স্টাইলশপ
অটবির দুনিয়ায়
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০১৩, ১৯:৩৮
নিতুন কুণ্ডু নিয়মিত চিত্রাঙ্কন ও ভাস্কর্য নির্মাণের পাশাপাশি, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে তার শুক্রাবাদের বাসা থেকে কারুপণ্য তৈরি করা শুরু করেন ১৯৭৪ সালে। মাত্র চারজন কর্মী নিয়ে সে সময়কার ছোট্ট দোকানটির নাম ছিল ‘দ্য ডিজাইনার’। ১৯৭৭ সালে তোপখানা রোডের একটি টিনশেড ভবনে ‘আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট’ নামে একটি ছোট্ট দোকানের যাত্রা। এখানে তৈরি হতো কোট পিন, কাপ, ক্রেস্ট, ট্রফি, কারুকার্যময় টেবিল ল্যাম্প ও কিছু মেটালিক ফার্নিচার। সেই অটবি আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম কুড়িয়েছে, দেশ ছাড়িয়ে বাইরেও রয়েছে তাদের শো-রুম। ঢাকার মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়ায় মূলসড়কের পাশেই অটবির সুবিশাল শো-রুমে হাজির হয়েছিলাম আমরা তাদের পসরা দেখতে। লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র, ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
ঘর মানুষের একান্ত আপন ঠিকানা। সুখের নীড় গড়ার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তিরই থাকে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। সম্পর্কের সেতুবন্ধনের মাধ্যমে ঘর যেমন ‘ঘর’ হয়ে ওঠে, তেমনি ঘরের আসবাবের মাধ্যমে ঘরের লোকের রুচির পরিচয় মেলে। সবাই চায় তার ঘরটা হয়ে উঠুক অন্যদের তুলনায় আকর্ষণীয় ও পরিপাটি। ঘর ও ফার্নিচার অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। ফার্নিচার কিনতে চাইলেও অনেকেই বুঝতে পারেন না কী কিনবেন এবং কেন কিনবেন। না বুঝেই যত্রতত্র থেকে ফার্নিচার কিনে পরে অনুশোচনায় ভোগেন। ব্র্যান্ড পণ্যের সব সময়ই বিশেষ মূল্যায়ন রয়েছে, যা আমাদের প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। ফার্নিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম ব্র্যান্ড হলো ‘অটবি’। বলছিলেন শ্যাওড়াপাড়ার শো-রুম ম্যানেজার মঈনুর রহমান।
চার তলার পুরোটা জুড়েই রয়েছে নান্দনিক ডিজাইনের ফার্নিচারের সমাহার। নিচে লিভিং রুম ফার্নিচার থেকে শুরু করে বেডরুমের অনেক ফার্নিচারই দেখা যাবে। দামেও রয়েছে ভিন্নতা। লেমিনেটেড উডের আসবাবগুলো একটু কম দামে পাওয়া যাবে কাঠের চেয়ে। যদিও অটবি এগুলোর মান নিয়ে আপস করে না কখনও। প্রথমে ক্রেস্ট তৈরি দিয়ে শুরু করার পর ফার্নিচার শিল্পে প্রসার লাভ করে অটবি। হোম ফার্নিচার এবং অফিস ফার্নিচারের মেটাল ও লেমিনেটিং বোর্ড ব্যবহারের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম ফার্নিচার শিল্পে সৃষ্টিশীলতা এবং নতুন মাত্রা যোগ করেন। হোম ফার্নিচার, কিচেন ক্যাবিনেট, অফিস ফার্নিচার, চিলড্রেন ফার্নিচার, হসপিটাল ফার্নিচার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফার্নিচার, অলওভার ইন্টেরিয়র, প্লাস্টিক ফার্নিচারসহ নতুন যুক্ত অ্যাপোলো এয়ারকন্ডিশনার ইত্যাদি কনসেপ্টের সমাহারে অটবি এখন সমৃদ্ধ।
