বিরাজমান আর্থ-সামাজিক সংকট

রাজনৈতিক সংকটের প্রভাবে ভেঙে পড়তে বসেছে দেশের অর্থনীতি। বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অর্থনৈতিক স্থিরতার কথা আমাদের অবশ্যই ভাবতে হবে। আবদুল মালেক মিয়া মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬ হরতাল, অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এদেশের মানুষ। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিস্থিতি ভালো তা কোনভাবেই বলা যাবে না। কথাটির সাথে আমি একমত পোষণ করছি। মুজিব উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা ক্রমবর্ধমান নাশকতা, প্রাণ ও সম্পদহানির ঘটনায় জনগণ স্বভাবতই উদ্বিগ্ন ও উত্কণ্ঠিত। সাধারণ মানুষ এখন বড় অসহায়। তারা কীভাবে কী করবে সে বিষয়টিও আজ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জন্য সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে বসতে হবে। মুন্সি মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬ রাজনৈতিক সংকটে স্থবির হয়ে পড়ছে কল-কারখানার উত্পাদনব্যবস্থা। দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা দেশের বাইরে অন্য কোথাও নেই। তাই তাদের মতো এ সংকট উত্তরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া দরকার। জাহাঙ্গীর খান বাবু মতিঝিল, ঢাকা আর্থ-সামাজিক সংকট এখন চারদিকে। বিশেষ করে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। সুতরাং বিশ্বে অর্থনৈতিক টানাপড়েন হলেও তারা এটাকে কাটিয়ে নেবার চেষ্টা করেন। আমাদের দেশেও সে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার। কাউসার আকন্দ মিতিঝিল, ঢাকা-১০০০ বাংলাদেশ ব্যাংক চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। দেশের চলমান এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে। শাহিন শাহ্ ওয়ালিদ উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা বাঙালি জনগণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করার ও পরাধীনতা থেকে মুক্ত হবার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছিল, যাতে করে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী বিপক্ষ সাম্প্রদায়িক শক্তি কখনো দেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করেনি। বরং বিএনপি- জামায়াত শাসনামলে দেশের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ ও বিদেশে পাচারসহ খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম বাড়িয়ে তা জনগণের নাগালের বাইরে নিয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগ সরকার জনগণ যাতে করে আর্থ-সামাজিক সংকটে না পড়ে সেজন্য নিরলস পরিশ্রম করলেও দেশ-জনগণবিরোধী রাজাকারদের পক্ষ নিয়ে স্বাধীন দেশের মাটিতে একের পর এক অযৌক্তিক হরতাল দিয়ে প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রের অর্থ ধ্বংস করছে। তারা যদি এদেশের জনগণের কথা চিন্তা করে অর্থনৈতিক সংকট নিরসন প্রয়োজন মনে করতো তাহলে হরতাল না দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে আসতো। জনগণ এখন আর অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে চাইছে না। জনগণ ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য হরতাল পরিহার করা দরকার। ফারুক আহমেদ বাগমারা, রাজশাহী সম্প্রতি ভারতের অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেন বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি যেভাবে চলছে তা ঠিক পথেই আছে। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই হঠাত্ টানা ৩ দিন হরতালে সহিংসতা, তাণ্ডব ও অস্থিরতায় প্রবৃদ্ধি অর্জনই যেন ভেস্তে যেতে চলেছে। সুতরাং বিশ্বের অর্থনৈতিক টানাপড়েনের মাঝে সেটাকে তারা উত্তরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। আমাদের দেশেও তা করা অবশ্যই দরকার। বিরাজমান আর্থ-সামাজিক সংকটের প্রভাব আজ চারদিকে রয়েছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষের বড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিনের হরতালেই দেশের অর্থনীতিতে অনেক ক্ষতি হয়। সেখানে দেশজুড়ে টানা তিনদিন সহিংসতা ও তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়ে এবং যদি অব্যাহত থাকে তাহলে অর্থনীতিতে ব্যাপক ধস নামবে এটা সহজ হিসাব। সম্প্রতি গত ১৩ মাসের মধ্যে শেয়ারবাজারে সর্বোচ্চ পতন হয়েছে। পর্যটনশিল্পও টানা সহিংসতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কাঁচামালসহ অন্য দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য বেড়ে যায়। ব্যাংকিংখাতে দেখা দেয় বিপর্যয়। সব মিলে দেশে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে শুরু হয় টানাপড়েন। গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে অস্থিরতা। সুতরাং এ থেকে উত্তরণের এখনই সময়। এস কে মোহাম্মদ রমিজ উদ্দিন শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা আর সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া নয়। জাতীয় ঐকমত্য গড়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। তাহলে বিরাজমান আর্থ-সামাজিক সংকট দূর হবে। নীলুফা আক্তার টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬ আমরা আশা করবো বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও সর্বোচ্চ ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। মেজবাহ উদ্দিন সেলিম শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো যদি থাকে তাহলে দেশের অর্থনীতি সুস্থ থাকবে ও গরিব মানুষ থাকবে না। সুতরাং বিষয়টির দিকে রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি দেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। নাসরিন সুলতানা নিউইর্য়ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড যেন ভেঙে না পড়ে। যাতে সরবরাহ অবাধ থাকে, রপ্তানি পণ্য অবাধে বন্দরে পৌঁছতে পারে, ব্যবসায়ীরা তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতে পারে। সেদিকে দায়িত্ববান হতে হবে সকলকে। লাড্লা আজিমপুর, ঢাকা অর্থনীতি অচল করে কোন রাজনীতি নয়। এটা লক্ষ্য রাখতে হবে, তা না হলে ভুক্তভোগী হতে হবে দলমত নির্বিশেষে দেশের সাধারণ মানুষকে। বিপ্লব উর্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা সরকার বারবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করায় দেশের উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। এক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী যা পদক্ষেপ নিচ্ছে তা যথার্থ হচ্ছে না। এজন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এবং ব্যাংকের সুদের হার নমনীয় পর্যায়ে আনতে হবে। মুতাসিন বিল্লাহ সেনবাগ, নোয়াখালী এ পৃথিবীতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিথ, জাপানের প্রধানমন্ত্রী তানাকা ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান পদত্যাগ করে বিদায় নিয়েছিলেন। নিক্সনের ওয়াটার গেট কেলেংকারি অর্থাত্ প্রতিপক্ষের নির্বাচনী কার্যক্রমে ওতপাতা, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিথের যোগ্যতার অভাব, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আইয়ুবের ঘোষণা—আমি পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে এক ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। তার পরেও আমার বিরুদ্ধে চলে আন্দোলন। কোন এক সময় ভারতের রেলমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী বারবার রেল দুর্ঘটনার কারণে আমি অনুপযুক্ত মন্ত্রী বিধায় পদত্যাগ করে চলে গেলাম। ব্রিটেনে কোন একসময় প্লেগ রোগ মারাত্মকভাবে দেখা দেয়ায় জনগণের তরফ থেকে ঘোষণা এলো প্রতিষেধক না দেয়ার কারণে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছে। কাজেই তদন্ত শেষে দেখা গেলো প্রতিষেধক না খাওয়ার কারণেই সে মারা গেছে। তাই আমি অন্যের ব্যাপারে সমালোচনা না করে এবং নিজেই চলে গেলে সরকারের ইজ্জত বাড়বে। তাই আমি চলে গেলাম। বাংলাদেশে এ রকম হতে কখনো দেখিনি। এম মতিউর রহমান ৫/১ আমিনাবাদ কলোনি ৫৬/৫৭ সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের উক্তি অপ্রিয় হলেও সত্য এবং বাস্তবসম্মত। অন্য দেশের অর্থনীতি পরিস্থিতির সংকট বিদ্যমান থাকলেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সংকট চলছে এটা পরিষ্কার। চারদিক বিবেচনা করলে ব্যবসা-বাণিজ্যের উত্তরণ আবশ্যক। সংকট উত্তরণের জন্য দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার অনেক দৃষ্টান্ত দেখা যায়। সেটা ব্যর্থতারই নামান্তর। যে কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করা হয় সে কারণগুলো চিহ্নিত করে তা প্রতিকারের ব্যবস্থা করলেই তা চাঙ্গা হবে। শাহ মো. হেলাল উদ্দিন হিরা কালিহাতী, টাঙ্গাইল বর্তমান বিশ্বে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপড়েনসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সব দেশে আছে এবং ছিল। তবে ঐ সব দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে তারা যথেষ্ট চেষ্টা করেন