শত কোটি টাকা ব্যয়ে সাজানো হচ্ছে রংপুর চিড়িয়াখানা

১’শ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে বিনোদন উদ্যান রংপুর চিড়িয়াখানা। খাঁচায় বন্দি প্রাণীদের বনের মুক্ত পরিবেশ দেয়া প্রকল্পের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত হবে। প্রশস্ত সেড বা খাঁচাতেই বন্য পরিবেশে তারা বিচরণ করতে পারবে। চার পাশের বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে প্রাণীদের জন্য থাকবে ৩ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি। রাত যাপনের জন্য শেড বা খাঁচার ভেতরেই থাকবে আলাদা ঘরের ব্যবস্থা। মনোরেলে চরে ঘুরে ঘুরে দর্শনার্থীরা দেখবে বন্য পরিবেশে পশুপাখি। এছাড়া এর সাথে নির্মিত হবে ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও অফিসার্স কোয়ার্টার। কর্মকর্তাদের জন্য দেয়া হবে যানবাহন। এতে ব্যয় হবে ১’শ কোটি টাকার উপরে। প্রফেসর সাব্বির আহম্মেদের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি দল সার্ভে শেষ করে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর মাস্টার প্লান তৈরি করে। চলতি বছরের জুন অথবা জুলাই মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা। সূত্র আরও জানায়, দেশের দু’টি সরকারি চিড়িয়াখানার মধ্যে রংপুর একটি। এই চিড়িয়াখানা এলাকাকে পুরোপুরি শব্দ দূষণমুক্ত রাখতে ভূ-প্রাকৃতিক গঠনে পরিবর্তন করা হবে। চিড়িয়াখানার পশুপাখির খাঁচা বা শেডকে সম্পূর্ণভাবে বন্য আবহে তৈরি করতে একজন জাপানি জু-আর্কিটেকচার এবং একজন জু-কনসালট্যান্টের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। পুরাতন প্রাণীর খাঁচা বা শেডের বদলে আধা-প্রাকৃতিক, প্রাণীবান্ধব এবং ৩ স্তরের নিরাপত্তাবলয় বিশিষ্ট খাঁচা তৈরি করা হবে। বিশেষ কাঁচের দেয়াল থাকায় দর্শনার্থীরা সবচেয়ে কাছ থেকে প্রাণীদের দেখতে পারবেন। এদিকে শূন্য খাঁচা ভরতে ইতিমধ্যে আনা হয়েছে পেয়ার মেলানো সাদা ময়ুর, গাধা প্রভৃতি। দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াতে নতুন করে জেব্রা, জিরাফ, ক্যাঙ্গারু, হাতী আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর হনুমানতলা এলাকায় ১৯৮৯ সালে গড়ে তোলা হয় রংপুর চিড়িয়াখানটি। এটি দর্শনার্থীদের জন্য ৯২ সালে খুলে দেয়া হয়। প্রায় ২১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানাটি।