প্রজন্ম
নতুন প্রজন্মের উত্থানে দেশ ’৭১-এর চেতনায় ফিরে যাবে
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৭
প্রজন্ম চত্বর শাহবাগের গণজাগরণের আজ ২৪ দিন পার হচ্ছে। ক’দিন আগে ব্লগার রাজিবকে শত্রুপক্ষের আঘাতে প্রাণ দিতে হয়েছে। রাজিবের জানাজায় প্রজন্ম চত্বর শাহবাগে লাখ লাখ জনতার সমাগম হয়েছে। শোককে জনতা শক্তিতে পরিণত করেছে। দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান যেমন ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সফল হয়েছে। ’৭০-এর নির্বাচন যেমন দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা বঙ্গবন্ধুকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে, কেউ তা ঠেকাতে পারেনি। ’৭১-এ যেমন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সাড়ে সাত কোটি জনতার অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে। ঠিক তেমনি ২০১৩ সনের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে বাংলাদেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার অংশগ্রহণে একটি বিপ্লব ঘটে যাবে তাতে আর কোন সন্দেহ নেই। শীত, রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রজন্ম চত্বরে নতুন প্রজন্মের তরুণসহ লাখ লাখ জনতার অবস্থান অব্যাহত আছে। তাদের মুখের শ্লোগান জয় বাংলার মুহুর্মুহু ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হচ্ছে। তাদের শ্লোগান রাজাকারের ফাঁসি চাই, সাম্প্রদায়িক দলের মৃত্যু চাই। এখনো যারা নতুন প্রজন্মের সমাবেশকে নিয়ে কটূক্তি করছেন, এখনো যারা বলছেন যে, এটা আওয়ামী লীগের নাটক, তারা মনে রাখবেন, একাত্তরে রাজাকাররা যেমন পরাজিত হয়েছিল আপনারাও ঠিক তেমন ঐ রকমে পরাজিত হবেন। আপনাদেরকেও জনতা ‘তুই রাজাকার’ বলবে।
নতুন প্রজন্মকে তারা ভয় পাচ্ছেন কেন। নতুন প্রজন্মের জাগরণের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করুন। জামায়াতকে পরিহার করুন। আর যদি তা না করেন, মনে রাখবেন নতুন প্রজন্মের যে উত্থান হয়েছে তা কোনভাবেই রোধ করতে পারবেন না। যারা ’৭১-এর চেতনাকে পদদলিত করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের কবর এ দেশে থাকবে না। সামনের দিনগুলো তাদের খুবই খারাপ। এখনো সময় আছে পথে আসুন।
বর্তমান যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের-এর মন্তব্যে আমি অবাক হয়েছি এবং দুঃখও পেয়েছি। তিনি বলেছেন, জামাত অনেক শক্তিশালী, জামাতের আর্থিক শক্তি অনেক, জামাতের দেশ-বিদেশে অনেক বন্ধু আছে। ওবায়দুল কাদের ভাই আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চাই, মোনায়েম খানের সময় মুসলিম লীগ এবং এনএসএফ খুবই শক্তিশালী ছিল, টাকা-পয়সারও তাদের অভাব ছিল না। কিন্তু ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তাদের কোথাও খুঁজেও পাওয়া যায়নি। নতুন প্রজন্ম ও জনতা যখন জাগে, তখন তাদের সামনে কোন শক্তিই টিকে থাকে না। আপনি তো এটা বিশ্বাস করবেন যে কোন অপশক্তিই বেশিদিন টিকে না। জামায়াত-শিবির যে একটা অপশক্তি তা তো আপনি বিশ্বাস করেন। তাহলে কিভাবে বলেন যে, তারা এতই শক্তিশালী যে তাদেরকে পরাজিত করা যাবে না। ’৭১- সালে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় প্রমাণ করে যে কোন অন্যায়, কোন অপশক্তি শেষ পর্যন্ত টিকে না। আপনার কাছে আমার অনুরোধ আপনি বর্তমান জাগ্রত জনতার চেয়ে জামায়াতকে শক্তিশালী হিসেবে দেখবেন না। এ কথা আজ সবাই বিশ্বাস করে যে নতুন প্রজন্মের দাবি “রাজাকারের ফাঁসি চাই ও জামায়াত শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে চাই।” নতুন প্রজন্মের এ চাওয়া অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশে ’৭১-এর চেতনা পুনরায় ফিরে আসবে। বাংলাদেশ রাজাকারমুক্ত হবে। আমাদের সামনে সোনালী দিন। সবাইকে আহ্বান জানাব এখনো যদি কেউ নতুন প্রজন্মের জাগরণের সাথে একাত্ম না হয়ে থাকেন তাহলে আর দেরি না করে নতুন প্রজন্মের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করুন। আমরা ’৭১-এর চেতনায় ফিরে যেতে চাই। আমরা সবাই মিলে জয় বাংলা শ্লোগান দিতে চাই। জয় বাংলা।
লেখক :সাবেক ব্যাংকার ও ছাত্রনেতা