সেটা নিয়ন্ত্রণে। সুতরাং আমাদের দেশেও সে ব্যাপারে সতর্ক হওয়া দরকার। মাসুম আহাম্মদ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা বিরাজমান আর্থ-সামাজিক সংকট দূরীকরণের জন্য যে কোন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা স্থির থাকতে হবে। মো. মোজাহারুল ইসলাম চেয়ারম্যান, ইন্টারন্যাশনাল ডায়লগ এইড ফাউন্ডেশন, সাভার, ঢাকা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় মহাজোট দিনবদলের স্লোগান দিয়ে বিশাল জয় নিয়ে ক্ষমতায় এলেও দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও টানা হরতালে ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। এ নিয়ে উত্কণ্ঠা শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, সমগ্র দেশবাসীরই। ভয়াবহ সহিংসতায় সাধারণ মানুষ শুধু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে না, আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্রামের কৃষকরাও এ থেকে মুক্ত নয়। হরতালের কারণে যানবাহন কম চলায় এবং পাইকাররা আসতে না পারায় কৃষকরা তার সবজি বিক্রি করতে পারছে না। সবচেয়ে কষ্টে আছে দিনমজুররা। হরতালের কারণে কাজ বন্ধ থাকায় তাদের আয়ের পথও রুদ্ধ। অথচ তারা প্রতিদিনের আয়ের উপর নির্ভরশীল। কীভাবে তাদের সংসার চলছে তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন উত্পাদনশীল খাত, রফতানিমুখী শিল্প ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় এসব শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার শ্রমিকের ভাগ্য হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। সহিংসতায় বহু প্রাণহানি ছাড়াও দেশ জুড়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে যে ব্যাপক ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদহানি হয়েছে, তার ক্ষতিও কম নয়। এসব কিছুর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। শক্তি প্রয়োগে তা যে বন্ধ হবে না, বরং আরও বাড়বে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের এটা অনুধাবন করতে হবে। একমাত্র তাদের সহনশীল আচরণই পারে বিদ্যমান সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করতে। সামনের দিনগুলোতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বাকি রায়গুলো একে একে ঘোষিত হবে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির দুইজন নেতা রয়েছেন। তাদের রায় ঘোষণা এবং আপিল পরবর্তী সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে সরকারকে। এদিকে গণজাগরণ মঞ্চ সব যুদ্ধাপরাধীর রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে দেশকে নিয়ে যাচ্ছে এক অনিশ্চয়তার দিকে। অন্যদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা প্রশ্নে বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের মতদ্বৈধতা দূর হয়নি। এখনও মনে হচ্ছে সরকার ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বপ্ন দেখছে। দেশের জনগণ আর রাজনৈতিতে সহিংসতা দেখতে চায় না। জানমাল হারাতে চায় না। মানুষ একটু শান্তি চায়। এ অবস্থায় সরকারের উচিত বিএনপির সঙ্গে অবিলম্বে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে আসা। ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের রায় ঘোষণা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সরকারের পক্ষে সহজ হবে। সরকারের পক্ষে সহজ হবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকার ও প্রধান বিরোধী দল সংঘাত পরিহার করে বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে এটাই দেশের সাধারণ মানুষ দেখতে চায়। দেলোয়ার হোসেন দেলু নিউ খানপুর, নারায়ণগঞ্জ বিশ্ব এখন রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা স্ব-স্ব দেশের সকল অস্থিরতা দূরীকরণে নানাবিধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময় ইউরোপ-আমেরিকার অর্থনৈতিক মন্দা ছিল মোটাদাগে। এ মুহূর্তে সে সংকট থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত হতে পেরেছে, বলা যায় কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আর এই উত্তরণের পিছনে রয়েছে তাদের দেশপ্রেম, আংকিক হিসাব ও সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি প্রগাঢ় আন্তরিকতা। প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি দৃষ্টি দিলে দেখা যায় তাদের সকল অস্থিরতা কাটিয়ে উঠার প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবার মহতি উদ্যোগ। পক্ষান্তরে আমাদের দেশের চিত্র একেবারে উলটা। বাংলাদেশে যে দলই সরকারে যায় তারা ভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছি, দেশ সেবার দায়িত্বে নয়। তাই তারা সকল কিছুতেই রাজনীতিকরণের পদক্ষেপ নিয়ে এগুতে থাকে। অর্থাত্ দলীয়করণের রঙে রাঙিয়ে রাষ্ট্র্রের ভাইটাল পয়েন্টগুলো আগলিয়ে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা দূরীকরণের মেকি পথ অনুসরণ করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে অস্থিরতা ক্রমান্বয়ে বাড়ে বৈ কমে না। উপরন্তু বেনিফিসিয়ারি সৃষ্টি করে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে অস্থিরতা ছড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদে দলের লোক অন্তর্ভুক্ত করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা এখন গণমানুষের মুখে মুখে। হলমার্ক কেলেংকারি, ডেসটিনি, শেয়ার মার্কেট থেকে হরিলুটের ঘটনা দিয়ে অস্থিরতা দূর করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর শেষাবধি স্বীকার করলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। সহ্যের সীমা অতিক্রম করায় হয়ত উনি স্বীকার করেছেন। সকল অস্থিরতা দূর করতে ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করার নজির নিকট অতীত থেকে শুরু করে এখন অব্দি ঘটেনি। ভবিষ্যতে ঘটবে বলে মনে হয় না। আমাদের দেশে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রকৃতির বিশেষ দুটি জিনিস ছাড়া ত্যাগে অভ্যস্ত নয়। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপড়েন আছে। বর্তমানে বাংলাদেশে তা ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে, যা কিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি। সরকারের শেষ বছরে এসে গভর্নর স্বীকার করে নিলেও এখনো বর্তমান সরকারের তা বোধোদয় হয়নি। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাই বলতে পারবে দেশে অর্থনৈতিক দুরবস্থা বিরাজ করছে। চরম ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে আজ দেশ অতিক্রান্ত হচ্ছে। শেয়ার কেলেংকারির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। এরপর কুইক রেন্টাল, ডেসটিনি, হলমার্ক, পদ্মা সেতু, বিসমিল্ল¬াহ গ্রুপসহ আরও অসংখ্য দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা শুধু সাধারণ জনগণই বুঝতে পারছে। বর্তমান সরকার রঙিন চশমায় চোখে শুধু চারদিকে উন্নয়ন দেখছেন। সাধারণ জনগণ কীভাবে দিন কাটাচ্ছে তা উপলব্ধি করছেন না। এম এ শরীফ বনানী, ঢাকা। “দেশের অর্থনীতি পরিস্থিতি ভালো তা কোনভাবেই বলা যায় না” বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যে মন্তব্য করেছেন তা শতভাগ সত্য। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থা, সামাজিক অস্থিরতা, বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততা, হরতাল, অবরোধ, পাবলিক ও প্রাইভেট সম্পদের প্রভূত ক্ষতি সাধন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিংবা বিনা অজুহাতে সামপ্রদায়িক দাঙ্গা, হানাহানি, খুন, রাহাজানি সর্বোপরি আইন-শৃঙ্খলার নাজুক পরিস্থিতি সার্বিক অর্থনীতির জন্য মোটেও সুখকর নয়। আমাদের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ সংকুলান হয় আরএমজি ও রেমিট্যান্স খাত থেকে। কিন্তু হরতাল ও অবরোধের কারণে আরএমজি খাত চরম হুমকির সম্মুখীন। এই খাতের উপর এমনিতেই বিভিন্ন কুচক্রীমহলের শ্যেনদৃষ্টি আছে। এই খাতে সামপ্রতিককালের বহু ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাধিত ক্ষয়ক্ষতির এখন পর্যন্ত উপযুক্ত সুরাহা হয়নি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সুরক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অদ্যাবধি নেই। সাধারণত হরতালের কারণে অনেক প্রবাসী ঢাকায় এসে বিমানে চড়ে সময়মতো কাজে যোগদান করতে না পারায় চাকরি হারিয়ে পথে বসার যোগাড় হয়েছে। দেশের ব্যবসা- বাণিজ্যে মন্দাভাবের দিক লক্ষ্য করে ইতিমধ্যেই শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়ার বারবার তাগিদ দিচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষই কর্ণপাত করছেন না। সামপ্রতিককালের ঘনঘন হরতালে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন হোঁচট খাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের ক্যারিয়ার ধ্বংস হচ্ছে। হরতাল ও অবরোধের কারণে ছোট ও মাঝারি শিল্প-কলকারখানাগুলোতে বিদ্যুত্ বিভ্রাট ও শ্রমিকের অনুপস্থিতির কারণে উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহন চলাচল বন্ধের কারণে