আজ ইতিহাসের সেই কালো দিন

আজ ইতিহাসের সেই কালো দিন। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে ঘটে এক মর্মান্তিক নৃশংস ঘটনা। তখন সকাল ৯ টা ২৭ মিনিট। দরবার হলে চলমান বার্ষিক দরবারে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক ঢুকে পড়ে। এদের একজন বিডিআর মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে। এরপরই ঘটে যায় ইতিহাসের সেই নৃশংস ঘটনা। বিডিআরের বিদ্রোহী সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে। পুরো পিলখানায় এক ভীতিকর বীভত্স ঘটনার সৃষ্টি করে। ঘটনার ৩৬ ঘন্টা পর এ বিদ্রোহের অবসান হয়। পিলখানা পরিণত হয় এক রক্তাক্ত প্রান্তরে। পিলখানা থেকে আবিষ্কৃত হয় গণকবর। গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ। লাশ আর পিলখানার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে সারাদেশের মানুষ হতবাক হয়ে যায়। ৩৬ ঘন্টার এ হত্যাযজ্ঞে ৫৮ জন সেনা কর্মকর্তা, ১ জন সৈনিক, ২ জন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৮ জন বিডিআর সদস্য ও ৫ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। নিহতরা হলেন মে. জে. শাকিল আহমেদ, তাঁর স্ত্রী নাজনীন শাকিল শিপু, ব্রি. জে. জাকির হোসেন, ব্রি. জে. এমএ বারী, কর্নেল মজিবুল হক, কর্নেল আনিস উজ জামান, কর্নেল মসীউর রহমান, কর্নেল কুদরত ইলাহী রহমান শফিক, কর্নেল আখতার হোসেন, কর্নেল রেজাউল কবীর, কর্নেল নাফিজ উদ্দিন আহমেদ, কর্নেল কাজী এমদাদুল হক, কর্নেল বিএম জাহিদ হোসেন, কর্নেল সামসুল আরেফিন আহাম্মেদ, কর্নেল নকিবুর রহমান, কর্নেল কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন, কর্নেল গুলজার উদ্দিন আহমেদ, কর্নেল শওকত ইমাম, কর্নেল এমদাদুল ইসলাম, কর্নেল আফতাবুল ইসলাম, লে.কর্নেল এরশাদ ইবনে আমিন, লে. কর্নেল শামসুল আজম, লে. কর্নেল কাজী রবি রহমান, লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া মোহাম্মদ নিয়ামতউল্লাহ, লে. কর্নেল বদরুল হুদা, লে. কর্নেল এলাহী মন্জুর চৌধুরী, লে. কর্নেল এনায়েতুল হক, লে. কর্নেল আবু মুছা মো. আইউব কাইসার, লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম, লে. কর্নেল লুত্ফর রহমান, লে কর্নেল সাজ্জাদুর রহমান, লে. কর্নেল লুত্ফর রহমান খান, মেজর মকবুল হোসেন, মেজর আব্দুস সালাম খান, মেজর হোসেন সোহেল শাহনেওয়াজ, মেজর কাজী মোছাদ্দেক হোসেন, মেজর আহমেদ আজিজুল হাকিম, মেজর মোহাম্মদ সালেহ, মেজর কাজী আশরাফ হোসেন, মেজর মাহমুদ হাসান, মেজর মুস্তাক মাহমুদ, মেজর মাহমুদুল হাসান, মেজর হুমায়ুন হায়দার, মেজর আজহারুল ইসলাম, মেজর হুমায়ুন কবীর সরকার, মেজর খালিদ হোসেন, মেজর মাহবুবুর রহমান, মেজর মিজানুর রহমান, মেজর মোহাম্মদ মাকসুম-উল-হাকিম, মেজর এস এম মামুনুর রহমান, মেজর রফিকুল ইসলাম, মেজর সৈয়দ মো. ইদ্রিস ইকবাল, মেজর আবু সৈয়দ গায্যালী দস্তগীর, মেজর মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন, মেজর মমিনুল ইসলাম সরকার, মেজর মোস্তফা আসাদুজ্জামান, মেজর তানভীর হায়দার নূর, ক্যাপ্টেন মাজহারুল হায়দার, লে.কর্নেল (অব.) দেলোয়ার হোসেন, তার স্ত্রী রৌশনী আক্তার হোসেন, সেন্ট্রাল সুবেদার মেজর নুরুল ইসলাম, সৈনিক জহিরুল ইসলাম, এডি খন্দকার আব্দুল আউয়াল, ডিএডি মাসুম খান, ডিএডি ফসিউদ্দিন, সুবেদার সহকারী আবুল কাশেম, নায়েক সহকারী বসির উদ্দিন, ল্যান্স নায়েক মানিক মিয়া, সিপাহী রুহুল আমিন, আয়া কল্পনা বেগম, মালি ফিরোজ মিয়া, ছাত্র তারেক আজিজ, রিকশা চালক আমজাদ আলী ও সবজি বিক্রেতা হূদয় মিয়া। সরকার বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাটিকে ‘পিলখানা হত্যা দিবস’ হিসেবে প্রতি বছর পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। দিবসটি পালন উপলক্ষে এবারও সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। বিজিবির সকল রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় বাদ ফজর পবিত্র কোরআন শরীফ খতম হবে। সকাল ১০ টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একজন প্রতিনিধি এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া তিন বাহিনীর প্রধানগণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বিজিবির মহাপরিচালক সেনা কর্মকর্তাদের কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বিকাল সাড়ে ৪ টায় পিলখানায় বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।