নির্বাচনকে সামনে রেখে গুজব, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র ঠেকাতে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল সোমবার মোবাইল অপারেটর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ও এনটিএমসির সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
তিনি বলেন, ভোট নিয়ে প্রপাগান্ডা, গুজব, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বা বানচাল করার উদ্দেশ্যে ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার রুখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নজরদারিতে থাকবে। ফেইক আইডি থেকে প্রোপাগান্ডা করা হলে চিহ্নিত করে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সচিব জানান, সোশ্যাল মিডিয়া কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না বলে মত দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। যারা গুজব ছড়াবে, সহিংসতা ও অপপ্রচার করবে তাদের বিষয়ে এনটিএমসি, বিটিআরসি ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিট মনিটরিং করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। ইসিকে জানিয়েই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান সচিব। সোমবারের সভায় ভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন ভবনসহ সর্বত্র মোবাইল যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি ইন্টারনেটের পূর্ণমাত্রার গতি বজায় রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। সভা উপলক্ষে ইসির প্রস্তুতকৃত কার্যপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন ভবনে নিরবিচ্ছিন্ন মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা প্রয়োজন। গ্রামীণ ফোন ও টেলিটক বাংলাদেশ কর্তৃক নির্বাচন ভবনে স্থাপিত ইন্টারনাল নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ : গ্রামীণ ফোন কর্তৃক নির্বাচন ভবনে ইন্টারনাল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সেটআপ স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে নেটওয়ার্ক খুবই দুর্বল যা দ্রুত সমাধান করতে হবে। এছাড়ও উক্ত সেটআপ-এ ব্যবহূত নেটওয়ার্ক সুইচসমূহের কারণে ভবনের সৌন্দর্য্যহাণি হচ্ছে যা দ্রুত পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
বিকালে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি), ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি), টেলিটক বাংলাদেশ, গ্রামীণ ফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এ বৈঠক করেন।
ইসি সচিব বলেন, ফেসবুকে প্রচারণার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ আচরণবিধির আওতায় নেই। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, সাংবিধানিক পদ ব্যতিত অন্যান্য যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে যারা লাভজনক পদে রয়েছেন, তারা পদত্যাগ করে মনোনয়ন পত্র দাখিল করতে হবে।
গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে ওই ব্রিফিংয়ের সময় ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান, যুগ্মসচিব (আইন) সেলিম মিয়া, যুগ্মসচিব এসএম আসাদুজ্জামান আরজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।