কাঁচা মালামাল ও কৃষিপণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মূলধন হারাতে বসেছে। মূলত সমাজের প্রতিটি স্তরের মধ্যে উপযুক্ত সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি নিভর্রশীল ও তার চাকা চলনশীল। ফলে কোন একটা স্তরে জট পাকালে পুরো অর্থনীতির চাকা থমকে পড়তে বাধ্য। এই সমন্বয় সাধনের পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সরকারি দল, সরকার ও প্রশাসনযন্ত্রের। বিশ্ব ইতিহাসে দেখা যায় সরকার ও প্রশাসনযন্ত্রের যে কোন ব্যর্থতার দায়-দায়িত্ব নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সরকার পদত্যাগ করে উক্ত সংকট থেকে উত্তরণের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে সুযোগ করে দেয়। কিন্তু আমরা সেই কালচারের সাথে কেতাবী পরিচয়ে পরিচিত হলেও বাস্তবে নই। ফলে যে কোন প্রকার সংকটে পতিত হয়ে আমরা গভীর থেকে গভীরে তলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকি। ফলে সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ হয়। কিন্তু সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হয় এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা প্রকটরূপ ধারণ করে। কাজেই আসুন ভুলকে ভুল, ব্যর্থতাকে ব্যর্থতা, দুর্বলতাকে দুর্বলতা, অযোগ্যতাকে অযোগ্যতা স্বীকার করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে আমরা জাতীয় আর্থ-সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করে জাতির জন্য সুন্দর ভবিষ্যত্ গড়ায় আত্মনিবেশ করি। ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের দেশের সর্বক্ষেত্রে সর্বপ্রকার জাতীয় সংকট নিরসনের দলমত নির্বিশেষে বিবেক বুদ্ধি খাটিয়ে একত্রে কাজ করে বলেই কাজের সংকট আর সংকট থাকে না। আর আমরা আমাদের এদেশে নিজেরাই বেহুদা সংকট তৈরি করি এবং ঐ সংকটকে কীভাবে ঘনীভূত করা যায় সেই দুরভিসন্ধিতে থাকি। আমাদের রক্ত, চরিত্র আর রাজনীতি, দূষিত ও কলুষিত হতে হতে দুরারোগ ব্যাধী ক্যান্সারে দ্বিতীয় ধাপে পৌছেছে। যারা সত্ ব্যবসায়ী এ মুহূর্তে তারা যদি লাজ-লজ্জা ভেঙে সাহসী হয়ে তাদেরই আশেপাশে থাকা সরকারি ও বিরোধী দলের উভয় দলের অসত্ রাজনীতিবিদদের গলা টিপে সাহস না দেখায় তবে তাদের কোন সত্ প্রচেষ্টায় তথা ব্যবসা-বাণিজ্য অসত্ রাজনীতির কারণে সফলতা পাবে না। তাই আমার অভিমত ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির শাহবাগের মত অন্য আরেকটি প্লাটফরম থেকে গর্জিয়ে না উঠলে ক্যান্সারের সর্বশেষ ধাপটি বিরাজমান সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সর্বোপরি অর্থনীতির ক্ষেত্রে পৌঁছে যাবে যা আমাদের কারোর কাম্য হতে পারে না। মো. লুত্ফর রহমান এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা হরতালটা বন্ধ করতে হবে আইনের মাধ্যমে ও সংসদ থেকে পাস করে। তাহলে অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। রতন সৌরভ গার্মেন্টস, জহির এসি মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা আমরা আর কোন সংঘাত ও সহিংসতা দেখতে চাই না। যে কোন দলেরই হরতালের সময় শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখা দরকার। প্রথমত অর্থনীতিকে নিয়েই ভাবতে হবে, রাজনীতি অবশ্যই দরকার তবে সেটা হতে হবে সুষ্ঠু। ফারুক আলম মালিবাগ, ঢাকা চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সংকট বাড়ছে অর্থনীতিতে, গ্যাস-বিদ্যুতের অব্যাহত সংকট, উচ্চ ব্যাংক ঋণের সুদ, শিল্পের জন্য জমির স্বল্পতা, শ্রমিক অসন্তোষের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। ফলে বিরাজমান বিশ্বের অর্থনীতির সাথে আমাদের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মো. হানিফ মিয়া রির্সোস ইন্ট্রিগ্রেশন সেন্টার (রিক) ধানমন্ডি, ঢাকা নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে দেশের অর্থনীতি। চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে অর্থনীতির চালিকা শক্তিগুলো। সুতরাং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও টানাপোড়েনসহ সামাজিক অস্থিরতা বিরাজমান। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। শিশির পিলখানা, ঢাকা বিশ্বে অর্থনৈতিক টানাপড়েন ছিল, আছে, থাকবেও। বর্তমানে সেটা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দেশের সার্বিক সমস্যা সমাধানের জন্যই মন্ত্রী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের উপর বর্তায়। তাই তাদের দায়িত্ব পালন করে সকল সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে। অযোগ্য ব্যক্তি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে নিশ্চয়ই উপযুক্ত ব্যক্তি দেশে অর্থনৈতিক, সামাজিক মঙ্গলের জন্য চেষ্টা করবে। উন্নত বিশ্বে প্রযুক্তি আলাদা তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। তাই সংকটের সৃষ্টি হয় না। দেশবাসী অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যেও সরকারকে সহায়তা করে। অর্থনৈতিক সচ্ছলতাই সামাজিক পরিবর্তনের মূলভিত্তি। উত্পাদন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে আমদানি রফতানি বৃদ্ধি করা সম্ভব। অর্থনীতির নীতিমালার জন্য মুক্তবাজার অর্থনীতির পন্থা অবলম্বন করা উচিত। মুক্তবাজার অর্থনীতির মূল অর্থ হলো প্রতিযোগিতামূলক বাজার। যেখানে বিত্তবান শিল্পপতিদের পাশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ব্যবসা করতে পারেন। রাজনৈতিক কারণেও সমাজে অর্থনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টি করছে। হরতালে ব্যবসায়ী, কর্মজীবী, দিনমজুর, সকলেই গৃহবন্দী হয়ে পড়ছেন। সুতরাং অর্থনৈতিক সামাজিক অস্থিরতা তো বাড়বেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা ভালো জানেন। তাই রাষ্ট্র পরিচালকদের আরো সচেতন হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। আশা এলিজাবেত গোমেজ লক্ষ্মীবাজার ঢাকা-১১০০ যে কোন হরতাল প্রত্যাহারসহ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য সব রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করছি। হোসনে আরা এনায়েতগঞ্জ লেন, পিলখানা, ঢাকা আমরা আশা করবো সরকার বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষ্ফোরণমুখ পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করবেন। মো. শওকত আলী শাহীন ডিওএইচএস মহাখালী, ঢাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ভালো জানেন। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নেতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। এর বাইরেও আমরা বুঝি যে, দিনকাল ভালো যাচ্ছে না। বিশেষ করে কৃষকের বড় দুর্দিন। উত্পাদিত ধানের মূল্যের সাথে উত্পাদন খরচের গরমিল খুব বেশি। কতদিন আর লোকসান দেয়া যায়। কৃষিপ্রধান এদেশে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কৃষকের সমস্যাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তা না হলে হিসাব দিতে হবে। আমাদের দেশের নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদদেরকে এ ব্যাপারে সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। সুমন সোয়াদার মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা বিশ্বে সকল দেশেই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা রয়েছে। তবে সেটা উত্তরণের জন্য তারা বহু চেষ্টা করেন এবং জয়ীও হোন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর বলেছেন দেশের অর্থনীতির পরিস্থিতি ভালো নয়। কথাটি যথার্থই। জুয়েল মধ্যবাড্ডা, ঢাকা অর্থনীতিতে এখন আমাদের দেশে কোন সুখবর নেই। বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক অবস্থায় মন্দা চলছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন রাজনীতিবিদদের নজরদারি। মোস্তানসিরুন ধানমন্ডি, ঢাকা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপড়েন একটি বিষফোঁড়া। বিগত চার বছর আগে অর্থনীতি যে রকম সফল ছিল বর্তমানে তা রাজনৈতিক কারণেই স্থবির। তবে সমগ্র বিশ্বের চেহারার দিকে তাকালে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা খারাপ বলা যায় না। সম্প্রতি ভারতের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে সফরকালে এ কথাটি বলেছেন দক্ষিণ এশিয়ায় যে সব দেশ মারাত্মক জীবন নির্বাহের সংকটে তার মধ্যে বাংলাদেশ পড়ে না। কারণ রীতিমত প্রচুর কৃষিতে উত্পাদন, রেমিটেন্স ব্যাপকহারে আসা, পাশাপাশি দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় সামান্য হলেও উন্নতি হয়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থা দেশের আরও ভালো হতো যদি বিদ্যুত্ এবং দুর্নীতির বিশাল হাতিকে সামলানো যেতো। বিদ্যুতের অভাবের কারণে গ্রামের অর্থনীতিতে কৃষি উত্পাদনে ব্যাপক সমস্যা দেখা যায়। এর উত্তরণ জরুরি। অপরদিকে হলমার্কের টাকা, ডেসটিনির টাকা এবং শেয়ার বাজারের টাকা ফ্রি আনতে পারলে অনেক নিঃস্ব মানুষ সুখ সইতে পারতো। আমরা আশা করছি রাজনৈতিক সংঘাত পরিহার করে দেশ অবশ্যই উন্নতির সোপানে আরোহণ করবে। ওয়াহিদ মুরাদ স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর