ঠাকুরগাঁওয়ে ডিজেলের তীব্র সংকট :বিপাকে বোরো চাষি

বোরো আবাদের শুরুতেই ঠাকুরগাঁওয়ে একদিকে যেমন বিদ্যুতের ভেলকিবাজি, অপরদিকে ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘুরেও কৃষক চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছেন না। ফলে বিপাকে পড়েছে চাষি এবং চলতি মৌসুমে বোরো চাষ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার ৮০২ হেক্টর জমিতে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইউনিট-২-এর আওতাধীন গভীর নলকূপ ও বিদ্যুত্চালিত পাম্পসমূহ চালানো যাচ্ছে না। সারাদিন গড়ে সর্বোচ্চ ৩ ঘন্টার বেশি বিদ্যুত্ পাওয়া যায় না। সময়মত বিদ্যুত্ না পাওয়ায় অনেক কৃষক ডিজেলচালিত শ্যালোর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। জেলার ৪২ হাজার ৮৭৭টি শ্যালো পাম্পের মধ্যে ৩৯ হাজার ২৪০টি পাম্পই ডিজেলচালিত। ফেব্রুয়ারি মাসে সেচের জন্য এই জেলায় ডিজেলের চাহিদা ৪৫ লাখ ২ হাজার ২২৮ লিটার অর্থাত্ ৯০ হাজার ব্যারেল। কিন্তু সে তুলনায় সরবরাহ মিলছে না। কৃষকরা ক্ষেতের কাজ ফেলে ফিলিং স্টেশনে এসে লাইন দিয়েও চাহিদামত ডিজেল পাচ্ছে না। শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে মাথাপিছু ৩ লিটার করে ডিজেল দেয়া হচ্ছে। ফলে কৃষকরা খুচরা ডিজেল ব্যবসায়ীদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হচ্ছেন। সদর উপজেলার নারগুন গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, খুচরা ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দরের চাইতে লিটার প্রতি ৫-৭ টাকা অতিরিক্ত হারে আদায় করছে। তিনি আরো বলেন, ক্ষেতে সময়মত সেচ দেয়া না গেলে চারাগাছ মারা যাবে আশংকায় তারা অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনছেন। রানীশংকৈল,পীরগঞ্জ,বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাষিরা ডিজেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাওয়ার অভিযোগ বিস্তর। এদিকে বোরো মৌসুমে জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৪৫-৪০ মেগাওয়াট। কিন্তু সে তুলনায় জাতীয় গ্রিড হতে সরবরাহ মিলছে ১৫-২০ মেগাওয়াট। এব্যাপারে ঠাকুরগাঁও পল্ল¬ীবিদ্যুত্ সমিতির জিএম খালেকুজ্জামান জানান, দিনেরবেলা বিদ্যুতের প্রাপ্তি কম থাকায় রাত ১১ থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বোরো চাষিদের গভীর নলকূপ ও পাম্প চালাবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।