বাজারসদাই

গ্রিল ও মাইক্রোওভেন

মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা সংক্ষেপে মাইক্রোওয়েভ রান্নাবান্নার কাজে সহায়তাকারী একটি বৈদ্যুতিক বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র। এই মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে খাদ্যবস্তুকে উত্তপ্ত করা হয়। মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাদ্যকে দ্রুত এবং সুষমভাবে গরম করা যায় বলে পূর্বের রান্না করা খাবার পুনরায় গরম করতে, সবজি রান্না করতে এবং স্টু বা ঘন সুরুয়া বা ঝোল জাতীয় খাবার রান্না করতে বেশি ব্যবহূত হয়। কিন্তু মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাদ্যকে ভাজা, পোড়ানো কিংবা বেক করা যায় না বলে পেশাদার রান্নার জগতে এর ব্যবহার সীমিত। কিন্তু স্বল্প সময়ে খাবার গরম করার কাজে এর কোনো জুড়ি নেই। আর তাই ঘরে ঘরে এই মাইক্রোওয়েভের প্রয়োজনীয়তাও অনেক বেশি পরিমাণে দেখা যায়। ইদানীং মাইক্রোওয়েভ ওভেন বেশির ভাগ ঘরে ঘরেই ব্যবহূত হয়। ছোটখাটো টুকটাক কাজেও দেখা যায় এটাই ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি চা বানাতে ১ কাপ টগবগে ফুটন্ত গরম পানি করতে কিংবা একটু ঠাণ্ডা বা জমে যাওয়া ভাত-তরকারি একটুক্ষণ গরম করে নিতেও মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করা হয়। সঙ্গে মজাদার খাবার তৈরির কাজও রয়েছে। এই বৈদ্যুতিক যন্ত্রটি ব্যবহার করতে হয় অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে। এ ছাড়া যত্ন নিতে হয় সব সময়। কিন্তু অনেকেই মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সঠিক যত্ন কীভাবে নিতে হয়, তা জানেন না। ফলে যন্ত্রে ত্রুটি দেখা দেয়। তাই অনেক সময় স্থায়ীভাবে বিকলও হয়ে যেতে পারে দরকারি এ যন্ত্রটি। কিছু সাবধানতা  মাইক্রোওভেনের ভেতরটা খুবই উত্তপ্ত থাকে। তাই এখানে অবশ্যই ওভেনপ্রুফ বাসন ব্যবহার করতে হবে।  এতে ধাতব কোনো বাসন ব্যবহার করা যাবে না। ফলে ওভেন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।  মাইক্রোওয়েভ ওভেন কম ভোল্টেজে চালানো যাবে না। এতে এর ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি এটি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।  এতে প্রটেক্টর লাগিয়ে নিলে ভালো হয়। এতে বিপদের আশঙ্কা কম থাকে।  খাবার গরম করার সময় অনেক সময় বেশি গরম হয়ে তা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভেতরে পড়ে যেতে পারে। তাই খাবার গরম হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে এটি পরিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় এটির ভেতর দুর্গন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি পরে গরম করা খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে।  মাইক্রোওয়েভ ওভেনের পেছনের যে ফাঁকা জায়গা আছে সেখানে তেলাপোকা, মাকড়সা বা টিকটিকি ঢুকে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে যেকোনো সময় খাবার নষ্টের কারণ হতে পারে। তাই সব সময় মাইক্রোওভেনের পেছনের দিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।  মাইক্রোওভেনের সুইচ চালু রাখা যাবে না। কাজ শেষ করে এটি বন্ধ রাখতে হবে। সুইচ চালু থাকলে এ থেকে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।  মাইক্রোওয়েভ ওভেন অনেক সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে যেতে পারে। এ থেকে রক্ষা পেতে আর্থিং ব্যবহার করতে হবে।  খাবারের পরিমাণ অনুযায়ী মাইক্রোওয়েভ ওভেন চালু রাখা উচিত। বেশি খাবারের ক্ষেত্রে সময় বেশি ও পরিমাণে অল্প খাবারের ক্ষেত্রে কম সময় এটি চালু রাখা। খাবার যাতে পুড়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা।  মাইক্রোওয়েভ ওভেনটি যাতে শিশুদের নাগলের বাইরে থাকে, এমন স্থানে এটি রাখতে হবে। দরদাম বাইরের দেশের বিভিন্ন কোম্পানির সাথে সমানতালে পাল্লা দিয়ে আমাদের দেশি কিছু কোম্পানিও মাইক্রোওভেন তৈরি করে। ওয়ালটনের মাইক্রোওভেন এখন বেশ জনপ্রিয়। ওয়ালটনের ৩০ লিটারের ওভেনের দাম পড়বে বারো হাজার ৮৮০ টাকা, ২৩ লিটারের দাম পড়বে ৯ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১৭ লিটারের দাম পড়বে আট হাজার ১০০ টাকা। ২৩ লিটার থেকে ৩৭ লিটার পর্যন্ত আকারের মাইক্রোওভেন পাওয়া যায়। ব্ল্যাক, হোয়াইট, সিলভার কালারের মাইক্রোওভেন ১২ হাজার ৬০০ থেকে ২৬ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে কিনতে পাওয়া যায়। এ ছাড়াও বাজারের বিভিন্ন দামে বিভিন্ন মডেলের ওভেন পাবেন। নানা ব্র্যান্ডের এসব ওভেনের দাম পড়বে ছয় হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত।