আধুনিক ও দ্রুতগামী কমিউটার ট্রেন

বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে রেলবহরে চলতি মাসে যুক্ত হইতে যাইতেছে দ্রুতগামী ও অত্যাধুনিক কমিউটার ট্রেন। ইহার আরেক নাম ডিজেল ইলেক্টিক মাল্টিপল ইউনিট বা ডিইএমইউ ট্রেন। অর্থাত্ ট্রেনের মধ্যেই ডিজেল হইতে বিদ্যুত্ তৈরি হইবে। আর ঐ বিদ্যুতেই চলাচল করিবে ট্রেনটি। মিটারগেজ লাইনে চলাচলের উপযোগী ট্রেনগুলির প্রথম চালান ইতোমধ্যে চীন হইতে দেশে আসিয়া পৌঁছিয়াছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি রুটে তিনবগীর এসব কমিউটার ট্রেন চলাচল করিবে। উভয় পার্শ্বে ইঞ্জিনচালিত এসব ট্রেনে মোট ৩০০ যাত্রী ভ্রমণের সুযোগ বিদ্যমান। তন্মধ্যে ১৫১ জন সিটে বসিয়া এবং বাকি ১৪৯ জন দাঁড়াইয়া যাইতে পারিবেন। স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের জন্য এই কমিউটার ট্রেনগুলি আশীর্বাদ হিসাবে দেখা দিবে বলিয়া আমাদের বিশ্বাস। বিশেষত ইহাতে দৈনন্দিন প্রয়োজনে রাজধানীর সহিত যোগাযোগ স্থাপনে ঢাকার আশেপাশে বসবাসকারী মানুষ প্রভূত উপকৃত হইবেন। রাজধানীর দীর্ঘদিনের দুঃসহ যানজট নিরসনেও ইহা কাজে আসিতে পারে। গত ২০১১ সালের আগস্ট মাসে ২০টি ডিইএমইউ ট্রেনের জন্য চীনের তাংশান রেলওয়ে ভিহাইকেল কোম্পানি লিমিটেডের সহিত চুক্তি করা হয়। এজন্য ব্যয় ধরা হয় ৬০০ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা। ইহার মধ্যে সরকার নিজস্ব খাত হইতে ব্যয় করিতেছে ৪২৬ কোটি টাকা। বাকিটা অনুদাননির্ভর। আমরা জানিতে পারিয়াছি যে, এই মাসের শেষ নাগাদ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-জয়দেবপুর এই দুইটি রুটে দুইটি কমিউটার ট্রেনের উদ্বোধন করা হইবে। বাকি ৮টি রুটে আগামী জুনের দিকে নূতন কমিউটার ট্রেন চালু হইবে। অন্য রুটগুলি হইল—ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ভৌরব বাজার, চট্টগ্রাম-ফেনি, চট্টগ্রাম- দোহাজারি, দিনাজপুর-পার্বতীপুর-রংপুর এবং লালমনিরহাট-পার্বতীপুর প্রভৃতি। বাংলাদেশে প্রথম আধুনিক প্রযুক্তির কমিউটার ট্রেন চালু হইতে যাইতেছে, যাহা একটি সুসংবাদই বটে। কিন্তু এইজন্য যে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা দরকার তাহা কি আমাদের আছে? বিদ্যমান অবকাঠামোতে যখন সকল রুটে কমিউটার ট্রেন চলিতে শুরু করিবে, তখন কিছু সমস্যা দেখা দেওয়াও অস্বাভাবিক নহে। যেহেতু ট্রেনগুলি মহানগর ও লোকাল ট্রেনের সময়সূচির ফাঁকে ফাঁকে চলিবে, তাই সময়সূচি নিয়া সংকট এমনকি দুর্ঘটনারও সৃষ্টি হইতে পারে। এমনিতেই বর্তমানে ট্রেনের সিডিউল ঠিকমত মানা সম্ভব হইতেছে না। ‘নয়টার ট্রেন কয়টায় যায়’ বলিয়া প্রবাদবাক্য তৈরি হইয়া গিয়াছে। এমতাবস্থায় রেললাইন সম্প্রসারিত করিতে হইবে। ডাবল ও প্রয়োজনে ট্রিপল লাইন গড়িয়া তুলিতে হইবে। কমিউটার ট্রেনগুলি ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে চলাচলে উপযুক্ত। তবে ট্রেনগুলিতে টয়লেট ও ক্যান্টিন সুবিধা নাই বলিয়া জানা গিয়াছে। অবশ্য দ্রুতগামী ট্রেনে ইহার তেমন প্রয়োজনও হয় না। আমরা চীন হইতে আমদানিকৃত কমিউটার ট্রেন শীঘ্রই উদ্বোধনের আশায় রহিলাম। ইতোমধ্যে রাজধানীতে চালু হইয়াছে আর্টিকুলেটেড বাস। সেই ধারাবাহিকতায় কমিউটার ট্রেনগুলি চালু হইলে মহানগরবাসী কিছুটা হইলেও হাঁফ ছাড়িয়া বাঁচিতে পারিবেন।