রহস্যময় এক গিটার বাদকের গল্প
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৫:৩২
১৬ জুন, ২০০৬ সাল। জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং চ্যানেল ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। আপলোডকারীর নাম সবার কাছে একটু অন্যরকম ছিল। নামটা ছিল, ‘মিস্টিরি গিটারম্যান’। ভিডিওটিতে গিটার নিয়ে নানা ধরনের কৌশল দেখানো হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই মুগ্ধ হয়ে যায়। বেড়ে যায় ভিডিওটির শেয়ারিং। ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে ভিডিওটি। এর কিছুদিন পরই আবারও একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। সেটাও বেশ ভালোই জনপ্রিয়তা পায়। তার মাতাল করা গিটারের তালে সবাই যেন মুগ্ধ না হয়ে পারে না। তবে একটা ব্যাপার সবারই অজানা ছিল। সেটা হলো, এই ভিডিও আপলোডকারী ব্যক্তিটিকে কেউ চিনত না। সেটা নিয়ে আবার তার ভিডিও কমেন্টের মাঝে ঝড় ওঠে। অপ্রত্যাশিতভাবে এর কিছুদিনের মধ্যেই আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। জানা যায়, মিস্টিরি গিটারম্যান আর কেউ নন, সবার প্রিয় জো পেন্না। ২০১১ সালের মধ্যে জো জনপ্রিয়তার আরও শীর্ষে উঠে যান। এর মধ্যে শুধু ব্রাজিলেই তার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা দাঁড়ায় কয়েক হাজারে। এভাবে কেটে যায় আরও দুইটি বছর। এর মধ্যে নানা ধরনের ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে মাতিয়ে রাখেন সবাইকে। ২০১৩ সালের মধ্যে তার চ্যানেলে প্রায় ২.২ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার যুক্ত হয়। সেই সাথে তার ভিডিওগুলো প্রায় ৩২৬ মিলিয়ন বার দেখা হয়।
এর আগে, ২০১০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে তিনি অবশ্য আরও একটি ইউটিউব ভিডিও চ্যানেল বানিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কীভাবে ভিডিও এবং ব্লগ বানাতে হয় সেগুলোর কিছু টিউটোরিয়াল আপলোড করেন। মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে তার এই চ্যানেল ব্রাজিলের তৃতীয় জনপ্রিয় চ্যানেলে পরিণত হয়। তিনি বিগফ্রেম নেটওয়ার্কের মেম্বার এবং একজন পার্টিসিপেন্ট। ২০০৭ সালে জো মিডিয়া কভারেজ পেয়েছিলেন তার জনপ্রিয়তার জন্য। ডিসি ফক্স নিউজে তার সাক্ষাত্কার ছাপা হয়েছিল। এরপর তিনি, ‘দ্য পাজেলড’ নামের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেটা বেশ কিছুদিন ইউটিউবের ফ্রন্ট পেজ-এ ফিচারড হিসেবে ছিল। এরপর আবার সমান্তরাল পথচলা। ২০০৯ সালে আবার তিনি ইউটিউবের মূল ফিচারে চলে আসেন তার ‘গিটার ইমপসিবল’ ভিডিওটির মধ্য দিয়ে। নেদারল্যান্ডের বিখ্যাত একটি শো নিয়ে এই ভিডিওটি করেছিলেন তিনি। সেখানে প্রাধান্য পেয়েছিল তার গিটারের তুমুল ঝড়। এ ছাড়াও তিনি বেশ কিছু রেডিও প্রোগ্রামেও অংশ নিয়েছিলেন। একবার অস্ট্রেলিয়ার একটি রেডিও স্টেশনে একক প্রোগ্রাম করার সুযোগ পান তিনি।
গিটার ইম্পসিবল ভিডিওটির কারণে তার জনপ্রিয়তা অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। বেশ কিছু জায়গায় তা ছড়িয়েও যায়। শুধু ইউটিউবেই না। তার এই মিউজিক ভিডিওটি এমএসএন-এর হোম পেজেও বেশ ভালো আলোড়ন তুলে। সেখানেই কিছুদিন মূল ফিচার হিসেবে ছিল ভিডিওটি। সেখান থেকে পুরস্কার হিসেবে তিনি ১৫ হাজার ইউএস ডলার পান। ‘টেক ইউ আউট’ নামের একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি আরও একটি রিয়েলিটি শো ‘ওরিও গ্লোবাল মোমেন্টস’ নামের একটি প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। সাফল্যের মাত্রা বেড়ে যায় যখন তাকে বিখ্যাত কোম্পানি ফোর্ডের সাথে চুক্তি করা হয়। ফোর্ড ফিয়েস্তার এজেন্ট হিসেবে ২০০৯ সালে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাকে। সেই সময়ে গিটার ইম্পসিবল ভিডিওটি বেস্ট ভিডিও হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল।
২০১০ সাল, ‘রুট বিয়ার মোজার্ট’ নামে আরও একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। এই ভিডিওটি শুধু সাধারণ মানুষের কাছেই জনপ্রিয়তা পায়নি, ‘সিএনএন’-এর সকালের খবরের শিরোনাম হয়েছিল। মর্নিং এক্সপ্রেস প্রোগ্রামে রবিন মিড-এর সাথে একটি সাক্ষাত্কার দেন তিনি। একবার একটা মজার ঘটনা ঘটেছিল। তার ভিডিওর থেকে স্টিল ছবি নিয়ে সেটা দিয়ে টি-শার্ট বানানো হয়েছিল। বেশ ভালোই বিক্রি হয়েছিল টিশার্টগুলো।
এ-তো গেল তার সাফল্যের গল্প। এবারে জেনে নেওয়া যাক তার নিজের ব্যাপারে কিছু কথা। এই সাফল্যকে তরুণ জো কীভাবে দেখছেন। তার কাছে ব্যাপারটা বেশ মজাদার। কারণ তিনি কখনও ভাবেননি তার পোস্ট করা একটা ভিডিও দিয়ে এভাবে সাড়া ফেলে দিতে পারবেন তিনি। তার ভিডিওগুলো ওয়াল স্ট্রিট সিনেমা হলগুলোতেও দেখানো হয়েছিল। তবে একটা ব্যাপার হলো, তার মতে অনেকেই দেখা যায় অনেক ক্রিয়েটিভ কাজ করে। কিন্তু অনেক সময়ই সেগুলো হারিয়ে যায়। তিনি নিজের ব্যাপারে এটুকু বলতে পারেন সাফল্যের এই ধারাবহিকতায় তিনি নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চান না। তার ভালোবাসার জায়গাটিতে থাকতে চান তিনি সব সময়ই।