বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০১৩, ২০:৩৪
গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনাই হলো উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্
স্বাধীনতার কয়েক দশক অতিবাহিত হলেও দেশ হিসেবে আমরা আজও আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। দেশের প্রতি যথাযথ নাগরিক দায়িত্ব পালনে ঘাটতি। সামগ্রিক উন্নয়ন কাজের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, সীমাহীন দুর্নীতি মূল লক্ষ্য নয়। প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে এবং রাজনৈতিক প্রধানদের সকল কাজের জবাবদিহিতা থাকা উচিত। জনগণের মতের প্রতি সহনশীল মনোভাব ও শৃঙ্খলা আনয়ন এবং জাতীয় ঐকমত্য, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অযোগ্য ও অদক্ষ শ্রেণীর লোকদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করা উচিত। ভোটদাতা, আইন প্রণেতা, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মচারী, সবাই দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে ওঠায় জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। অতএব ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের পথ সুগম করতে পারে উদার গণতন্ত্র। পরিশেষে আমাদের চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, গুম ইত্যাদি পরিবর্তনে সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করতে হবে।
আবদুল মালেক
বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটি
উদার ও ত্যাগের মানসিকতা লালনের মাধ্যমেই কেবল উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করা সম্ভব
বাংলাদেশ সম্ভবত এখন কঠিন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। যেখানে-সেখানে সংঘাত-সংঘর্ষ, আহত-নিহতের আহাজারি। মানুষ সর্বদা আরো বড় ধরনের কোন রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যদিয়ে দিনাতিপাত করছে। মা তার সন্তানকে স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারছে না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিটি তার কাজে বাইরে গেলে সবাই উত্কণ্ঠায় থাকে। বাসা-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, হল-ছাত্রাবাস-মেস, কর্মস্থল কোথাও যেন কোন নিরাপত্তা নেই। সর্বত্র একটা উদ্বিগ্ন ভাব। কখন যে কোথায় কি হয়ে যায়! এরূপ সংকটময় পরিস্থিতি তৈরির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী আমাদের রাজনীতিবিদদের স্বার্থবাদী, অপরিণামদর্শী রাজনীতি চর্চা। আমাদের দেশ যত বড় নয় আমরা আজ তার চেয়ে ঢের বেশি রাজনীতি করছি। যেখানে ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’— এ নীতিতে রাজনীতি চর্চা হওয়ার কথা সেখানে এখন ঠিক তার উল্টোটা হচ্ছে। এমতাবস্থায় উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বপ্ন দেখা বড়ই দুষ্কর। এখন জাতির প্রয়োজন এক সাহসী ত্রাণকর্তার, যিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিতে পারবেন। পারবেন জাতিকে এ সংকট থেকে উত্তরণের দিশা দিতে। জানি এ জাতি সংগ্রামে জয়ী হওয়ার পরীক্ষায় পরীক্ষিত। তাই এখনো দূরে ক্ষীণকায় আশার আলোকোচ্ছটা দেখতে পাই। যদি আমাদের মত তরুণ-যুবাদের সত্, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলা যায় আর তারা যদি লেজুড়বৃত্তির সকল শিকল ছিন্ন করে নিঃস্বার্থভাবে দেশ গড়তে এগিয়ে আসে, সংকট উত্তরণে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, আত্মকলহ, প্রতিহিংসা ও ভোগের পরিবর্তে আত্মসমালোচনা, উদার ও ত্যাগের মানসিকতা লালনের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করতে পারে, হয়তো পারবে; তবেই এ দেশের রাজনীতির আকাশে উদার গণতন্ত্রের ভেলা ভাসবে। আর তা থেকে নিঃসৃত বারিধারায় সিক্ত হয়ে আমাদের নেতা ও জনতা তখন একসাথে দেশের ভাগ্যোন্নয়নে ব্রত হবে। নিরসন হবে সকল সংকটের। নিশ্চিত নই, তবু এ প্রত্যাশাই করি।
নূরুল্লাহ মুহিত
৫ম সেমিস্টার, ৩য় বর্ষ,
আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশের রাজনীতি উদার গণতান্ত্রিক, নাকি গণতন্ত্রের নামে ভিন্ন কিছু
বাংলাদেশের রাজনীতি কি প্রকৃতই গণতান্ত্রিক, নাকি গণতন্ত্রের পথ ধরে ক্ষমতায় আসীন হওয়া এবং তার চর্চা ? আজ যখন গণতান্ত্রিক রাজনীতির কথাটি মনে পড়ে ঠিক তখনি প্রথমে যে বিষয়টি নানা প্রশ্নের জন্ম দেয় তা হলো গণতন্ত্র। কেননা এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে যে কোন রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ক্ষমতা দখল করে যে কোন কার্য সম্পাদন করতে পারে। পরক্ষণে মনে হয়, আসলে রোগটি গণতন্ত্রের নয়, যারা গণতন্ত্রের অপচর্চা করে তাদের। আজ আমাদের রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের পথ ধরে সরকার গঠন করছে এবং তাদের আনুকূল্যে নতুন আইন প্রণয়ন হচ্ছে। আজকে সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা এবং দ্বিমুখী সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। একদিকে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের তরুণ প্রজন্মের দাবি স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি, অপরদিকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে জামায়াত শিবিরের তাণ্ডবী কর্মকাণ্ড দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই রাজনৈতিক পরিবেশ, দেশকে অনিশ্চিত রাজনীতির হাত থেকে মুক্ত করার জন্য তরুণ সমাজ ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর স্বাধীনতা আন্দোলন ও স্বাধীনতার পর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যে ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল সে ভূমিকায় আরেকবার অবতীর্ণ হওয়া দরকার।
প্রসেনজিত্ চন্দ্র বর্মন
৩য় বর্ষ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সুস্থ ও উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য
সত্, চরিত্রবান, যোগ্য ও সুশিক্ষিতদের
হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়া প্রয়োজন
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দিন যতই যাচ্ছে ততই রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হচ্ছে। রাজনীতির অঙ্গনে আসছে অশনিসংকেত, যার কারণে গণতন্ত্র আজ বিপর্যয়ের পথে। স্বাধীন হয়েছে সেই কবে, আজও প্রতিষ্ঠা হয়নি গণতন্ত্র। ৪১ বছর পরও আমরা অপেক্ষা করছি গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ কবে উদার হবে। আগামীদিনে বাংলাদেশে সুস্থ ও উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য সত্, চরিত্রবান, যোগ্য ও সুশিক্ষিতদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়া প্রয়োজন। এই নির্বাচন নিয়ে যদি বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ দেখা দেয় তাহলে দেশটা ধ্বংসের মুখে ধাবিত হবে। উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দলকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে হবে। দলমত নির্বিশেষে দুর্নীতিমুক্ত সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিতে সম্পৃক্ত সকল সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজকে বহিষ্কার করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দল হতে হবে কলঙ্কমুক্ত। তাহলেই আমরা সাধারণ জনগণ রাজনীতির মাধ্যমে শান্তি ফিরে পাবো। তাই সুস্থ ও উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য সত্, চরিত্রবান, যোগ্য ও সুশিক্ষিতদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়া প্রয়োজন।
মো. সবুজ খান
স্নাতক (সম্মান), ব্যবস্থাপনা বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ
ঢাকা-১২০৪