শিবচরে ট্রলার-স্পিডবোট সংঘর্ষে নিখোঁজ ২ জনের লাশ উদ্ধার

কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে স্পিডবোট ও ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষের দুইদিন পর নিখোঁজ হওয়া আরও দুইজনের লাশ উদ্ধার করেছে শিবচর থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৪ মে) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কাঁঠালবাড়ী ঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত লাশ দুইটি হলো- শিবচর উপজেলা দত্তপাড়া ইউনিয়নের ইমরান ফরাজীর ছেলে শিশু আমির হামজা (৬) ও বরিশাল জেলার বানাড়ীপাড়া উপজেলার লবণসারা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে ঢাকার কবি নজরুল কলেজের স্নাতক ১ম বর্ষের ছাত্র মিরাজ হোসেন (২০)। এ নিয়ে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩জনে। 

ঘটনার দিনগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিবচর হাসপাতালে মুরাদ হোসেন নামের এক যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় শিবচর থানায় মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তারকৃত ১০ স্পিডবোট চালককে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন, ওসি জাকির হোসেন, পরিদর্শক(তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, পরিদর্শক (অপারেশন) আমির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

নিহত আমির হামজার মামা কামরুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাতে স্পিডবোটটি শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসে। বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপুলিশের গাফলতির কারণেই এই ৩টি জীবনহানি ঘটলো।

নিহত মিরাজের মামা মাঈনুদ্দিন সরদার বলেন, স্পিডবোট দুর্ঘটনার পরেই আমরা কাঁঠালবাড়ি ঘাট এলাকায় অবস্থান করছি। আমার ভাগ্নে মিরাজ ঢাকার কবি নজরুল কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র ছিল, সে ঢাকা থেকে বাড়ি আসার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। 

সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন বলেন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট নদীতে তল্লাশি চালিয়ে শনিবার সকালে দু’জনের লাশ উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে শিবচর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মনপুরায় বাঁধ ভেঙ্গে ৩ গ্রাম প্লাবিত, শতাধিক গবাদি পশুর মৃত্যু

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২ মে) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শিমুলিয়া থেকে ১৬জন যাত্রী নিয়ে একটি স্পিডবোট কাঁঠালবাড়ির উদ্দেশে ছেড়ে আসে। কাঁঠাবাড়ি ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও দশজন আহত হয়। এ দুর্ঘটনায় ২জন নিখোঁজ ছিল। 

ইত্তেফাক/অনি/এমআই