তাহিরপুরের চার ইউনিয়নে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতেই সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ইউনিয়নে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নে ৯০ ভাগ, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে ৪০ ভাগ, বালিজুরী ইউনিয়নে ৩০ ভাগ ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়নে ১০ ভাগ নলকূপের পানিতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের পর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয় পুনরায় নলকূপের পানি পরীক্ষা করে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, আর্সেনিকের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটারে ০.০৫ মিলিগ্রাম হলেও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন নলকূপে লিটারপ্রতি ০.৫ মিলিগ্রাম থেকে ১ মাত্রার আর্সেনিক রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪০ জন আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এদের বেশির ভাগই দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিয়া হোসেন বলেন, আর্সেনিকের জন্য গ্রামবাসী বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির সংকটে পড়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিত্ সরকার বলেন, ইউনিয়নের ৯০ ভাগ নলকূপের পানিতে অতিমাত্রায় আর্সেনিক থাকায় বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির তীব্র সংকট চলছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর তাহিরপুর কার্যালয়ের টেকনিশিয়ান আলমগীর হোসেন বলেন, এসব ইউনিয়নের অনেক নদীই শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায়। আবার অনেকগুলোতে হাঁটু পানি থাকে। অধিকাংশ লোকজন অসচ্ছল। তাদের সবার পক্ষে পানি ফুটিয়ে পান করাও সম্ভব নয়।