বিজিএমইএ ভবনের জন্য দরকার বিকল্প জায়গা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে কমনওয়েলথ এসোসিয়েশন অব আর্কিটেক্ট-এর ২০তম জেনারেল এসেম্বলি ও কনফারেন্সের উদ্বোধন করেন। এই সময় তিনি স্থপতিদের পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব দেশ গড়িবার আহ্বান জানান। প্রসঙ্গক্রমে তিনি সম্প্রতিকালে চালু হওয়া হাতিরঝিল প্রকল্প নিয়াও কথা বলেন। তিনি বলেন যে, এই প্রকল্পটি ঢাকা শহরের পরিবেশ সংরক্ষণে বিরাট ভূমিকা পালন করিবে। এলাকাটি ইতোমধ্যে নগরবাসীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হইয়াছে। ইহার পরই তিনি হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমনকি তিনি এই ভবনটিকে একটি ক্ষতিকর ‘টিউমার’ হিসাবেও অভিহিত করেন। সকলের চোখের সম্মুখে এই ঢাকা শহরে হাজার হাজার অবৈধ ভবন তৈরি হইতেছে। নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ইত্যাদি ভরাট হইতেছে। একইভাবে হাতিরঝিলের অভ্যন্তরে বিজিএমইএ ভবনের ন্যায় একটি অট্টালিকা লোকচক্ষুর সম্মুখেই তৈরি হইয়াছে। ভবনটি কিভাবে গড়িয়া উঠিল তাহা অনেক সচেতন মানুষেরই জানা। কাহারা ইহার অনুমোদন দিলেন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করিলেন এবং ভবন নির্মাণ শেষে উদ্বোধন করিলেন তাহাও তাহাদের না জানিবার কথা নহে। আবার গণতান্ত্রিক সরকারের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে এই কথাও আমরা জানি। এমতাবস্থায় হাতিরঝিল প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করিতে বিজিএমইএ ভবন ভাঙিবার প্রয়োজনীয়তা অনেকেই স্বীকার করেন। কিন্তু বিকল্প জায়গা না দিয়া ওয়ান ইলেভেনের আমলে র্যাংগস ভবনের ন্যায় বিজিএমইএ ভবন ভাঙিয়া ফেলা সঠিক হইবে না। যতদূর জানা যায়, বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের এই ব্যাপারে কোন আপত্তি থাকিবার কথা নহে। কেননা তাহারা ভবনটি তৈরি করিয়াই বেশিরভাগ স্পেস বিক্রি করিয়া দিয়াছে। ফলে তাহাদের তেমন কোন ক্ষতি হইবে না। কিন্তু যাহারা এই স্পেস কিনিয়া লইয়াছেন তাহাদের মাথায় হাত পড়িবে নিঃসন্দেহে। সুতরাং এই জটিলতা এড়াইতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুবই জরুরি। সরকার কতজনকেই তো প্লট বা জায়গা-জমি দিয়াছে। অনেক সংস্থাও এই সুবিধা পাইয়াছে। সেই হিসাবে বিজিএমইএ-এর মত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রাজধানীর কোনখানে জায়গা পাওয়ার দাবি করিতেই পারে। বিশেষত যেই গার্মেন্টস শিল্প আমাদের প্রধান রফতানি খাত, সেই শিল্পমালিকদের সংগঠন সরকারের নিকট হইতে এই সুবিধাটুকু আশা করিতেই পারে। গার্মেন্টস শিল্পের মালিকরা যেহেতু দেশের বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ আয় করিবার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করিয়া যাইতেছেন, তাই তাহাদের প্রতিও সরকারের সুনজর দেওয়া আবশ্যক। প্রথম হইতেই একটি নিষ্কন্টক জায়গা তাহাদের দেওয়া হইলেই ভাল হইত। কিন্তু একটি বিতর্কমূলক জায়গা কেন তাহাদের দেওয়া হইল আর সবকিছু জানিয়া-শুনিয়া ও বুঝিয়া তাহারাইবা কেন গ্রহণ করিলেন তাহা অনেকেরই বোধগম্য নহে। যাহা হউক, ক্ষতিকর টিউমারটির সমাধান শুধু অপারেশন করিয়াই হইবে না। প্রকৃতপক্ষে আগে বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করিবার পরই যে কোন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাইতে পারে।