[ আ ন্ত র্জা তি ক ]

তিউনিসিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট এবং আরব বিশ্ব

তিউনিসিয়ার রাজধানীতে বিরোধী দলীয় নেতা ছুকরী বেলায়েতের গুপ্ত হত্যাকাণ্ডের ফলে বহির্বিশ্বের পর্যবেক্ষকদের কাছে দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি একধরনের বড়ো ধাক্কা স্বরূপ। দীর্ঘমেয়াদি গণতন্ত্রের দ্রুত বিকাশের ক্ষেত্রে বিপ্লব পরবর্তী তিউনিসিয়া নামক রাষ্ট্রটিকে মিসর এবং লিবিয়ার তুলনায় বেশি অগ্রসর বলে মনে করা হতো। অন্যান্য পর্যবেক্ষদের কাছে এই গণতন্ত্রের দ্রুত বিকাশের ধারণাটি একটি কল্পিত বিষয় বলে মনে হতো। বর্তমানে মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক তিউনিসিয়াতে গণতন্ত্র বিকাশের যে তদারকি ছিলো তা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে গেছে। কেবল বেলায়েতের হত্যাকাণ্ডই নয় এর আগেও একজন রাজনৈতিক নেতার হত্যাকাণ্ড আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় তিউনিসিয়ার রাজনীতিতে এই ধারাটি বিদ্যমান এবং এটা চলতে থাকবে বলে মনে করা হয়। বিপ্লব পরবর্তী তিউনিসিয়াতে গণতন্ত্র বিকাশের পর্যায় হিসেবে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বিকাশ আশা করা হলেও বাস্তবিক পর্যায়ে এর ততোটুকু অগ্রগতি হয়নি। সাম্প্রতিক কালে তিউনিসিয়াতে পুনরায় যে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তা বিবেচনায় এনে প্রত্যাশিত গণতন্ত্রের বিকাশ অদূর ভবিষ্যতে কতটুকু হবে তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। একই সাথে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মতত্পরতার পাশাপাশি তিউনিসিয়াতে নব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসলামপন্থি দলগুলোর আবির্ভাব হয়েছে। পাশাপাশি আধিপত্য বেড়েছে নব্য মুসলিম নেতাদের, যারা অতীতে মসজিদগুলোতে জনপ্রিয় ছিলো। যারা মূলত তিউনিসিয়াতে যে সহিংস আন্দোলন সংঘটিত হচ্ছে সেগুলোর শিকার হচ্ছে। মূলত দেখা যায়, গত বছরে ‘শেখ লুতফি আল বোয়াল্লাল’ নামক একজন মুসলিম ধর্ম প্রচারককে হত্যা করা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তিনি মূলত ‘জামাত আল তাবলীগ ওয়াল দাওয়াত’ নামক একটি প্রচারণার সাথে জড়িত ছিলেন। যা কোনো ভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল না। যদিও ‘সালাফীদের’ এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়; কিন্তু এখন পর্যন্ত ইসলামপন্থি আন্নাহুদা সমর্থিত তিউনিসিয়া সরকার উক্ত ইসলামপন্থি গ্রুপের কাউকে গ্রেফতার করেনি। তবুও ইসলামী জঙ্গিদের এই ব্যাপারে দোষী করা হয়। উক্ত হত্যাকাণ্ডটি একই সাথে যেমন সহিংসতাকে উস্কে দেয়, তেমনি এটি সমগ্র তিউনিসিয়াতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে মসজিদগুলোতে। স্বৈরশাসক বেন আলীর পতনের পর দেশটির রাজনৈতিক ইসলামপন্থিদের অবস্থান দুর্বল হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে ‘আল তাবলীগ আল দাওয়াত’ শাসনের উপর জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাড়তে থাকে। কিন্তু বর্তমানে তিউনিসিয়ার মসজিদগুলো থেকে এসকল ধর্মপ্রচারকদের উত্খাতের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। ফলে যারা নিয়মিত মসজিদে নামায পড়তে যেত তারা সামরিক তত্পরতার কারণে আর মসজিদে যেতে আগ্রহী হচ্ছে না। এই বিষয়টি সুশীল সমাজের প্রতি এক প্রকার ধাক্কা স্বরূপ আবির্ভূত হয়েছে। সুশীল সমাজের পাশাপাশি যারা সাধারণ জনগণ রয়েছে তারাও এই বিষয়টিকে