রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্প

এ বছরের জুনে কাজ শুরু হবে

আগামী জুনে শুরু হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ। সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের উদ্বোধনকে সামনে রেখে প্রাথমিক কাজগুলো দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ইসলাম। শনিবার রাতে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, এতে জনগণের জানমালের কোন ক্ষতি হতে দিব না। যদি ক্ষতিকর কিছু মনে হয় তখনই কাজ বন্ধ করে দেয়া হবে। রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ দল জুনের আগেই এসে পৌঁছাবেন এবং মাটির নীচে কোন স্তরে রিএ্যাক্টর বসানো হবে তা নির্ধারণপূর্বক নভেম্বরেই ‘রিএ্যাক্টর’ অর্ডার দেয়া হবে বলে তিনি জানান। ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিদ্যুত্ প্রকল্পে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তার জন্য ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সাথে সরকারের চুক্তি সম্পাদিত হয়। স্থানীয় উত্স হতে প্রকল্পে ১০ ভাগ অর্থায়ন করা হবে। ৪টি রিএ্যাক্টর বসানোর উপযোগী করে প্রকল্পের মাস্টার প্লান করা হয়েছে। জানা যায়, প্রথম ধাপে ২টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ২টি রিএ্যাক্টর বসানোর পরিকল্পনায় রয়েছে। প্রথম ধাপে ৬ মাসের ব্যবধানে আগামী ২০২১ সালে ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে বলে প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর জানান। ঘনবসতি এলাকায় রিএ্যাক্টর বসানোর ফলে জানমালের ক্ষতির বিষয়ে সচিব জানান, ‘রূপপুর এলাকার চেয়েও আরো ঘন জনবসতি এলাকা ভারতের মাদ্রাজ এবং পশ্চিমবঙ্গের উদয়পুরে রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্প ৫ স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনির এবং ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল। এমনকি এই প্রকল্পের ওপর বিমান ধ্বংস হলেও কোন ক্ষতি সাধিত হবে না। পাবনার জেলা প্রশাসক ড. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমান নকশা অনুযায়ী আরো ১৫০ একর পদ্মা চরের খাস জমি বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর জানান, প্রকল্পে ৩ হাজার মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া প্রকল্প নির্মাণকালে ৭-৮ হাজার শ্রমিক কাজ করবে। শিক্ষা ও রেডিয়েশন বিনোদনের জন্য স্কুল এবং কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে। মতবিনিময়কালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্রাবন্তী রায়সহ প্রকল্পের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।