বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২০:৫৮
সংখ্যালঘু হিন্দু ভাইদের উপর আক্রমণ করছে
ও তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলছে, এটাকে তো উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি বলা যায় না
রাজনীতির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির পাখায় চড়ে এখন জামায়াত-শিবির যে তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে এটা কখনোই ভবিষ্যতের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। এই ধরনের রাজনীতির চর্চা আমরা কখনই করবো না। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। শহীদ মিনার ভেঙ্গে দিয়েছে। যাদের রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, সেই রক্তের দাগতো এখনও শুকায়নি। এটাকে কি আমি উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি বলবো? আজ যারা ইসলামকে কালি মাখিয়েছে, ইসলামকে পুঁজি করে ক্ষমতায় আসার পাঁয়তারা করছে, তারা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশের আর যে কি হবে সেই প্রমাণই আমরা পেলাম। এখন তো তারা শহীদ মিনার, মন্দির ভেঙ্গেছে ও মসজিদ অবমাননা করেছে। সংখ্যালঘু হিন্দু ভাইদের উপর আক্রমণ করছে ও তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলছে, এটাকে তো উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি বলা যায় না। যারা বর্বরোচিত আচরণ করছে আর তাদের পক্ষে যারা সাফাই গাইছে তাদের আমরা কিভাবে ক্ষমতায় বসাতে পারি?
মোহাম্মদ এহিয়া
মিরপুর ল কলেজ, মিরপুর, ঢাকা।
উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি
স্বার্থের নীলনকশায় বন্দী
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ এদেশে অন্ধকারে নিমজ্জিত। সাধারণ জনগণের কথা কোন রাজনীতিবিদই চিন্তা করে না। সব রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থ নিয়ে মিছিল-মিটিং-হরতালে ব্যস্ত। এক দল অন্য দলের উপর রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিবর্জিত কথাবার্তা বলে বেড়ায়। ফলে দেশের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এদেশে যে দলের যে নেতা যত বেশি হিংসাত্মক কথা বলতে পারে সেই নেতা তত তাড়াতাড়ি দলের উচ্চপদে যেতে পারে। তাই স্বার্থের জন্য দেশের রাজনৈতিক দলগুলো অরাজনৈতিক আচরণে পটু। আমরা সাধারণ জনগণ আজ সেইসব রাজনৈতিক দলের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের দানে এই বাংলাদেশ। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। কিন্তু আজ দেশের জন্য নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা ব্যস্ত। আমরা এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গোলাম হয়ে দেশের শহীদ মিনার ভাংছি, জাতীয় পতাকার অবমাননা করছি। দেশকে ঠেলে দিচ্ছি এক অনিশ্চয়তার দিকে। আমরা সাধারণ জনগণ এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জন্য উদার, দেশের জন্য না। এ দেশের জনগণ ধর্মের প্রতি দুর্বল। আর আমাদের এ দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
সামিউল আলম জনি
বিবিএ অনাস দ্বিতীয়বর্ষ
আশেক মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।
ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে
তৃতীয় বিশ্বের অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশের নাম বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর থেকে নানা প্রতিকূলতা ও অসংখ্য চড়াই-উতরাইয়ের মাধ্যমে আজকে সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ। আমাদের দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে। প্রতিবারই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল হচ্ছে। প্রতিবারই জনগণ একটি দলের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে অপর দলকে নির্বাচিত করে। কিন্তু প্রতিবারই জনগণ কম-বেশি আশাহত হয়, তাদের আশার পুরোপুরি প্রতিফলন হয় না, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে না বা করতে পারে না, অদৃষ্টের দোহাই দিয়ে পাঁচটি বছর অতিক্রম করে।