একপ্রকার সমস্যা হিসেবে দেখছে, কারণ তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনে ধর্ম সঠিকভাবে পালনে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এছাড়া ইসলামপন্থিরা, যারা সালাফি এবং আন্নাহুদা সমর্থিত তারা নানারকম আক্রমণ চালিয়েছে ‘ইউজিটিটি’-এর উপর। এছাড়াও দেশটির ট্রেড ইউনিয়ন এবং সিভিল সোসাইটি মূলত ১৯৫৬ সাল থেকে দেশটির স্বাধীনতার দাবি করে আসছিল। এমনকি গত বছরের শুরুর দিকে তিনটি আঞ্চলিক অফিসে হামলা চালায় এই প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীগুলো। পরবর্তীতে এই হামলার পরিমাণ কমে গিয়েছিল তুলনামূলকভাবে; কিন্তু এটা মনে করার কারণ এই নয় যে, হামলার পরিমাণ কমে গিয়েছে অর্থাত্ এই স্বঘোষিত ইসলামী গ্রুপগুলোর তত্পরতা কমে গিয়েছে। বিশেষ করে ২০১০-২০১১ সালের হামলা কমার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় আন্নাহুদা পার্টি সমর্থিত বেন আলীর পতন। এই ট্রেড ইউনিয়নের অসহিংস আন্দোলনের কারণে ইসলামী জঙ্গি দলগুলোর ক্ষোভ ছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বেন আলীকে ইসলামী দলগুলো সমর্থন জানিয়ে আসছিল। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যারা ইউনিয়ন ফেডারেশনের প্রতি সমর্থন দিয়েছিল তারাই বেশি আক্রমণের শিকার হচ্ছে, ফলে তারা সকল প্রকার সামাজিক কর্মকাণ্ডে যেতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। বর্তমানে তিউনিসিয়াতে যে সমস্যা হচ্ছে, বিগত বছরে আরব রাষ্ট্রগুলো সেই একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। মিসরের ঘটনার একটি আংশিক বহিঃপ্রকাশ তিউনিসিয়াতে বর্তমানে পরিলক্ষিত হচ্ছে। উভয় দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞগণ কর্তৃক, তিউনিসিয়া এবং মিসর পরিদর্শনের পর এবং একই সাথে দেশ দুইটির জনসাধারণের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি বিষয়ই প্রতীয়মান হয়, আর সেটি হলো সামাজিক মানদণ্ডের ক্রমশ অধঃপতন। সামাজিক মূল্যবোধের মাত্রা হ্রাস পেয়েছে। তিউনিসিয়ার মানুষ তাদের প্রতিবেশীদের পাশাপাশি বিদেশিদের উপর একপ্রকার বৈরী মনোভাব পোষণ করছে। অন্যদিকে অস্ত্র ব্যবহারের মাত্রাও বেড়েছে। যুব সমাজ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে, যে রিপোর্টটি পাওয়া যায় দেশগুলোর পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো থেকে। ২০১১ সালের একটি রিপোর্টে বলা হয়, মিসর এবং তিউনিসিয়ার সামাজিক সাম্যব্যবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটেছে। তিউনিসিয়া, মিসর, লিবিয়ার বসবাসকারী জনগণের মাঝে সামাজিক অসঙ্গতি এবং সহিংসতার কারণে দেশে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তবে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায় যেখানে রাজতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তারা নিজেদের রাষ্ট্রকে বিপ্লবের ধাক্কা থেকে দূরে রেখেছে। মরক্কোর কথাই যদি বলা হয়, তাহলে দেখব যে, মরক্কোর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবার পশ্চাতে মুহাম্মদ ষষ্ঠ-এর বড় ভূমিকা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। যদিও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে এগোচ্ছে, তবুও জনমতের মাধ্যমে জানা যায়, সহিংসতার মাধ্যমে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন করার তুলনায় ক্রমান্বয়ে একটি সুষ্ঠ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাসন পরিবর্তন করাই সকলের কাম্য। আর মরক্কোর সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা রাজা হবার কারণে এখন পর্যন্ত দেশটিতে কোনো উগ্রবাদীরা আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। এছাড়া মরক্কোতে যে ইসলামিক ধারা প্রচলিত আছে তার মাত্রা একটি সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে। মরক্কোর সাথে ইহুদীদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, বর্তমান রাজার পিতামহ মুহাম্মদ পঞ্চম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে দুই লাখ ইহুদীকে নাত্সী বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। এছাড়াও দশ লাখ ইহুদীর আদি নিবাস হলো মরক্কো। “ফেজ আলফিসাইনি সিনাগগ” এর পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং এই বছরে এটির উদ্বোধন বিশ্ববাসীর নিকট একটি সম্প্রীতির নিদর্শন হবে ধারণা করা হয়। মরক্কোর বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী আরব রাষ্ট্রগুলোর তুলনায় দেশটি ব্যতিক্রমী। এছাড়াও মরক্কো রাজনৈতিক এবং ধর্মীয়ভাবে অনেকটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এছাড়াও আরব রাষ্ট্রগুলো বিগত দুই বছর ধরে একই পথে হাঁটছে। বিশেষ করে পশ্চিমা পরিদর্শক কর্তৃক কয়েকটি উপসাগরীয় রাষ্ট্রে পরিদর্শন পূর্বক স্থানীয় জনগণের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এটাই জানা যায়, তারা সহিংসতার পথে হাঁটতে রাজি নয়। তবে আলাদা চিত্র দেখা যায় বাহরাইনের ক্ষেত্রে। কারণ হলো- তারা রক্তাক্ত আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দেশের রাজতন্ত্রের অবসানের দাবি জানিয়ে আসছে। ফলে দেশটিতে এখনো অনিশ্চয়তা বিদ্যমান রয়েছে। সৌদি আরবের কথা যদি বলা হয় তাহলে আমরা দেখব অতীতে দেশটি কট্টরপন্থি হলেও বর্তমানে পারিপার্শ্বিক দেশগুলোর কারণে দেশটিতে উদারপন্থি নীতি গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে। কারণ একটাই- সেটি হলো সহিংসতা বর্জন করা। আর আমরা মিসর এবং তিউনিসিয়াতে এর উল্টো চিত্র দেখতে পাই। কারণ হলো- মিসর এবং তিউনিসিয়াতে আমরা বর্তমানে দেখেছি সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতায় আরোহণ বা আরোহণের চেষ্টার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়াস। আবার জর্ডানের কথাই যদি ধরা হয়, সেখানে পশ্চিমাদের মতে- একটি বিপ্লবের আশঙ্কা করা হয়েছিল গত বছরের শেষের দিকে; কিন্তু তা হয়নি। কারণ হলো- রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পার্লামেন্টের নির্বাচন এবং জনগণকে অংশগ্রহণে সুযোগ দেয়ার ফলে সহিংসতার বিষয়টি এড়ানো গেছে। আরবের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কথা যদি বলা হয় তবে বরাবরই একটি প্রশ্ন উঠে আসে সেটি হলো এই গণতান্ত্রিক ধারাটি কি পশ্চিমাদের থেকে ধার করা? বিশেষ করে ওয়াশিংটন বিগত মাসগুলোতে বিভিন্ন সম্মেলনে বরাবরই জানিয়ে আসছে কিভাবে উপসাগরীয় এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে সুষ্ঠুভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায়। এমনকি তারা চিহ্নিত করে আসছে গণতন্ত্র বিরোধী শক্তিগুলোকে যারা বরাবরই সহিংসতার মাধ্যমে দেশগুলোতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায় । যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গত কারণেই এই অঞ্চলগুলোর সাথে একটা দূরত্ব বজায় রেখেছে। এর কারণ হলো- যুক্তরাষ্ট্র এই দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অনুধাবন