বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

০০০০০০০০০০ সর্বাগ্রে প্রয়োজন সকলকে গণতান্ত্রিক হওয়া বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ নিয়ে আমরা কমবেশি সবাই চিন্তিত। কারণ আমরা উদারতাকে দুর্বল করে দেখি বা ভাবি। আমাদের দেশে রাজনীতির চর্চা তেমন শোভন নয়। হানাহানি, মারামারি নিয়ে সকল দলই ব্যস্ত থাকে। অন্যের মতকে আমরা উপেক্ষা করি। আর আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতি বার বার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গণতন্ত্রের চর্চা তেমন হয়নি। যতটুকু হয়েছে, তাও আবার দুটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে তারা উদার রাজনীতির পথে কেউ হাটেনি। কুত্সা, একে অন্যকে পদদলিত করা, সহমতকে শ্রদ্ধা না করাই যেন আমাদের রাজনীতি। এ থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে আমরা কখনই উদার রাজনীতির পথে হাঁটতে পারবো না। উদার রাজনীতির ভবিষ্যত্ হবে অন্ধকারময়। গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত না থাকলে আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে মূল্যায়ন যেমন করতে পারি না, তেমনি, জনকল্যাণেও কোন কাজ করা যায় না। আমাদের দেশের রাজনীতি হচ্ছে একদল ক্ষমতায় যাবার জন্য যেমন তেমন রাজনীতি করে আবার অন্যদল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নানান রকম ফন্দিফিকির করে। তাদের কারো মধ্যে উদার গণতান্ত্রিক চরিত্রের কোন লক্ষণই দেখা যায় না। তাহলে আমরা কেমন করে ভাবতে পারি যে, বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ ভালো বা উজ্জ্বলময়। আমাদের রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে সকল দলের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতার চর্চা আগে করতে হবে। উদারতার কথা যত সহজে বলা যায়, তত সহজ নয়। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক হালচাল লক্ষ্য করলেই এর ধরন ধারণ বুঝা যায়। তাই সর্বাগ্রে প্রয়োজন সকলকে গণতান্ত্রিক হওয়া। তারপর উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি নিয়ে কথা বলা। বিপাশা দত্ত রসায়ন, সন্মান (দ্বিতীয় বর্ষ) নেত্রকোনা সরকারী কলেজ, নেত্রকোনা। ০০০০০০০০০০০ ভবিষ্যতে দেশে গণতন্ত্র বিলীন হয়ে যেতে পারে দেশে চলমান ‘রাজনৈতিক হত্যা’ কারো জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা প্রতিপক্ষ দলের কর্মীদের হত্যা করা মোটেও সমীচীন নয়। এটি সরকারি দল ও বিরোধী দল কারো জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। আজ একদল ক্ষমতায় আছে, কাল থাকবে আরেক দল, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। এভাবে পুলিশ, বিজিবি দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এটা আরো ভয়াবহ রূপ নেবে। কোন গণতান্ত্রিক সমাজে এটা কাম্য নয়। এটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সহিংসতা আরো ভয়াবহ রূপ নেবে। এদেশ ১৬ কোটি মানুষের। কোন রাজনৈতিক দলের কাছে দেশকে ইজারা দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত থাকলে ক্ষতি হবে দেশের ১৬ কোটি মানুষের। ধ্বংস হবে দেশের অর্থনীতি। হুমকির মুখে পড়বে দেশ, জাতি ও গণতন্ত্র। চলমান রাজনৈতিক হত্যাকান্ড দেশের সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে আমাকে ভাবিয়ে তোলে। এটা অব্যাহত থাকলে উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে। ভবিষ্যতে দেশে গণতন্ত্র বিলীন হয়ে যেতে পারে। কারণ বর্তমান বিরোধীদল ক্ষমতায় আসলে তারাও সরকারের দেখিয়ে দেয়া পদ্ধতিতে চলতে বাধ্য হবে। বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে প্রতিহিংসা দূর করে সকল রাজনৈতিক দলকে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। সারওয়ার হোসাইন মাস্টার্স, রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। ০০০০০০০০০০০০০ গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার প্রতি উদার হতে হবে মিছিল, সভা করা যে কোন মানুষের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু বর্তমানে মিছিল-মিটিংয়ে পুলিশ যেভাবে বাধা দিচ্ছে, তাতে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে বলে আমার মনে হয়। দেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। সকল দলমতকে গণতান্ত্রিক অধিকার পালনের সুযোগ দিতে হবে। তাহলে রাজনৈতিক সহিংসতা কমে আসবে। রাজনৈতিক হত্যাকান্ড আগের যেকোন সময়ের তুলনায় বেড়েই চলছে। এটা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অশুভ সংকেত। এখনই এটা বন্ধ করতে হবে। গণতন্ত্র চর্চা বাড়িয়ে সকল দলকে গণতন্ত্রমনস্ক হতে হবে। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার প্রতি উদার হতে হবে। তাহলেই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিহিংসা দূর হবে বলে আমি মনে করি। দেশকে কিভাবে একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় সে সকল বিষয় নির্ধারণ করে পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো কাজ করলে উদার গণতান্ত্রিক ভবিষ্যত্ শক্তিশালী হবে। হাসনা বেগম ৩য় বর্ষ ১ম সেমিষ্টার, রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। ০০০০০০০০০০০০০ গণতান্ত্রিক উদারতা না থাকলে রাজনীতির ভবিষ্যত্ খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাবে বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা কতটুকু আছে, আগে সে বিষয়টা আমাদের ভেবে দেখতে হবে। এদেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার আড়ালে যে সব ঘটনা ঘটে তা গণতন্ত্রের জন্য মোটেই সুখকর নয়। এদেশে গণতন্ত্র মানে যার যা ইচ্ছা তা করা। আর এর মধ্যে যদি আবার উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির কথা বলা যায়, তাহলে রাজনীতির বারোটা একেবারে বেজে যাবে। মূলত আমরা স্ব স্ব ক্ষেত্রে মোটেই উদার নই। আবার নিজের কাজ আদায়ের জন্য অন্যকে উদার হতে বলি, কিন্তু নিজের বেলায় নয়। এই অবস্থার মধ্যে রাজনৈতিকভাবে উদারতা আমরা কতটুকু মেনে নিতে পারবো বা আমাদের সরকার এই ব্যাপারে কি ভূমিকা রাখতে পারে, তার প্রেক্ষিতটা আগে বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪২ বছর পার হতে চললো, কিন্তু এখানো আমরা গণতান্ত্রিক হতে পারিনি। অবশ্য গণতান্ত্রিক শাসন বার বার বাধগ্রস্ত হয়েছে। অগণতান্ত্রিক শক্তি আমাদের পিছনে ফেলে দিয়েছে বার বার। গণতন্ত্রের শিক্ষা আমরা তেমন পাই না। গণতান্ত্রিক রাজনীতির উদার ভবিষ্যত্ নিয়ে আমরা চর্চার কোন সুযোগ পাইনি। দেশে বর্তমানে যে রাজনীতি চলছে, তাকে আমরা কি বলবো। জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর দেশের রাজনীতিতে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা মেনে নেয়া যায় না। কথিত উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির নামে দেশে যে নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি করা হচ্ছে,তাতেও আমরা ভীত সন্ত্রস্ত। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, হলমার্ক কেলেংকারিসহ নানান দুর্নীতিতে দেশে নানান সংকটের তৈরি হয়েছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আমাদের সকলকে আচরণের পরিবর্তন করতে হবে। সহিষ্ণু হতে হবে। তা না হলে রাজনীতির ভবিষ্যত্ মঙ্গলজনক হবে না। উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি বলতে কিছু থাকবে না। গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র চালু হবে। রাজনীতির ভবিষ্যত্ খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাবে। অরুন্ধতি পাল শেষ বর্ষ সন্মান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।