২৩ বছরেও চাকরি পাননি
রেল কর্মচারীর পোষ্যরা
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৭
কর্মরত অবস্থায় বাংলাদেশ রেলওয়ের কেউ মৃত্যুবরণ করলে তার সন্তানের পোষ্য কোটায় চাকরি দেয়ার নিয়ম থাকলেও ২৩ বছরের চাকরি পাননি মৃত তফিজ উদ্দিনের পোষ্যরা। অসহায় স্ত্রী ছাহেরা খাতুন চাকরির জন্য ধর্ণা দিতে দিতে এখন জীবন সায়াহ্নে এসে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
জানা যায়, খুলনা রেলওয়ের লোকোশেডে তফিজ উদ্দিন আর আর ওয়াটারম্যান পদে কর্মরত অবস্থায় ১৯৮৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ৬ মেয়ে ও ২ ছেলে রেখে মারা যাওয়ার ২৩ বছর অতিবাহিত হলেও তার কোন ছেলে বা মেয়ের রেলওয়েতে চাকরি হয়নি। স্বামী হারিয়ে ছাহেরা খাতুন ৮জন ছেলে-মেয়ে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। অনেক কষ্টে ৪ মেয়ে বিয়ে দিলেও এখন ৪ সন্তান নিয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন । কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি তার জীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। পোষ্য কোটায় চাকরির জন্য অনেকের কাছে ধর্ণা দিলেও একটি সন্তানেরও চাকরি হয়নি। সমবেদনা ও আশ্বাস ছাড়া কোন কিছুই অসহায় ছাহেরা খাতুনের ভাগ্যে জোটেনি। জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে এখন সে বৃদ্ধ। অশ্রুসিক্ত ধূসর চোখে এখন শুধু ক্লান্তি আর ক্লান্তি।
রেল কর্তৃপক্ষের কাছে অনেক ঘোরাঘুরি করে কোন সহযোগিতা না পেয়ে গত সেপ্টেম্বরে ঈশ্বরদীতে ছাহেরা খাতুন সপরিবারে তত্কালীন রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করেন। মন্ত্রী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজারকে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাত্ক্ষণিক নির্দেশ দেন। পোষ্য কোটায় মরহুম তফিজ উদ্দিনের ছেলে নাজিম উদ্দিন খালাসী (ইলেকট্রিক) ও লস্কর পদে চাকরির জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু সাবেক রেলমন্ত্রীর সেই আশ্বাসকে বর্তমানে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে ছাহেরা খাতুন অভিযোগ করেন।