করতে চায়। খুব অল্প লোকই ধারণা করতে পেরেছিল যে, তিউনিসিয়াতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে। তবে ভবিষ্যতে যাতে এই বিষয়টি কোনো সহিংসতার পর্যায়ে না যায় সেজন্য যে বিষয়টি বলা হচ্ছে সেটি হলো জনমত প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের সহিংস পরিস্থিতির উদ্ভব না হয় তার প্রতি একটি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তিউনিসিয়ার জনগণ যে আশা-আকাঙ্ক্ষায় উদ্দীপ্ত হয়ে দেশটিতে কট্টরপন্থি একনায়কতন্ত্রের পতনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা শুরু করার লক্ষ্যে যে সফল বিপ্লব শুরু করেছিল তা আজ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে হুমকির সম্মুখীন। বিরোধী দলীয় নেতা বেলায়েতের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দেশটিতে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে তা হয়ত পুনরায় একটি বিপ্লবের আভাস বয়ে এনেছে। কেননা যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১১ সালে দেশটিতে জেসমিন বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল তা বিপ্লব পরবর্তী তিউনিসিয়াতে খুব একটা সফল হয়নি। উক্ত বিপ্লবের পর যদিও আন্নাহুদা সমর্থিত বেন আলীর নেতৃত্বাধীন স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছিল তার পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে পাই সাম্প্রতিককালে ঘটমান বিভিন্ন ঘটনা থেকে। কেননা বিপ্লবের ফলে বেন আলীর স্বৈরশাসনের পতন ঘটলেও পরবর্তীকালে কট্টর ইসলামপন্থিদের দ্বারা গণতান্ত্রিক তিউনিসিয়ায় সরকার গঠন পুনরায় দেশটিতে যেন একটি গণতান্ত্রিক আদলের স্বৈরশাসনের জন্ম দিয়েছে। যেখানে সুশীল সমাজ, ধর্ম রিপেক্ষ রাজনীতিবিদ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলসহ সাধারণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল খুবই কম। তাই বলা যেতে পারে, গণতন্ত্র চর্চা ত্বরান্বিত করার পূর্ব শর্ত হিসেবে দেশটিতে সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নিয়ে তিউনিসিয়াতে জেসমিন বিপ্লব সংঘটিত হলেও বিপ্লব পরবর্তীকালে অর্থাত্ বর্তমান সময়ে পূর্ণমাত্রায় গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছে এটা বলা মুশকিল। কট্টর ইসলামপন্থিদের প্রভাব এখনো রয়ে গেছে লক্ষণীয় মাত্রায়। বলা যেতে পারে যে, তিউনিসিয়ার উদারপন্থি এবং ধর্মনিরপেক্ষ জনগোষ্ঠী বিপ্লব পরবর্তী দেশটিতে গণতন্ত্রায়নের ব্যাপারে যতটা আশান্বিত ছিলেন তাদের সেই প্রত্যাশিত গণতন্ত্রের ধারা এখনো শুরু হয়নি। এক্ষেত্রে আমরা বিপ্লব পরবর্তী তিউনিসিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার সাথে মিসরের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির তুলনা করতে পারি। অতি সম্প্রতি বিরোধী দলীয় নেতা বেলায়েতের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিউনিসিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চলমান জনবিক্ষোভের স্রোতে যেন এক নতুন ঢেউ এসেছে। আন্নাহুদা সমর্থিত সরকার উক্ত হত্যাকাণ্ডের পর ব্যাপকভাবে সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বৈরশাসক বেন আলীর নেতৃত্বে বেলায়েতের হত্যাকাণ্ড না হলেও ক্ষমতাসীন আন্নাহুদা সমর্থিত সরকারের ছত্রছায়ায়ই হয়েছে। কেননা তিউনিসিয়ার বর্তমান সরকার বেলায়েতকে হত্যা না করলেও তার জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ই-মেইলঃ kafi.juniv@yahoo.com