ভিনদেশি
জেটপ্যাকে উড়ার স্বপ্ন
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০১৩, ১৮:০৪
এমন একটি স্যুটের কথা কল্পনা করুন তো, যেটা পড়ে উড়ে যাওয়া যাবে আকাশে। বেশিদূর কল্পনা করতে হবে না, কারণ এমন অসংখ্য স্যুট আমরা সিনেমাতে দেখেছি। জেমস বন্ডের মুভিগুলোতে বেশিরভাগ এ ধরনের স্যুটের ব্যবহার ছিল। টম ক্রুজের অ্যাকশন মুভিতেও দেখা গেছে এমন স্যুট। এ ধরনের স্যুট যদি বাস্তাবে পাওয়া যায় কেমন হবে ব্যাপারটি! ঠিক এমন একটা কাজই করে দেখিয়েছেন মার্টিনসন নামের এক তরুণ। তাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
উড়ন্ত স্যুট শুধু সিনেমাতেই নয়, বাস্তবেও দেখা সম্ভব। এই ধরনের কল্পনাকে যিনি বাস্তব রূপ দিয়েছেন, তিনি হলেন, মার্টিন। তিনি পেশায় একজন এয়ারফোর্স পাইলট। মার্টিন এয়ারক্রাফট কোম্পানি শুরু করার সময়ে তাদের সবার মনের বাসনা ছিল পাখিদের মতো আকাশে উড়ার। আর আজ তাদের সেই আশা সফল হওয়ার পথে। ১৯৬১ সালে তৈরি বেল রকেট বেল্টের নতুন সংস্করণ এই জেট প্যাক, এটি মার্টিনস জেট প্যাক নামে পরিচিত। নিউজিল্যান্ডের গ্লেন মার্টিন নামের এক ব্যক্তি আকাশে ওড়ার এই যন্ত্রের আবিষ্কারক। ১৯৬১ সালে বেল রকেট বেল্টের মাধ্যমে আকাশে ওড়ার যে স্বপ্ন স্থাপিত হয়েছিল, বেশ কয়েক বছর প্রচেষ্টার পর মার্টিন তার জেট প্যাক দিয়ে তাকে দিয়েছেন বাস্তব রূপ। বেল রকেট বেল্টের সঙ্গে মার্টিনের জেট প্যাকের পার্থক্য হলো, এটি অনেক বেশি বাস্তবানুগ। এই জেট প্যাকে দুটি ব্লোয়ারের মাধ্যমে শক্তি উত্পাদন করে আকাশে ওড়া যাবে। এতে ব্যবহূত হয়েছে ২০০ হর্স পাওয়ারের ইঞ্জিন। যে ইঞ্জিনের শক্তি একটি হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়ির চেয়েও বেশি। মার্টিনের জেট প্যাকের মাধ্যমে দুই হাজার ৫০০ মিটার পথ আকাশে ভেসে অতিক্রম করা যায়।
‘জেট প্যাক’ (এক বিশেষ ধরণের যন্ত্র যা মানুষের পিঠে লাগানো থাকে এবং গ্যাসচালিত যন্ত্রটি ব্যবহার করে সে উড্ডয়ন করতে পারে) নামের এই গ্যাজেট ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া বন্ড সিরিজের ছবি ‘থান্ডারবল’ -এ দেখা গেছে। ছবিতে কর্নেল বয়েভারের গোপন হত্যাকাণ্ডের পর বন্ড নিরাপদে ছিলেন এই বিশেষ ধরনের বিমানে চড়ে। জেমস বন্ড মুভির অন্য সিরিজে বন্ডকে এই গ্যাজেট খুব কমই ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছেন মিস্টার কিউ।
ইতিহাস :২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জার্মানি এক ধরনের জেট টিউব নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করছিল। ডিভাইসটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘হেভেন স্টোরমার’। পিঠের কাছে দুটো সিলিন্ডার বাধা থাকত, সেখান থেকে গ্যাস বের হতো। এগুলোর কাজ ছিল, লিফট করা অর্থাত্, উত্তোলন করা। চাপের ফলে এটা তৈরি হয়। প্রথম দিকের পরীক্ষাগুলোতে এই যন্ত্রের উড়ার ক্ষমতা ছিল ৬০মিটার, বা ১৮০ ফিট। তবে এগুলোর অ্যালটিটিউড ছিল খুবই কম। প্রায় ৫০ ফিটের মতো। তবে সমস্যা ছিল ফুয়েল নিয়ে। সিলিন্ডারগুলো এত ক্ষমতাসম্পন্ন ছিল না যে মানুষের ভার বহন করতে পারে। তারমানে এই সিলিন্ডারগুলোতে বেশি ফুয়েল আটানো সম্ভব ছিল না। যুদ্ধ শেষে এই ডিভাইস কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল। জার্মান গবেষণাগারে তখনও এই যন্ত্রটি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এটাকে পরবর্তীতে নাম দেওয়া হয়, রকেট প্যাক। সেই সাথে টেকনিক্যাল সমস্যাগুলো দূর করে নতুন করে ডিজাইন করা হয়েছে। বিগত দুই বছরে মার্টিনের জেট প্যাকটি সেই দেশের সরকারের আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল। সেই থেকে এই যন্ত্রের আপডেটের কাজ শুরু করা হয় পুরোদমে। তবে এখনও এই নতুন জেটপ্যাক ভার্সনটির নাম দেওয়া হয়নি। এখনও এটি জনসমক্ষে আনার দিন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। মূলত মিলিটারির কাজের জন্যই এই যন্ত্রটির প্রতি আগ্রহ সরকারের। তবে কাস্টমার ডিমান্ড ও ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারেস্ট দেখে এই যন্ত্রটিকে প্রোমশন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। মার্টিন এয়ারক্রাফট কোম্পানির ধারণা এই জেটপ্যাকের সেই পোটেনশিয়ালিটি আছে যা তাদের জন্য ইন্টারন্যাশনাল আর্নিং সোর্স হতে পারে।