একটি দেশকে সফল ও সার্থক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে যে বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ তা হলো ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি দেশকে খুন, গুম, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, কালোবাজারি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সিটবাণিজ্য, ভর্তিবাণিজ্য, নিয়োগবাণিজ্য ইত্যাদি সকল ধরনের অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার, অনাচার থেকে সর্বস্তরের মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, প্রতি সরকারের আমলেই আমরা সাধারণ জনগণ সর্বক্ষেত্রে, সর্বাবস্থায় ন্যায়বিচার পাই না এবং আইনের শাসন যথাযথ প্রয়োগ হতে দেখি না। বিচার অনেকটা পক্ষপাত দোষে দুষ্ট হয়। আমরা প্রতিদিন আমাদের চোখের সামনে নানা ধরনের অন্যায় হতে দেখছি এবং অন্যায় আচরণের শিকার হচ্ছি। কিন্তু এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেককে খুন ও গুমের শিকার হতে হয়েছে। এমতাবস্থায় মানুষ আদালতে গিয়েও পায় না ন্যায়বিচার, চলে দলীয় প্রভাব ও অর্থের প্রভাব। তখন সাধারণ জনগণ আর কোনো পথ না পেয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়। সৃষ্টি হয় নতুন সমস্যার। বহুক্ষেত্রে অন্যায়কারী অন্যায় করে পার পেয়ে যায়। এ কারণে অন্যরাও সে ধরনের কাজ করতে দ্বিধাবোধ করে না, বরং অনুপ্রাণিত হয়। সমাজে বাড়ে অন্যায়, অপকর্মের মাত্রা।
বিচারের ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্র, প্রভাবশালী-সাধারণ জনগণ, সরকার দলীয়-বিরোধীদলীয় ইত্যাদি বিষয় মুখ্য হওয়া অনুচিত। বরং বিচার বিভাগকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে সহযোগিতা করা সরকারসহ প্রত্যেকের একান্ত কর্তব্য। এর মাধ্যমেই দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন কায়েম হবে। দেশে সুখ-শান্তি ফিরে আসবে। দেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।
তাই জাতির এই সংকটময় ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সকল রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের সকল ধরনের প্রতিহিংসা ও সহিংসতা এবং অসুস্থ ধারার রাজনীতির পথ পরিহার করে দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করা প্রয়োজন।
মো. আব্দুল হাকিম
ফার্মেসী বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সাভার, ঢাকা।
উদার গণতন্ত্রই হলো দেশের
উন্নতির মূলমন্ত্র ও চাবিকাঠি
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আর একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলো দেশ পরিচালনার মূল হাতিয়ার হিসাবে অগ্রগণ্য। কোন দেশের রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, বৈশিষ্ট্য ও আদর্শের ভালো-মন্দের উপর নির্ভর করে সে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি-অবনতি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে হতাশা-ক্ষোভ ছাড়া সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চার লেশমাত্র খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য ব্যপার। কিন্তু এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশ খুব শীঘ্রই বহিঃশত্রুর আক্রমণ অথবা কোন অপশক্তি দ্বারা আক্রান্ত হতে বেশি দেরি হবে না। বর্তমানে বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে লক্ষণীয় বিষয় হলো, তারা ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ইত্যাদিকে প্রাধান্য দিয়ে সার্বজনীন স্বার্থ কায়েম থেকে বিরত হয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে মরিয়া, যা উন্নয়নশীল বাংলাদেশের উন্নতির ক্ষেত্রে চরম বিপর্যয়ের ইঙ্গিত প্রদান করে। এগুলো হওয়ার পেছনে যে বিষয়গুলো জড়িত তা হলো, মানবতার চরম অবক্ষয়, প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতির ভয়াবহ বিস্তার, আইনের শাসনের অকার্যকারিতা, বিচার বিভাগের কার্যত স্বাধীনতা। পরিশেষে বলা যায়, কোন দেশই উদার গণতন্ত্র চর্চা ছাড়া উন্নতির অমৃত স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে না। এ লক্ষ্যে দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য সরকারি দল-বিরোধী দল নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
মো. দিদার হোসেন
আইন বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।