অটবি উডেন ফার্নিচারের যাত্রা শুরু হয় ২০০৮ সালে। সাভারে এক হাজার একর জমির ওপর নির্মিত অটবির নিজস্ব কারখানা রয়েছে। অটবি উডেন ফার্নিচারে ব্যবহূত হয় সরাসরি মিয়ানমার থেকে আসা সেগুন এবং চিটাগাং সেগুন। এ ছাড়া অটবি পণ্যে ব্যবহূত এলবি বোর্ড মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। বাংলাদেশের একমাত্র অটবি পণ্য দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও বাজারজাত করা হয়ে থাকে। কলকাতায় অটবির দুটি শোরুম এবং ২০টি ডিলারশিপ রয়েছে। ২০০৯ সালে অটবি কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস চালু করে। সারাদেশে ২০টি শোরুমসহ ৩১৫টি আউটলেটের মাধ্যমে অটবি পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে আছে। অ্যাপোলো এয়ারকন্ডিশনার ২০০৬ সালে বাজারজাত করা হয়। অটবি বাংলাদেশে এই প্রথম নিয়ে এসেছে ‘অ্যাপার্টমেন্ট কনসেপ্ট’। ঘর সাজাতে অ্যাপার্টমেন্ট অনুযায়ী অনেক ডিজাইন রয়েছে তাদের। এ ধারণার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে নতুন ১১০টি ডিজাইনের ফার্নিচারে। এসব ফার্নিচারের ডিজাইনে চারটি নতুন থিম রয়েল, কন্টেম্পরেরি, হেরিটেজ এবং এক্সেটিক ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ফার্নিচারে রয়েছে ভিন্ন চারটি রং—ইংলিশ উক, ব্ল্যাক উক, ক্রিমি ওয়ালনাট এবং চেস্টনাট।
চার তলায় রুচিশীল ও অত্যাধুনিক ডিজাইনের সব ধরনের অফিসিয়াল ফার্নিচার অটবিকে সমৃদ্ধ করেছে। ডেকোরেশন ও ফার্নিচারের ওপর একটি অফিসের গুরুত্ব অনেকটা নির্ভর করে। অটবি একটি অফিসের অলওভার ডেকোরেশন নিজস্ব তদারকির মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকে, যা একটি অফিসে কর্মকর্তাদের কাজের সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এসব ফার্নিচারের মধ্যে রয়েছে—এক্সিকিউটিভ টেবিল, সুইভল চেয়ার, ফিক্সড চেয়ার, সোফা, ফাইল ক্যাবিনেট, আলমারি, ড্রয়ার ইউনিট, স্টোরেজ রেক, কম্পিউটার টেবিল ইত্যাদি।
হোম ফার্নিচারের মধ্যে রয়েছে খাট, আলমারি, শোকেস, বুক শেলফ, পড়ার টেবিল, কম্পিউটার টেবিল, সোফা, ডাইনিং টেবিল উইথ চেয়ার, ড্রেসিং টেবিল, ওয়ারড্রোবসহ একটি ঘরে যা যা প্রয়োজন অটবি তার সবকিছুই সরবরাহ করে থাকে। এ ছাড়া অটবির রয়েছে কিচেন ক্যাবিনেট সার্ভিস।
দরদাম :অটবি উডেন ফার্নিচারের মধ্যে খাট কিং সাইজের দাম পড়বে ২৩,০০০ থেকে ৭৪,০০০ টাকা পর্যন্ত। ডবল খাট ২০,০০০ থেকে ৬৫,০০০ টাকা। আলমারি টু পার্ট থেকে ফোর পার্টের্র দাম পড়বে ৩০,০০০ টাকা থেকে ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত। শোকেস ৩০,০০০ থেকে ৯৭,০০০ টাকা । ডাইনিং টেবিল উইথ চেয়ার ৩০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকা। অটবি এলবি বোর্ডের খাট ১০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা। আলমারি ৭,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা, বুকশেলফ ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা। কম্পিউটার টেবিল ২০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত।