এক বছরে ব্যাংকিং খাতে স্থিতি বেড়েছে ২০ শতাংশ

গত এক বছরে ব্যাংকিং খাতে ঋণ-আমানত অনুপাত হার (এডিআর) কমার পাশাপাশি আমানত স্থিতি উল্লে¬খযোগ্যহারে বেড়েছে। ২০১২ সালে গ্রাহকরা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫৬৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আমানত হিসেবে জমা রেখেছে। এ ক্ষেত্রে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমানত স্থিতির পরিমাণ ২০ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে সার্বিক ব্যাংকিং খাতে আমানত স্থিতির প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। হিসাব অনুযায়ী আমানত স্থিতির তুলনায় ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ কম রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১২ সালের ডিসেম্বর ভিত্তিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, আলোচ্য সময় পর্যন্ত গ্রাহকরা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫৬৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আমানত হিসেবে জমা রেখেছে- যা এযাবত্ কালের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১১ সালে এর পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ সময়ে ব্যাংকগুলো আন্তঃব্যাংক বা গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ করেছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৫৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৬৪ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। আমানত স্থিতির প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বাসসকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকি, সহনশীল মুদ্রানীতি এবং ঋণ শ্রেণীকরণে নতুন নীতিমালা চালু করায় ব্যাংক ব্যবস্থায় আমানতের পরিমাণ বাড়ছে। একই সঙ্গে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমছে।’ তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন বিশেষ করে কৃষি, এসএমই, নারী উদ্যোক্তা ও পরিবেশবান্ধব খাতে ঋণ বিতরণ ও আদায় এবং গ্রাহক সেবার মানোন্নয়ন আমানত স্থিতির পরিমাণ বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বৈশ্বিক মন্দার মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই পরিমাণ আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণ যে কোন বিবেচনায় ইতিবাচক বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বাসসকে বলেন, উচ্চহারে প্রবাসী আয় প্রবাহের পাশাপাশি খাদ্যজাত পণ্যের আমদানি হ্রাস এবং মূল্যস্ফীতি কমে আসায় ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। এর ফলে আমানত স্থিতি বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার ব্যাংক সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকে গ্রাহকরা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আমানত হিসেবে জমা রেখেছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি আমানত স্থিতি রয়েছে সোনালী ব্যাংকের। ব্যাংকটির এ সময় পর্যন্ত মোট স্থিতির পরিমাণ হচ্ছে ৫৫ হাজার ৪৫৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বেসরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা স্থিতি রয়েছে। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে গ্রাহকরা ইসলামী ব্যাংকে সবচেয়ে বেশি আমানত রেখেছে। ব্যাংকটির ডিসেম্বর শেষে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। এদিকে বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। আর ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলো ঋণ দেয়ার চেয়ে আমানত সংগ্রহ করেছে বেশি।