মনপুরায় বাঁধ ভেঙ্গে ৩ গ্রাম প্লাবিত, শতাধিক গবাদি পশুর মৃত্যু

ভোলার মনপুরায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বাঁধ ভেঙ্গে তিন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মারা গেছে প্রায় শতাধিক গবাদি পশু। এছাড়া ফণীর তাণ্ডবে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক বাড়ি-ঘরসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাজিরহাট ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ফকিরের দোন এলাকায় নতুন বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনারচর, মনপুরা ইউনিয়নের ঈশ্বরগঞ্জ, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ওই এলাকা গুলোর প্রায় ২ সহস্রাধিক বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে পড়েন।
 
রাতভর ফণীর তাণ্ডবে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট এলাকায় প্রায় ৩০টি বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মনপুরা থেকে বিচ্ছিন্ন কলাতলীর চর ও চরনিজামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষক হারুন, সুমন ও বাবুলের শতাধিক ভেড়া ও ছাগল মারা গেছে। উপজেলার মাস্টার হাটের পশ্চিম পাশের বেড়ি বাঁধ, দক্ষিণ সাকুচিয়ার সূর্যমুখী বেড়ি বাঁধ, হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনার চর বেড়ি বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় বাঁধ গুলো ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

মনপুরা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।

মনপুরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম জানান, দ্রুত ভেঙ্গে যাওয়া বেড়ি বাঁধ গুলো মেরামত করা হবে।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে ‘ফণী’র আঘাত: এক শিশু নিহত, আহত অর্ধশতাধিক

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বশির আহমেদ জানান, জেলা প্রশাসন থেকে ২০ টন চাল ও ৫০ হাজার টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক চেয়ারম্যানদের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ হয়েছে।

ইত্তেফাক/অনি