বাঘেরহাটে বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষার জোন নির্ধারণের কাজ শুরু

ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট), বাগেরহাটের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো কোর জোন (প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত এলাকা) ও বাফার জোন (কোর জোনকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নির্ধারিত এলাকা) নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদ কমপ্লেক্সে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক শিরিন আক্তার এ কথা জানান। সভায় জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাটের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থপনাগুলোর জন্য নির্ধারিত কোর জোনের মোট পরিমাণ ২২৫ দশমিক সাত নয় একর এবং বাফার জোনের মোট পরিমাণ প্রায় তিন শত আশি একর। কোর জোনের প্রায় সবটুকু জমিই প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাফার জোনের জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন। এসব জমি ব্যক্তি মালিকানাধীনই থাকবে এবং মালিকেরা তা ভোগ দখল ও চাষাবাদ করবেন। তবে এসব জমিতে বহুতল ও সৌন্দর্যহানিকর স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। বাফার জোনের জমিতে ইট ভাটা, চিংড়ি ঘেরসহ ভারি শিল্প কারখানা, পোল্ট্রি, হ্যাচারী ইত্যাদি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রম করা যাবে না। মধ্যযুগের স্বাধীন সুলতানী শাসনামলে বর্তমান বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ ও কাড়াপাড়া ইউনিয়নের বড় একটি এলাকা জুড়ে হযরত খান জাহানের (র:) স্থাপিত বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন একত্রিতভাবে এই বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এসব স্থাপনায় হযরত খান জাহানের (র:) নিজস্ব কিছু নির্মাণ শৈলীর বহির্প্রকাশও আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। হযরত খান জাহানের (র:) সময়কার এ সব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে, ষাটগম্বুজ মসজিদ, হযরত খান জাহানের (র:) সমাধি ও ঠাকুরদীঘি, খান জাহানের বসতবাড়ি, এই বাড়ি সংলগ্ন প্রাচীন ইটের রাস্তা, সিংগার মসজিদ, রণবিজয়পুর মসজিদ, বিবি বেগনী মসজিদ, সাবেকডাঙ্গা মনুমেন্ট, চুনাখোলা মসজিদ, পীর আলীর সমাধি, নয় গম্বুজ মসজিদ, জিন্দাপীর কমপ্লেক্স, রেজা-ই খোদা মসজিদ, দশ গম্বুজ মসজিদ ও বড় আদিনা মসজিদ। বাফার জোন নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই নিদর্শনগুলোকে ছয়টি পৃথক গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে।