল করে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করবেন না। আপনারা সবার কথা চিন্তা করে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করুন, যেন সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন না হয়। তা হলেই দেশে উদার গণতন্ত্রের হাওয়া বইবে।
মো. আবু তাহের সোহাগ
সারওয়ারজান মডেল স্কুল ও কলেজ, বামনা, বরগুনা
শ্রেণী: একাদশ (১ম বর্ষ), বিভাগ: ব্যবসায় শিক্ষা।
সত্, চরিত্রবান, যোগ্য ও সুশিক্ষিতদের হাতে
নেতৃত্ব দিতে হবে
আগামী দিনে বাংলাদেশে সুস্থ ও উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য সত্, চরিত্রবান, যোগ্য ও সুশিক্ষিতদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়া প্রয়োজন। বর্তমান রাজনীতিতে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও টেন্ডারবাজদের কদর খুব বেশি লক্ষ্য করা যায়-এর মূল কারণ নেতারা জনগণ-এর উপর নির্ভর না করে তাদের উপর নির্ভরশীল হয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোন সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা হচ্ছে না। অথচ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত ছাত্র সংসদ ফি নেয়া হচ্ছে। সুস্থ ও উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য দেশের সকল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নিয়মিত করা খুব বেশি প্রয়োজন। ছাত্র সংসদের মাধ্যমে যোগ্য, মেধাবী ও সত্ চরিত্রবান নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে। পরবর্তীতে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ-এর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির নব-জাগরণ সৃষ্টি হবে। দল-মত নির্বিশেষে দুর্নীতিমুক্ত সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিতে সম্পৃক্ত সকল সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজকে বহিষ্কার করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দল হতে হবে কলঙ্কমুক্ত। তাহলেই আমাদের জনগণ রাজনীতির সুফল পাবে।
নাসির উদ্দিন (মুন্না)
বিএসএস শেষ বর্ষ
চাটখিল মাহবুব সরকারি কলেজ
উপজেলা-চাটখিল, নোয়াখালী।
সকল রাজনৈতিক দলকে ঐকমত্যের ভিত্তি স্থাপন করতে হবে
সংবিধান অনুযায়ী চলতি বছরের শেষের দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তাছাড়া সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা হয়েছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল-এর জন্য দেশে নির্বাচন নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে সম্পর্ক তেমন ভাল নয়। এমতাবস্থায় যদি নির্বাচন হয় তাহলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অবস্থা চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হতে পারে। এই নির্বাচন নিয়ে যদি বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ দেখা দেয় তাহলে দেশটা ধ্বংসের মুখে ধাবিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে সকল রাজনৈতিক দলকে ঐকমত্যের ভিত্তি স্থাপন করতে হবে। তাহলে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠ,ু বিশৃঙ্খলাবিহীন উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি উপহার পাওয়া যাবে।
মো. তারিকুল ইসলাম (প্রিন্স)
কলাগাছিয়া, বামনা, বরগুনা। বামনা সারওয়ারজান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ একাদশ (কর্মাস)।