ভালুকার মত্স্য চাষিরা
নানা সমস্যায় জর্জরিত
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৫
ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় মত্স্য চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ভালুকার এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে গড়ে উঠেনি ছোট-বড় মত্স্য খামার। পাশাপাশি মত্স্য চাষে বাড়ছে নানাবিধ সমস্যা।
ভালুকা উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ১ শত ৩১ হেক্টর জমিতে মত্স্য চাষ হচ্ছে। এছাড়া খাল-বিল, প্লাবন ভূমি মিলিয়ে আরও ৪ হাজার ১ শত ৫০ হেক্টর জমিতে মত্স্য চাষ হয়। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ৬ হাজার ৩ শত ৯৪ জন মত্স্য চাষি। মত্স্য চাষকে কেন্দ্র করে এখানে প্রায় ৬৩ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ভালুকায় প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার ৫ শত ৭৭.৫ মেট্রিক টন মাছ উত্পাদন হচ্ছে। এ থেকে বার্ষিক আয় হচ্ছে প্রায় ৩ শত কোটি টাকা। মাছের মানসম্পন্ন খাবারের অভাব, মাছ বাজারজাতকরণে অব্যস্থাপনা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণের অভাব, অপর্যাপ্ত ঋণ। এছাড়াও ভূমি উন্নয়ন কর নিয়ে জটিলতা ও বিদ্যুত্ সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যার আবর্তে সম্ভাবনাময় ও লাভজনক এ শিল্পটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার উপক্রম।
একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী গড়ে তুলেছে গুণগত মানহীন মাছের খাদ্য তৈরির কারখানা। দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে মাছের খাদ্যের দাম।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা রুমানা শারমিন জানান, ১ কেজির একটি পাঙ্গাস চাষ করতে চাষিকে ২ কেজি খাবার খাওয়াতে হয় ২ কেজি ভাল খাবারের মূল্য ৮০ টাকা। যা মাছকে খাওয়ানো ও অন্যান্য খরচাদি করে ৯০-৯৫ টাকা কেজি মাছ বিক্রি করে চাষিদের কিছু লাভ থাকে না। পাঙ্গাসের সঙ্গে দেশীয় মাছ চাষ করে তা বাজারে বিক্রি করে চাষিরা কোন রকমে টিকে আছে।
ভালুকা উপজেলা মত্স্য চাষি সমিতির সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন জানান, যেখানে কৃষি জমিতে প্রতি শতাংশে কর দিতে হয় ১ টাকা সেখানে মত্স্য চাষে প্রতি শতাংশের কর ধরা হয়েছে ১৫ টাকা করে। অন্যদিকে মত্স্য চাষে ব্যবহূত বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ করতে হয় বাণিজ্যিক হারে।