চট্টগ্রামে হঠাত্ বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা

চট্টগ্রামে হঠাত্ বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় হতাহত হচ্ছে বহু মানুষ। গত কয়েক দিনের ব্যবধানেই এজাতীয় দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জন লোক মারা গেছে। এগুলো ঘটছে মূলত বেপরোয়া ভাবে বাস চলাচলের কারণে। দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা বলা হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে সড়কে শৃংখলা ফিরে আসছে না।

গত এক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় বাস চাপায় নগরীর হালিশহর ও পটিয়ায় ২ জন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছে। রাস্তার পাশে গাড়ীর জন্য অপেক্ষায় ছিল এই শিশুরা। গত শনিবার কর্ণফুলী থানার কলেজ বাজার এলাকায় শ্যামলী পরিবহনের বাস চাপায় এক মোটর সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত ব্যক্তির স্ত্রী। অন্যদিকে, গত রবিবার বন্দর থানা এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার সময় বাস চাপায় নিহত হন গার্মেন্টস কর্মী মেহেরুন। একই দিন ফটিকছড়িতে তেলবাহী লরির ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৩ মোটর সাইকেল আরোহী।

সম্প্রতি ছাত্রদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের পর সড়কে কিছুটা শৃংখলা দেখা গেলেও এখন আবার আগের অবস্থা দেখা দিয়েছে। হেলমেট ছাড়া মোটর সাইকেল চলছে। ফিটনেসবিহীন জরাজীর্ন গাড়ীর দৌরাত্ম্যও বেড়েছে। সড়কে প্রতিদিন গণপরিবহনে ছোট আকৃতির গাড়ি যুক্ত হচ্ছে। এতে যান চলাচলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী থানার মইজ্জ্যারটেক দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা হিসাবে পরিচিত। সড়ক সম্প্রসারণের পর দুর্ঘটনা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। মইজ্জ্যারটেক থেকে ক্রসিং পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কিন্তু সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার নির্মাণের উল্লেখ থাকলেও করা হয়নি। ফলে নতুন এই সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল করছে। যার কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শতশত হাল্কা ও ভারী যানবাহন চলাচল করছে। পথচারীদের রাস্তা পারাপারের কোনো জেব্রা ক্রসিং বা স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা হয়নি। এ সড়কের কলেজ বাজার এলাকায় সম্প্রতি বাস চাপায় এক কলেজ ছাত্রী ও এক মোটর সাইকেল আরোহী মারা গেছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ডিভাইডার নির্মাণ পরিকল্পনায় রয়েছে। সামনে এটি নির্মাণ করা হবে।