বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৩, ২১:২৭
উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার ভূমিকা
অতুলনীয় ও অসামান্য
আসলে কোন কাজের ভালো বহিঃপ্রকাশ হল সিদ্ধান্ত এবং রাজনীতির কোন একটা অংশের ফলাফল। আর কোন একটা রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের সার্বিক ভালো ফলাফলের পেছনে সেই রাষ্ট্রের পরিকল্পিত রাজনীতিরই অবদান থাকে। আসলে রাজনীতি এমন হওয়া সকলের জন্যই কল্যাণকর। আর যাদি রাজনীতির দরুন কোন ক্ষতি সাধিত হয় তা হওয়া দরকার একেবারে ন্যূনতম তাও যেন ক্ষতিপূরণে কিংবা সুদরানো সম্ভব হয়; এটাই রাজনীতির একাংশ বিবেচনা। পক্ষান্তরে এ দেশের জনগণের সামষ্টিক তথা গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয়তা বহুবিদ। কেননা জনগণ রাজনীতি করবে এ দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য, জনগণের ভালো একটা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য। আর এজন্য প্রয়োজন উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি। উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি তখনই প্রতিষ্ঠা হবে যখন সকল জাতি সহিংসতা, প্রতিহিংসা, কূটনৈতিক স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের নিয়োজিত করবে সার্বিক কল্যাণের জন্য। তাই আসুন আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করে দেশের ভবিষ্যত্ সাফল্যমন্ডিত করি।
মো. আল আমিন
বিবিএ, শেষ বর্ষ
অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
---
সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চা এবং উদার রাজনীতি দেশকে করে সমৃদ্ধশালী
বনানী, ঢাকা
স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। অর্থাত্, যে উদ্দেশ্যে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করেছিল, তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে না পৌঁছার অন্যতম কারণ সুষ্ঠু গণতন্ত্র এবং উদার রাজনীতির চরম সংকট। যার ফল হিসেবে সাধারণ জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে আমাদের তরুণদের উচিত চিন্তা শক্তির মধ্যে দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা এবং দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণ ও দলীয়করণ হওয়ার সাথে সাথেই প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনকারীর মতো জেগে উঠা। তবে সেটা গণতান্ত্রিক উপায়ে চেষ্টা চালাতে হবে। নতুবা সেটা সময়ের পরিবর্তনে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের সোনার বাংলাকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী করার অন্যতম প্রধান উপায় সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চা। সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে বহিঃবিশ্বে যখন বসন্তের বাতাস বইছে ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশ চৌচির ক্ষরার মাঝে অবস্থান করছে। সর্বোপরি আমাদের উচিত গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা।
মো. আজাহারুল ইসলাম
এল এল, বি (অনার্স), আল-ফিক্হ বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
----
উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির সমূহ
সম্ভাবনা রয়েছে
“মৃত্তিকা” সেতো লাখো সম্ভাবনার আঁধার। এতে জন্ম নেয় স্বপ্ন, সাফল্য। আশা-আকাঙ্ক্ষার বীজ অঙ্কুরিত হয় এই মাটির বুক চিরে। কখনো পূর্ণতা পায়, কখনো অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। প্রয়োজন শুধু পরিচর্যার, সাধনার, সঠিক দিক নির্দেশনার। আর বাংলার মাটি সেতো সম্ভাবনার উর্বর ভূমি। লাখো সম্ভাবনা এতে বিকশিত হয়। প্রতিভা পায় পূর্ণতা, জাতি পায় সফলতা। বাংলা মায়ের বুকে বেড়ে উঠে জাতির একেকটি স্বপ্ন, সম্ভাবনা। স্বপ্ন-সাফল্যের পথ দেখায়। সম্ভাবনা-হাতছানি দেয় সুন্দর আগামীর। তবুও স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার মাঝে অন্তরায় থেকে যায়। আর অধিকাংশ অন্তরায়ই রাজনীতিকে ঘিরে। কেননা দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি, সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় নীতিতে রাজনীতির ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। তাই এ থেকে উত্তরণে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক আলোচনা, সম্প্রীতি ও উদার গণতান্ত্রিক মনোভাব। কিন্তু আমাদের দেশের