এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্র
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:২০
বাংলা
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা
অপরাহ্নের গল্প
হুমায়ূন আহমেদ
অনুশীলনীর সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
গতকালের পর
১.নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
সৈয়দ সাহেব যখন ৯ বছরের কুসুমকে তুলে আনলেন তখনো বোঝা যাচ্ছিল না সে বেঁচে আছে কিনা! এ অবস্থায় তিনি ভাবছেন এইতো সেদিন ওর বাবা বিদেশ থেকে এল। বাবা যেদিন মারা গেল সেদিন কুসুমের জন্ম। এতদিন সে পরহেজগার মায়ের আশ্রয়ে পূর্ণ নিরাপত্তায় ছিল। গেল মাসে মেয়েটির মাও মারা গেল। কত মানুষেরইতো মা-বাবা থাকে না। তাই বলে আত্মহত্যা!
অনেক চেষ্টায় কুসুমের জ্ঞান ফিরলে জানা গেল তার রক্তে HIV পজেটিভ পাওয়া গেছে। তার মায়ের মৃত্যুর কারণও তাই। আপন ভাই-বোনেরা তাকে একঘরে করে দিয়েছে। কেউ তার সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে না। মেলামেশা করে না। এমন কি কথা পর্যন্ত বলে না।
ঘ. ‘সৈয়দ সাহেব কুসুমকে উদ্ধার করে HIV সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েছেন।’ ‘অপরাহ্নের গল্প’ অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো।
১ নম্বর প্রশ্নের ‘ঘ’-এর উত্তর
হুমায়ূন আহমদ-এর ‘অপরাহ্নের গল্প’-এ HIV সংক্রমণের কারণসমূহ এবং আক্রান্তদের প্রতি মানবিক আচরণের কথা উলে¬খ করা হয়েছে। উদ্দীপকে গল্পের বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে।
আমরা ‘অপরাহ্নের গল্প’-এ দেখেছি বীর্য, রক্ত ও মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমেই কেবল HIV সংক্রমণ হতে পারে। তাই তিনটি কারণ ছাড়া রোগীর সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, এক গ¬াসে পানি খাওয়া, এক রুমে বসবাস করা বা তার ব্যবহার্য জিনিসপত্র ব্যবহার করলেও HIV সংক্রমণের কোনো সুযোগ নেই।
উদ্দীপকে কুসুমের বাবা বিদেশ থেকে HIV ভাইরাস নিয়ে এসেছে। HIV সংক্রমণে কুসুমের বাবা ও মা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেয়। আপন ভাই-বোনসহ সকলের ঘৃণা সহ্য করতে না পেরে HIV আক্রান্ত কুসুম অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
সেখান থেকে সৈয়দ সাহেব তাকে উদ্ধার করে। কুসুমকে উদ্ধার করায় সৈয়দ সাহেব মোটেও HIV আক্রমণের ঝুঁকি নেন নি। HIV একটি ঘাতকব্যাধি। এ ব্যাধির ওষুধ আবিষ্কৃত হয় নি। তাই এইডস হওয়া মানেই নিশ্চিত মৃত্যু। ফলে সৈয়দ সাহেব কুসুমকে আশ্রয় দিলেও HIV সংক্রমণের ঝুঁকি নেননি । আমরা জানি উক্ত ভাবইরাসে আক্র্রান্ত ব্যক্তির সাথে মেলবন্ধন রাখাযায় যা মূল গল্পে বলা হয়েছে। উদ্দীপকে তার স্বকবিরোধ দেখি; তাই বলা যায়, ‘সৈয়দ সাহেব কুসুমকে উদ্ধার করে HIV সংক্রমণের ঝুঁকি ;নেননি।’