বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

দুর্নীতি দূর না হলে উদার গণতন্ত্র দিয়ে কি হবে আমার সোনার বাংলাদেশে যতদিন পর্যন্ত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হবে ততদিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের স্বাদ পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশের রাজনীতি প্রতিহিংসার রাজনীতি। এই প্রতিহিংসাকে রোধ করার জন্য সবার প্রথমে আইনের শাসন কায়েম করা জরুরি না হলে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের মন-মানসিকতা বদলাবে না। রাজনীতিবিদদের মন-মানসিকতা বদলাতে হলে চাই সুশাসন। আজ শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে তরুণ প্রজন্মের এ আন্দোলন শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয় তারা চায় সুশাসন গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচারী মনোভাব নয়। যে সময় যে দলের রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় থাকেন তারা যত অপরাধই করুক তাদের কোন বিচার হয় না, এই কি গণতন্ত্র? উদার গণতন্ত্র তখনই মানাবে যখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। এস এম হূদয় রহমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী, মানবিক বিভাগ জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশকে অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে মুক্ত করতে হবে আজ আওয়ামী লীগ কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক ও বাহক হিসেবে দাবি করে। কিন্তু তারা প্রতিদিন নানা রকম অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার, জুলুম করে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের উপর। বার বার নারী অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেও, দেশে সুশাসন ও সুবিচারের অভাবে দেশে প্রতিনিয়ত ইভটিজিং, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, নারী নির্যাতন ঘটছে। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তিবাণিজ্যে ও সিটবাণিজ্যের মাধ্যমে ব্যাপক পরিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগে প্রচুর ঘুষ ও দলীয় প্রভাব প্রাধান্য পাচ্ছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারি, শেয়ার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা সরকারের মদদে হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বিশেষ মহল। সর্বশেষ দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে আমরা পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংককে হারালাম। এই কি তাহলে তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বহিঃপ্রকাশ। এখন সময় এসেছে ভেবে দেখার, আমরা কি সত্যিই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করছি নাকি শুধু বুলি আউড়িয়ে বরং মুক্তিযোদ্ধাদের পবিত্র রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছি। বর্তমান দেশের এই সংঘাতময় ও সংকটময় পরিস্থিতিতে একটিই সমাধান হল, প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে, ’৭১-এর সেই মুক্তিযুদ্ধের মতো দল, মত, ধর্ম, বর্ণ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশটাকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাই। তবেই দেশে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরে আসবে। মু. ইব্রাহিম খলিল মিজান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী। গণতন্ত্রের লিখিত রূপ আছে কিন্তু বাস্তবায়ন নেই বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও এদেশে গণতন্ত্রের চর্চা কেবল মৌখিক ও লিখিত রূপেই সীমাবদ্ধ। আমরা জানি “গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা” কিন্তু এখন দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এই যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে “গণতন্ত্র হচ্ছে সরকারের, সরকারের দ্বারা এবং সরকারের কল্যাণার্থে পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা” অর্থাত্, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের নাম ভাঙ্গিয়ে তাদের ফায়দা লুটছে অন্যদিকে যারা এই গণতন্ত্রে স্রষ্টা সেই সাধারণ জনগণের দুর্ভোগের অন্ত নেই। দেশের গণতন্ত্র আজ পরিবারতন্ত্রে পরিণত হতে যাচ্ছে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্বার্থে আজ সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য, ন্যায়কে অন্যায়, অন্যায়কে ন্যায়, দোষীকে নিদোর্ষী আর নির্দোষীকে দোষী সাব্যস্ত করতেও দ্বিধাবোধ করে না। তাই দেশ স্বাধীনতাত্তোর ৪২ বছরে পদার্পণ করে ও দেশের সমৃদ্ধি, উন্নতি আর অগ গতির স্থানে স্থান পেয়েছে ঘুষ, খুন, রাহাজানি আর দুর্নীতি। সাধারণ জনগণ এখানে উপেক্ষিত, নিপীড়িত, জর্জরিত আর বঞ্চিত। এমতাবস্থায় বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসাবে স্থান দিতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত প্রতিহিংসামূলক ও সংঘাতময় রাজনৈতিক চর্চা পরিত্যাগ করে জনগণের কল্যাণের জন্য উদারভাবে গণতন্ত্রের পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটানো। সাজ্জাদ হোসাইন জয় ৪র্থ বর্ষ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা। বিপন্ন গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই স্বার্থবাদী রাজনীতির পরিবর্তন আমাদের দেশে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা যেভাবে বিরাজ করছে এভাবে গণতান্ত্রিক আচরণ বিপন্ন হতে থাকলে শুভ ও মননশীল চিন্তার বিকাশ ব্যাহত হতে বাধ্য। এ কারণেই সমাজ, প্রশাসনে সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতির এতো বাড়-বাড়ন্ত। শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার অঙ্গনও স্বার্থবাদী রাজনীতির আবর্তে বাধা পড়ে যাচ্ছে। এই বিপর্যস্ত পরিবেশে আগামিতে ত্রাতার ভূমিকায় সবুজ প্রজন্মের আবির্ভূত হওয়া অনেক কঠিন হবে। এমন অবস্থায় হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে সবসময় ইতিহাসের আশ্রয় নিতে হয়। কারণ বাংলার ইতিহাসে বার বার এমন দুর্যোগ এসেছিল— তারপরও জাতি শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের চলমান রাজনীতি ও রাজনীতিকদের জন্য এ খুব স্বস্তির কথা নয়। সচেতন জাতিও চাইবে না আমাদের রাজনীতিকরা কৃতকর্মের জন্য ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হোক। অতএব আবারো আশায় বুক বাঁধতে চাই। আশা করতে চাই বোধোদয় হবে সকল পক্ষের রাজনীতিকদের। দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন পথ খুঁজে নিবেন তারা। এবং আরেকটু সচেতন হবেন। আশা করি বিপন্ন গণতন্ত্র ফিরে আসবে স্বমহিমায়। সুমাইয়া তাহসীন ভুঁইয়া হেলথ টেকনোলোজি কলেজ মহাখালী, ঢাকা।