দৃষ্টপট ভিন্ন। সর্বত্রই ভিন্ন চিত্র। যেখানে উন্নত দেশে সরকারি দল কোন ভাল উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল তাতে সাধুবাদ জানায়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ক্ষমতাসীন বিরোধীদল আলোচনায় বসে সমাধান বের করে। আর সবার আগে তারা দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। তাইতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হয়েও মিট রমনি বারাক ওবামার বিজয়ে অভিনন্দন জানায় এবং জাতীয় স্বার্থে পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাদের এ উদার গণতান্ত্রিক মনোভাব সঠিক দেশপ্রেমের পরিচয় বহন করে। কেননা তাদের কাছে সর্বদা ব্যক্তির চেয়ে সমাজ বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। তাদের দেশপ্রেম শুধু মুখের বুলিতে সীমাবদ্ধ নয়। তাইতো তারা কোথায় আর আমরা কোথায়? আমাদের দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক মনোভাবী। এদেশ গণতন্ত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত। সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়। তাই ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি. আয়তনের আমাদের ছোট এ গণতান্ত্রিক দেশটির সম্ভাবনাকে একেবারে ছুঁড়ে ফেলা যায় না। এ দেশ উন্নতির স্বর্ণ শিখরে আরোহনের সমুদয় যোগ্যতা রাখে। তবে সে লক্ষ্য অর্জনে সর্বাগ্রে যা প্রয়োজন তা হলো মানসিকতার পরিবর্তন। দেশের যারা নীতি নির্ধারক তাদের অন্য দেশকে অনুকরণ করার কথা বলছি না। তবে অনুকরণীয় কিছু করা দরকার। আর এক্ষেত্রে দেশ, দেশের মানুষ, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে সময়োপযোগী ও রাষ্ট্রের পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ও উদার গণতান্ত্রিক মনোভাব বজায় রাখা একান্ত কাম্য। তবেই আমাদের দেশ হবে আদর্শ, অনুসরণীয়, অনুকরণীয় সর্বোপরি একটি মডেল দেশ।
ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী (সজীব)
অনার্স (২য় বর্ষ) ৩য় সেমিস্টার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
---
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাই গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ হতাশাগ্রস্ত, দিকভ্রান্ত। তারা আজ নিজের জান-মাল নিয়ে শঙ্কিত। আজ গণতন্ত্রের অর্থ ভূপতিত হয়েছে। সরকারসহ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। পুলিশসহ মৃত ভাইদের লাশের মিছিল আমাদের মনে তীব্র হাহাকারের ঝড় তোলে। জনগণের আস্থাহীনতা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। কেননা গণতন্ত্রে জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স। লুটপাট, ভাংচুর, হরতাল, মারামারি-হানাহানি,ধরপাকড় এগুলো জনজীবন বিপন্ন করে, সুখ-শান্তি বিনষ্ট করে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে। যেকোনো রাজনৈতিক দলের এগুলো পরিহার করা উচিত। ‘উদারতা’ একটি মহত্ গুণ। এই গুণ যদি গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যুক্ত হয় তবে তার ভবিষ্যতের সমুজ্জ্বলতা অবশ্যম্ভাবী। এজন্য প্রথমে রাজনীতিবিদদের উদার হতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ, শঠতা-ভণ্ডামি, মিথ্যাচারিতা পরিত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়। জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ তাদেরই নিশ্চিত করতে হবে। আর যদি দেশ বর্তমান পরিস্থিতিতে চলতে থাকে তবে আমি বলব বাংলাদেশ হয়ত গণতন্ত্র নামক রাষ্ট্র যন্ত্রটিকেই হারাবে এবং এদেশে একটি ভয়াবহ অধ্যায় হাতছানি দিচ্ছে। সকল কিছু থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় হল গণতন্ত্রের সাথে ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ নিশ্চিত করা। খাঁচাবিহীন ব্যাঘ্র যেমন-তীব্র ভীতির জন্ম দেয়, তদ্রূপ গণতন্ত্রে ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ না থাকলে গণতন্ত্র তার নিজস্বতা হারায়। ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ নিশ্চিত হলে সুশাসন তথা আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। সুতরাং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উদার রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ নির্মাণের মূলমন্ত্র।
মো. মেজর আহাম্মেদ
২য় বর্ষ, ৩য় সেমিস্টার (সম্মান)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা